পুরনো পোশাককে কারুশিল্পের মাধ্যমে নতুন রূপ দিতে চালু হলো ‘বাহ্ এগেইন’। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ স্থানীয় দক্ষ কারিগর ও শিল্পীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্য নিয়ে কাজ করা ব্র্যান্ড বাহ্।
গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাহ্ টেকসই নকশা ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ নিয়ে কাজ করছে। পাট, সিগ্রাস ও বিভিন্ন আপসাইকেলড উপকরণ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করে আসছে আধুনিক লাইফস্টাইলের নানা পণ্য। বাহ্ এগেইনের মাধ্যমে সেই টেকসই ভাবনাকেই এবার পোশাকের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাহ্ এগেইনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হবে বাহ্ এগেইন কালেকশন ডে। সে দিন ওই সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের অব্যবহৃত পোশাক জমা দিতে পারবেন। পুরনো জিনস, ছোট হয়ে যাওয়া শিশুদের পোশাক কিংবা দীর্ঘদিন আলমারিতে পড়ে থাকা সুতি কাপড় কিন্তু ব্যবহারযোগ্য; এমন সব পোশাক এই উদ্যোগে সংগ্রহ করা হবে।
সংগৃহীত পোশাক বাছাই করে নতুন পণ্য তৈরির উপযোগী কাপড় আলাদা করবে বাহ্। এরপর নারী কারিগর, প্রাক্তন গার্মেন্টস কর্মী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বিভিন্ন কারিগরের হাতে সেগুলো নতুন পণ্যে রূপ নেবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, ক্লাব, দূতাবাস, শিল্পগোষ্ঠী, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে বাহ্।
এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করতে ২৫ শতাংশ বাহ্ এগেইন রিওয়ার্ড ভাউচারের পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক বাহ্ এগেইন সাসটেইনেবিলিটি পার্টনারকে যুক্ত করছে বাহ্। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পিউরো, আসুস বাংলাদেশ, বেঙ্গল মিট, জাইস ভিশন সেন্টার বাই অপসিস, স্বধা, ট্যাপআউট ফিটনেস ঢাকা, তার্কা ও ইয়নবাজারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
বাহ্-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মিরাজুল হক বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আট লাখ ৮০ হাজার টন পোশাক ফেলে দেওয়া হয়, যা বছরের পর বছর জমে থেকে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই উদ্যোগ শুধু বর্জ্য কমাতেই সহায়তা করবে না, প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুযোগ সীমিত- এমন দক্ষ কারিগরদের জন্য অর্থবহ ও নিয়মিত কাজের সুযোগও তৈরি করবে।”