জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আজ বৃহস্পতিবার গ্রিন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় হাওর, উপকূল, বরেন্দ্র ও চরাঞ্চলসহ দেশের ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে জলবায়ু-সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা, সবুজ প্রযুক্তি, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা এবং সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে প্রকল্পটি কাজ করবে।
প্রকল্পের উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২০৩১ মেয়াদে বাস্তবায়িতব্য এ প্রকল্পে মোট ২১ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) ৭ কোটি ডলার দেবে। বাকি অর্থ পিকেএসএফ ও সহযোগী সংস্থাসমূহ যোগান দেবে। এ যৌথ বিনিয়োগ দেশের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং পুষ্টিমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকায় পিকেএসএফ ভবন ১-এ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। প্রকল্পের উপস্থাপনা দেন উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মো. ফজলুল কাদের বলেন, “গ্রিন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পিকেএসএফ কাজ করবে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং, এগ্রো-ইকোলজিক্যাল কৃষি, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে এগ্রো-প্রসেসিং ও প্রাথমিক কৃষি পণ্যের সাথে মূল্য সংযোজন, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যব্যবস্থা, সৌরশক্তির ব্যবহার এবং সার্কুলার ইকোনমির প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হবে।” পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী প্রধান ও প্রতিনিধিরা উপকূলীয় নারীদের জন্য কুটির শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও বাজার-সংযোগ, শিল্পদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, হাওরাঞ্চলে এআইভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কৃষকদের জন্য বীমা ও ঝুঁকি তহবিল গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সুপারিশ করেন।