
নোবেল শান্তি পুরস্কার বর্তমান বিশ্বে একটি ‘প্যারাডক্স’ বা স্ববিরোধী ধারণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমার থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা পর্যন্ত–প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, পুরস্কারটি শান্তির দূত হওয়ার পরিবর্তে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার বারুদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপের যে চিত্র বিশ্ব দেখেছিল, ২০২৬ সালে এসে ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে। গত শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করেছে মার্কিন স্পেশাল ফো

বর্তমানে তুরস্ক আবারও দক্ষিণ এশিয়ায় শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, যা মূলত তাদের ‘নব্য-অটোমান’ পররাষ্ট্রনীতির অংশ। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান অটোমান এবং মুঘল সাম্রাজ্যের পতনকে একটি ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখেন, যা সংশোধন করা প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞ এবং লন্ডনভিত্তিক লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার বলেন, ‘‘নির্বাচন নিরাপদে সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে এই অস্থিরতা প্রশ্ন তুলেছে। সহিংস ঘটনা ও বিক্ষোভ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটেছে এবং তা কেবল একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ ছিল না।”

এই নতুন ব্যবস্থায় সামরিক শক্তি বা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতা থাকলেই কেউ এসে পায়ে পড়বে না। বরং, প্রযুক্তি যখন ছড়িয়ে পড়ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলো যখন নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় তুলে ধরছে, তখন ক্ষমতা আর ফলাফল চাপিয়ে দেওয়ার মধ্যে নেই।

বুধবারের সেই হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে শুরু করে। তাজিক সরকার হামলাকারীদের প্রতিবেশী দেশের অপরাধী দল হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি রাশিয়ার নিজেদের ব্যাপার। কিন্তু এর লক্ষ্য শুধুই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়। এটি একটি সুচিন্তিত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে মস্কো এক ঢিলে তিন পাখি মারতে চাইছে।