মাসুদ মোভাহেদ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব বিজয় এনে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী অঙ্গরাজ্যের তরুণ আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন–তাকে হারিয়ে মামদানি ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া তিনি শহরের প্রথম মুসলিম অভিবাসী মেয়র ও শত বছরে সবচেয়ে কমবয়সী নেতা। তার এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে–বিশেষ করে সেই প্রগতিশীল তরুণদের মাঝে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনীতিতে হতাশ ছিল।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন প্রচারে মামদানি হাত বাড়িয়েছেন আফ্রিকান-আমেরিকান, মুসলিম, ইহুদি, হিন্দু, পূর্ব আফ্রিকান ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে। বিশেষ করে সেই তরুণদের দিকে যারা ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্বল পারফরম্যান্সে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। মামদানি তাদের আবার সক্রিয় করেছেন, ফিরিয়ে এনেছেন ভোটের রাজনীতিতে।
জোহরান মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকার: ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ, সবার জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা, দ্রুত ও বিনামূল্যের বাস ব্যবস্থা চালু করা এবং ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সার্বজনীন ও বিনামূল্যের সেবা-যত্ন–শহরজুড়ে বৈপ্লবিক এক ভাষ্য তৈরি করেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর সমাজতান্ত্রিক সংগঠক ইউজিন ডেবসের পর এমন সমতা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভাষ্য আমেরিকান মূলধারায় খুব কমই দেখা গেছে।
টেলিভিশনে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ বলতে কী বোঝায়–জিজ্ঞাসা করা হলে মামদানি উত্তরে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কথা উদ্ধৃত করেন। সেটা অনেককেই চমকে দিয়েছে। “কিং বলেছিলেন–এটি গণতন্ত্র বলুন বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র, ঈশ্বরের সন্তানেরা যাতে সঠিকভাবে সম্পদের ভাগ পায়, সেই ব্যবস্থাই মূল লক্ষ্য।”
কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? বহু মানুষের কাছে ‘সমাজতন্ত্র’ মানেই সোভিয়েত যুগের সেই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অদক্ষ, কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি–যেখানে সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা ও মানবিক বিকাশের জায়গা ছিল খুবই কম। অথচ সোভিয়েত ব্যবস্থা সমাজতন্ত্র ছিল না–বরং সত্যিকার অর্থেই ছিল ‘রাষ্ট্রবাদ’–যেখানে অর্থনীতির সব নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক ক্ষমতাবান আমলাদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
কার্ল মার্কসের ব্যাখ্যায় সমাজতন্ত্র দাঁড়ায় দুটি মূলনীতির ওপর:
১) শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা–যাতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে মতামত দিতে পারে।
২) কাজের সময় কমিয়ে মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ বাড়ানো–যা পুঁজিবাদ আজও দিতে ব্যর্থ।
কিন্তু ১৯ ও ২০ শতকের সমাজতান্ত্রিক পরীক্ষাগুলো এসব মানবিক নীতির ধারেকাছেও ছিল না। সোভিয়েত রাষ্ট্রতন্ত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল দুর্নীতিগ্রস্ত, জনবিচ্ছিন্ন ও দমনের যন্ত্রে। ফলে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি পরিণত হয়েছে ব্যর্থতার প্রতীকে, যদিও তার মূল দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দিকে।
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র আসলে এই ধারণাকেই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা–অর্থনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা। এখানে বাজারব্যবস্থা থাকে, তবে উৎপাদন ও সম্পদের মালিকানা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়। এর লক্ষ্য বাজার বিলোপ নয়, বরং বাজারকে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনা–যাতে অর্থনীতির ফলাফল প্রতিফলিত হয় সমাজের যৌথ মূল্যবোধে, কেবল ধনী গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।
পুঁজিবাদ প্রবৃদ্ধি আনলেও তা মানুষের বিশাল এক অংশকে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও অসমতার মধ্যে ফেলে রাখে। ‘পছন্দের স্বাধীনতা’, যা পুঁজিবাদ গর্বের সঙ্গে প্রচার করে–বাস্তবে এক সীমিত স্বাধীনতা মাত্র। প্রকৃত স্বাধীনতা–যা মানুষের জীবনচয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। তা পুঁজিবাদের বৈষম্যপূর্ণ সমাজ কাঠামোতে সবার নাগালে থাকে না।
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র তাই সমতার পাশাপাশি প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। মামদানির নীতি–ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, বিনামূল্যের বাস, সার্বজনীন শিশুযত্ন–এসব মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করার উপায়। যখন আয়ের বেশির ভাগটাই ভাড়ায় চলে যায়, তখন স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। বাসস্থানের নিশ্চয়তা মানুষকে মর্যাদা দেয়, ভবিষ্যৎ ভাবতে সাহায্য করে। বিনামূল্যের বাসব্যবস্থা শহরজুড়ে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ায়। আর শিশুযত্নকে সামাজিক দায়িত্বে পরিণত করলে নারীরা বিশেষভাবে মুক্তি পায়–কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও জনজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
এই নীতিগুলো স্বাধীনতাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে, যাতে ধনীদের সীমাহীন সম্পদ সঞ্চয়ের স্বাধীনতা নয়, বরং থাকে সবার নিরাপত্তা, সুযোগ ও মর্যাদার স্বাধীনতা।
আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে নর্ডিক দেশগুলো যেমন: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড–গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শের সবচেয়ে কাছে রয়েছে। সেখানে শ্রমজীবী মানুষের শক্ত ভূমিকাই সামাজিক নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানেও সম্পদের বৈষম্য রয়ে গেছে, যা দেখায় যে প্রকৃত রূপান্তরের পথ এখনো অসম্পূর্ণ।
জোহরান মামদানির বিজয় তাই নতুন দিগন্তের আশা দেখায়। কঠোর ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের মাঝেও তার জয় প্রমাণ করে–মানুষ এখনো ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার রাজনীতিকে মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন কাজ–প্রতিশ্রুতিকে নীতিতে রূপান্তর, আশাকে বাস্তব পরিবর্তনে পরিণত করা।
মানুষ রায় দিয়েছে। এবার কাজ শুরু করার সময়।
**আল জাজিরায় প্রকাশিত লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।**
মাসুদ মোভাহেদ: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারা।

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব বিজয় এনে দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী অঙ্গরাজ্যের তরুণ আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানি। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জোরালো সমর্থন পেয়েছিলেন–তাকে হারিয়ে মামদানি ইতিহাস গড়েছেন। এছাড়া তিনি শহরের প্রথম মুসলিম অভিবাসী মেয়র ও শত বছরে সবচেয়ে কমবয়সী নেতা। তার এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে–বিশেষ করে সেই প্রগতিশীল তরুণদের মাঝে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রাজনীতিতে হতাশ ছিল।
শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন প্রচারে মামদানি হাত বাড়িয়েছেন আফ্রিকান-আমেরিকান, মুসলিম, ইহুদি, হিন্দু, পূর্ব আফ্রিকান ও দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের দিকে। বিশেষ করে সেই তরুণদের দিকে যারা ডেমোক্রেটিক পার্টির দুর্বল পারফরম্যান্সে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। মামদানি তাদের আবার সক্রিয় করেছেন, ফিরিয়ে এনেছেন ভোটের রাজনীতিতে।
জোহরান মামদানির নির্বাচনী অঙ্গীকার: ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ, সবার জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান নিশ্চিত করা, দ্রুত ও বিনামূল্যের বাস ব্যবস্থা চালু করা এবং ছয় সপ্তাহ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সার্বজনীন ও বিনামূল্যের সেবা-যত্ন–শহরজুড়ে বৈপ্লবিক এক ভাষ্য তৈরি করেছে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর সমাজতান্ত্রিক সংগঠক ইউজিন ডেবসের পর এমন সমতা-কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভাষ্য আমেরিকান মূলধারায় খুব কমই দেখা গেছে।
টেলিভিশনে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’ বলতে কী বোঝায়–জিজ্ঞাসা করা হলে মামদানি উত্তরে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের কথা উদ্ধৃত করেন। সেটা অনেককেই চমকে দিয়েছে। “কিং বলেছিলেন–এটি গণতন্ত্র বলুন বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র, ঈশ্বরের সন্তানেরা যাতে সঠিকভাবে সম্পদের ভাগ পায়, সেই ব্যবস্থাই মূল লক্ষ্য।”
কিন্তু বাস্তবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? বহু মানুষের কাছে ‘সমাজতন্ত্র’ মানেই সোভিয়েত যুগের সেই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অদক্ষ, কেন্দ্রীভূত অর্থনীতি–যেখানে সৃজনশীলতা, স্বাধীনতা ও মানবিক বিকাশের জায়গা ছিল খুবই কম। অথচ সোভিয়েত ব্যবস্থা সমাজতন্ত্র ছিল না–বরং সত্যিকার অর্থেই ছিল ‘রাষ্ট্রবাদ’–যেখানে অর্থনীতির সব নিয়ন্ত্রণ গুটিকয়েক ক্ষমতাবান আমলাদের হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
কার্ল মার্কসের ব্যাখ্যায় সমাজতন্ত্র দাঁড়ায় দুটি মূলনীতির ওপর:
১) শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা–যাতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ সম্পদ বণ্টনের বিষয়ে মতামত দিতে পারে।
২) কাজের সময় কমিয়ে মানুষের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগ বাড়ানো–যা পুঁজিবাদ আজও দিতে ব্যর্থ।
কিন্তু ১৯ ও ২০ শতকের সমাজতান্ত্রিক পরীক্ষাগুলো এসব মানবিক নীতির ধারেকাছেও ছিল না। সোভিয়েত রাষ্ট্রতন্ত্র শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছিল দুর্নীতিগ্রস্ত, জনবিচ্ছিন্ন ও দমনের যন্ত্রে। ফলে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি পরিণত হয়েছে ব্যর্থতার প্রতীকে, যদিও তার মূল দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দিকে।
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র আসলে এই ধারণাকেই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা–অর্থনৈতিক ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে আনা। এখানে বাজারব্যবস্থা থাকে, তবে উৎপাদন ও সম্পদের মালিকানা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়। এর লক্ষ্য বাজার বিলোপ নয়, বরং বাজারকে জনগণের জবাবদিহির আওতায় আনা–যাতে অর্থনীতির ফলাফল প্রতিফলিত হয় সমাজের যৌথ মূল্যবোধে, কেবল ধনী গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়।
পুঁজিবাদ প্রবৃদ্ধি আনলেও তা মানুষের বিশাল এক অংশকে দারিদ্র্য, অনিশ্চয়তা ও অসমতার মধ্যে ফেলে রাখে। ‘পছন্দের স্বাধীনতা’, যা পুঁজিবাদ গর্বের সঙ্গে প্রচার করে–বাস্তবে এক সীমিত স্বাধীনতা মাত্র। প্রকৃত স্বাধীনতা–যা মানুষের জীবনচয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেয়। তা পুঁজিবাদের বৈষম্যপূর্ণ সমাজ কাঠামোতে সবার নাগালে থাকে না।
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র তাই সমতার পাশাপাশি প্রকৃত স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দেয়। মামদানির নীতি–ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, বিনামূল্যের বাস, সার্বজনীন শিশুযত্ন–এসব মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করার উপায়। যখন আয়ের বেশির ভাগটাই ভাড়ায় চলে যায়, তখন স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। বাসস্থানের নিশ্চয়তা মানুষকে মর্যাদা দেয়, ভবিষ্যৎ ভাবতে সাহায্য করে। বিনামূল্যের বাসব্যবস্থা শহরজুড়ে মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা বাড়ায়। আর শিশুযত্নকে সামাজিক দায়িত্বে পরিণত করলে নারীরা বিশেষভাবে মুক্তি পায়–কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও জনজীবনে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
এই নীতিগুলো স্বাধীনতাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করে, যাতে ধনীদের সীমাহীন সম্পদ সঞ্চয়ের স্বাধীনতা নয়, বরং থাকে সবার নিরাপত্তা, সুযোগ ও মর্যাদার স্বাধীনতা।
আজকের পুঁজিবাদী বিশ্বে নর্ডিক দেশগুলো যেমন: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড–গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শের সবচেয়ে কাছে রয়েছে। সেখানে শ্রমজীবী মানুষের শক্ত ভূমিকাই সামাজিক নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করেছে। তবে সেখানেও সম্পদের বৈষম্য রয়ে গেছে, যা দেখায় যে প্রকৃত রূপান্তরের পথ এখনো অসম্পূর্ণ।
জোহরান মামদানির বিজয় তাই নতুন দিগন্তের আশা দেখায়। কঠোর ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের মাঝেও তার জয় প্রমাণ করে–মানুষ এখনো ন্যায়, সমতা ও মর্যাদার রাজনীতিকে মূল্য দিতে প্রস্তুত। তবে নির্বাচন কেবল শুরু। সামনে আরও কঠিন কাজ–প্রতিশ্রুতিকে নীতিতে রূপান্তর, আশাকে বাস্তব পরিবর্তনে পরিণত করা।
মানুষ রায় দিয়েছে। এবার কাজ শুরু করার সময়।
**আল জাজিরায় প্রকাশিত লেখাটি সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো।**
মাসুদ মোভাহেদ: সহকারী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা বারবারা।