চরচা ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সাধারণত চোখ রাখে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে। এই "বিগ ফোর" দেশগুলো মেধাবী তরুণ-তরুণীদের শুধু আকর্ষণই করত না, বরং প্রচুর অর্থও উপার্জন করত। তবে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় দেশগুলো এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২০ সালে যা ছিল প্রায় ৪০%, সেটি এখন কমে ৩৫%–এ দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী এশীয় শিক্ষার্থীরা এখন ঘরের কাছের গন্তব্যগুলোতেই বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকাতে ভিসা ও অভিবাসন আইনে এখন অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা পশ্চিমা দেশ এড়িয়ে অন্য গন্তব্য খোঁজার চেষ্টা করছে। ইকনোমিস্টের প্রতিবেদনে একজন শিক্ষার্থী ইয়াং–এর কথা বলা হয়। তিনি ২০২২ সালে করনেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাশ করেন। পিএইচডি’র জন্য আমেরিকাকে এড়িয়ে সিঙ্গাপুরকে বেছে নেন তিনি। তার মতে, সিঙ্গাপুরে তাকে "নিয়মিত কাগজপত্র নিয়ে চিন্তা করতে হয় না" এবং তিনি চীনের হুবেইতে থাকা পরিবারেরও কাছাকাছি থাকতে পারছেন।
অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাইমন মার্গিনসন বলেন, পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমাগত উপরে উঠছে। ফলে এখানকার ডিগ্রিগুলোর মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এশিয়ার অনেক দেশে পড়াশোনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একজন শিক্ষা পরামর্শক এ বিষয়ে ইকনোমিস্ট’কে বলেন, একসময় তার কাছে কেবল 'বিগ ফোর' ঘরানার দেশ নিয়েই জিজ্ঞাসা আসত, কিন্তু এখন তিনি জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে বেশি প্রশ্ন পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনেক এশীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপলব্ধি করেছেন যে, বাড়ির কাছাকাছি থাকাটা বেশি ভালো। অভিভাবকেরা পশ্চিমা দেশগুলোকে অনিরাপদ ও অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করছেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে এশীয় শিক্ষার্থীদের পরিমাণ প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহকে এশিয়ার দেশগুলো একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। জন্মহার কমে যাওয়ায় অনেক দেশে, যেমন: জাপানে শ্রম ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। হিতোৎসুবাশি ইউনিভার্সিটির হিরোশি ওটা বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই শ্রম ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান ২০২৩ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাপান ২০২৩ সালে তার আগের বছরের তুলনায় ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ার সুযোগ দিয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশটি এই সংখ্যা ৪ লাখে নিয়ে যেতে চায়। এই দেশগুলো এখন আরও বেশি ইংরেজি ভাষার কোর্স চালু করছে।
অবশ্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ভাষা একটি বড় বাধা। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার পর স্থানীয় চাকরি পেতে চায়। জাপানে অভিবাসন নিয়ে জনমনে উদ্বেগও বাড়ছে, যেমন চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কট্টর-ডানপন্থী দল সানসেইতো আপত্তি প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে চীনা শিক্ষার্থীরাই এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিদেশী হিসেবে পড়ছে। অন্যদিকে, ক্যুয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস নামে একটি গবেষণা সংস্থার অনুমান, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানের ৭০ লাখ থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮৫ লাখে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ধীরে হলেও পশ্চিম থেকে সরে এসে পূর্বমুখী হচ্ছে। এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের ভিড় বাড়ছে। সেটি পশ্চিমা দেশগুলোকে আদৌ পেছনে ফেলতে পারবে কিনা, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।

বিশ্বজুড়ে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীরা সাধারণত চোখ রাখে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ও কানাডার মতো পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে। এই "বিগ ফোর" দেশগুলো মেধাবী তরুণ-তরুণীদের শুধু আকর্ষণই করত না, বরং প্রচুর অর্থও উপার্জন করত। তবে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পূর্ব এশিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নতুন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি। বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় দেশগুলো এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। ২০২০ সালে যা ছিল প্রায় ৪০%, সেটি এখন কমে ৩৫%–এ দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী এশীয় শিক্ষার্থীরা এখন ঘরের কাছের গন্তব্যগুলোতেই বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকাতে ভিসা ও অভিবাসন আইনে এখন অনেক বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা পশ্চিমা দেশ এড়িয়ে অন্য গন্তব্য খোঁজার চেষ্টা করছে। ইকনোমিস্টের প্রতিবেদনে একজন শিক্ষার্থী ইয়াং–এর কথা বলা হয়। তিনি ২০২২ সালে করনেল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাশ করেন। পিএইচডি’র জন্য আমেরিকাকে এড়িয়ে সিঙ্গাপুরকে বেছে নেন তিনি। তার মতে, সিঙ্গাপুরে তাকে "নিয়মিত কাগজপত্র নিয়ে চিন্তা করতে হয় না" এবং তিনি চীনের হুবেইতে থাকা পরিবারেরও কাছাকাছি থাকতে পারছেন।
অন্যদিকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাইমন মার্গিনসন বলেন, পূর্ব এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমাগত উপরে উঠছে। ফলে এখানকার ডিগ্রিগুলোর মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এশিয়ার অনেক দেশে পড়াশোনার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একজন শিক্ষা পরামর্শক এ বিষয়ে ইকনোমিস্ট’কে বলেন, একসময় তার কাছে কেবল 'বিগ ফোর' ঘরানার দেশ নিয়েই জিজ্ঞাসা আসত, কিন্তু এখন তিনি জাপান, তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে বেশি প্রশ্ন পাচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনেক এশীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপলব্ধি করেছেন যে, বাড়ির কাছাকাছি থাকাটা বেশি ভালো। অভিভাবকেরা পশ্চিমা দেশগুলোকে অনিরাপদ ও অপ্রত্যাশিত বলেও মনে করছেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পূর্ব এশিয়ার জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোতে এশীয় শিক্ষার্থীদের পরিমাণ প্রায় ৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহকে এশিয়ার দেশগুলো একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। জন্মহার কমে যাওয়ায় অনেক দেশে, যেমন: জাপানে শ্রম ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। হিতোৎসুবাশি ইউনিভার্সিটির হিরোশি ওটা বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই শ্রম ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান ২০২৩ সালে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের জন্য নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাপান ২০২৩ সালে তার আগের বছরের তুলনায় ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ার সুযোগ দিয়েছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে দেশটি এই সংখ্যা ৪ লাখে নিয়ে যেতে চায়। এই দেশগুলো এখন আরও বেশি ইংরেজি ভাষার কোর্স চালু করছে।
অবশ্য চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ভাষা একটি বড় বাধা। বিশেষ করে যারা পড়াশোনার পর স্থানীয় চাকরি পেতে চায়। জাপানে অভিবাসন নিয়ে জনমনে উদ্বেগও বাড়ছে, যেমন চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কট্টর-ডানপন্থী দল সানসেইতো আপত্তি প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে চীনা শিক্ষার্থীরাই এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিদেশী হিসেবে পড়ছে। অন্যদিকে, ক্যুয়াককোয়ারেলি সাইমন্ডস নামে একটি গবেষণা সংস্থার অনুমান, বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানের ৭০ লাখ থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮৫ লাখে পৌঁছাতে পারে।
সব মিলিয়ে বোঝাই যাচ্ছে যে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ধীরে হলেও পশ্চিম থেকে সরে এসে পূর্বমুখী হচ্ছে। এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের ভিড় বাড়ছে। সেটি পশ্চিমা দেশগুলোকে আদৌ পেছনে ফেলতে পারবে কিনা, তা অবশ্য সময়ই বলে দেবে।