খুলনা নগরীতে দায়িত্বপালনকালে এক পুলিশ পরিদর্শকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তৎপর হয়ে উঠেছে খুলনা জেলা পুলিশ প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সদস্যবর্গের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। এই অভিযান চলাকালে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর খানজাহান আলী রোডের খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের ধারালো চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। প্রথমে তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হামলার পর খুলনার জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক জরুরি আদেশে বিশেষ অভিযানসহ সার্বিক ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রাত্রিকালে পুলিশ সদস্যদের একাকী চলাচল থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং ইউনিট ইনচার্জদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন জানান, হামলার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, পুলিশ সদস্যরা যেন নতুন করে এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সেজন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে ঢাকায় শঙ্কামুক্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, “সাধারণ মানুষ ও পুলিশ—সবার নিরাপত্তার বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সচেতন রয়েছে।”