বিলাসী ব্র্যান্ড এলভিএমএইচ-এর প্রধান আর্নল্ট সাধারণত জাতীয় কোনো ইস্যুতে মুখ খোলেন না। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করনীতি ফ্রান্সের ‘অর্থনীতিকে ধ্বংস’ করে ফেলবে।
চরচা ডেস্ক

ফ্রান্স হয়তো সারা পৃথিবীতে বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ ও দামী পুরোনো শ্যাম্পেন সরবরাহ করে। কিন্তু এসব বিলাসিতার জন্য যারা অর্থ খরচ করতে পারে, তাদের জন্য দেশটির সরকার সদয় নয় বলেই মনে হয়।
বাজেট ঘাটতি কমাতে ফ্রান্স যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন দেশটির ‘অতি ধনীদের’ ওপর প্রস্তাবিত কর নিয়ে নতুন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বার্নার্ড আর্নল্টও মুখ খুলেছেন। বিলাসী ব্র্যান্ড এলভিএমএইচ-এর প্রধান আর্নল্ট সাধারণত জাতীয় কোনো ইস্যুতে মুখ খোলেন না। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করনীতি ফ্রান্সের ‘অর্থনীতিকে ধ্বংস’ করে ফেলবে।
দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই বিতর্কের শুরু অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকমান। তার এক প্রস্তাবে তিনি ১০ কোটি ইউরোর (১১৭ মিলিয়ন ডলার) বেশি সম্পদের ওপর প্রতি বছর ২ শতাংশ হারে করারোপের কথা বলেছেন। এই কর আরোপ হলে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ১৮০০ পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ২০১৮ সালে সম্পদ করটি বাতিল করেছিলেন। জুকমানের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কর বছরে ১৫ থেকে ২৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত রাজস্ব আনতে পারে। বার্নার্ড আর্নল্ট জুকমানকে ‘অতি-বামপন্থী কর্মী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
নতুন এই কর এরইমধ্যে ‘জুকমান ট্যাক্স’ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। বামপন্থীদের অনেকে দাবি করেছেন, আগামী বছরের বাজেট অনুমোদনের শর্ত হিসেবে এই কর প্রবর্তন করা হোক। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু নতুন বাজে নিয়ে এখন বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন যাতে সমাজতন্ত্রী ও অন্যদের সঙ্গে একধরনের ‘চুক্তি’ করা যায়।
ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, ফ্রান্সের কর ও কল্যাণ ব্যবস্থা আয়-বৈষম্য দূর করতে যথেষ্ট কার্যকর। দেশের মোট কর আদায় জিডিপির ৪৬ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও ফ্রান্সে অতি ধনীদের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে।
নতুন করনীতি ফ্রান্সের ‘অর্থনীতিকে ধ্বংস’ করে ফেলবে।
জুকমানের হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ০.০১ শতাংশ পরিবার কম কর দেয়। কর এড়ানোর নানা পদ্ধতি তারা ব্যবহার করে এই পরিবারগুলো। গড় কার্যকর করহার ফ্রান্সে ৫০ শতাংশ, অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সর্বাধিক বিলিয়নিয়ার থাকা দেশটির ওই ধনীরা তাদের আয়ের মাত্র ২৭ শতাংশ কর দেন।
বামপন্থীদের কাছে ‘জুকমান ট্যাক্স’-এর আসল আকর্ষণ হলো প্রতীকী বার্তা। মাখোঁ পুরোনো সম্পদ কর তুলে দেওয়ার পর থেকেই তাকে ‘বড় লোকদের প্রেসিডেন্ট’ বলা হয়। যদিও বার্নার্ড আর্নল্ট মে মাসে সিনেটে জানিয়েছেন, তার কোম্পানি এলভিএমএইচ একাই গত বছর ফ্রান্সে প্রায় তিন বিলিয়ন ইউরো কর দিয়েছে।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ ফরাসি নাগরিক এই করের পক্ষে, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশ সমাজতন্ত্রী ভোটার আর ৭৫ শতাংশ দক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের সমর্থক।
ইকোনমিস্ট বলছে, এই কর প্রস্তাবে অনেক দুর্বলতা আছে। প্রথমত, এর ভিত্তি খুবই সংকীর্ণ। মাত্র কয়েকটি পরিবার কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা কেউ জানে না। অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ফাঁকি, কর পলায়ন ও কর অপটিমাইজেশন মিলিয়ে প্রকৃত আদায় নেমে আসবে মাত্র পাঁচ বিলিয়ন ইউরোতে। দ্বিতীয়ত, এটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ইকোনমিস্ট বলছে, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু এক জটিল পথের ওপর হাঁটছেন। বামপন্থীরা চায় এমন কিছু, যাতে তারা মাখোঁর মধ্যপন্থী দলের ওপর রাজনৈতিক জয় দাবি করতে পারে। কিন্তু লেকর্নু আবার ডানদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি নিতে পারেন না। মাখোঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট জানেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল্য হচ্ছে বামদের কিছু ছাড় দেওয়া। কিন্তু সেই ছাড়ের মূল্য হতে পারে তার বহুদিনের পরিশ্রমে তৈরি ‘ব্যবসাবান্ধব ফ্রান্স’-এর ইমেজের সঙ্গে আপস।

রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্সের সম্পদ কর নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনের লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও। তাদের অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর সম্পদ কর বাস্তবায়ন অসম্ভব। তবে বার্ষিক ও স্থায়ী করের পরিবর্তে এককালীন বড় কর ধনীদের ওপর আরোপ করা যেতে পারে।
রয়টার্স আরও বলেছে, শুধু মাত্র একটি সম্পদ কর সরকারের আর্থিক সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারবে না। এটিকে অবশ্যই বাজেট পরিকল্পনার পরিপূরক হিসেবে আসতে হবে, যার মধ্যে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধির উন্নয়নে সংস্কার কাজ থাকবে।
অতি ধনীদের সম্পদের ওপর করারোপ নিয়ে সারা পৃথিবীতেই সরব আলোচনা আছে। আয়-বৈষম্য কমাতে এবং সরকারি আয় বাড়াতে এরকম পদক্ষেপকে মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষজন পছন্দ করে। তবে কোনো একটি দেশের অর্থনীতি যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাদের ওপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারকে অনেক সময় বিপাকে ফেলে। ফ্রান্স সরকার এখানে কোন পথে হাঁটবে তা দেখার অপেক্ষা।

ফ্রান্স হয়তো সারা পৃথিবীতে বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ ও দামী পুরোনো শ্যাম্পেন সরবরাহ করে। কিন্তু এসব বিলাসিতার জন্য যারা অর্থ খরচ করতে পারে, তাদের জন্য দেশটির সরকার সদয় নয় বলেই মনে হয়।
বাজেট ঘাটতি কমাতে ফ্রান্স যখন হিমশিম খাচ্ছে তখন দেশটির ‘অতি ধনীদের’ ওপর প্রস্তাবিত কর নিয়ে নতুন এক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বার্নার্ড আর্নল্টও মুখ খুলেছেন। বিলাসী ব্র্যান্ড এলভিএমএইচ-এর প্রধান আর্নল্ট সাধারণত জাতীয় কোনো ইস্যুতে মুখ খোলেন না। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করনীতি ফ্রান্সের ‘অর্থনীতিকে ধ্বংস’ করে ফেলবে।
দ্য ইকোনমিস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই বিতর্কের শুরু অর্থনীতিবিদ গ্যাব্রিয়েল জুকমান। তার এক প্রস্তাবে তিনি ১০ কোটি ইউরোর (১১৭ মিলিয়ন ডলার) বেশি সম্পদের ওপর প্রতি বছর ২ শতাংশ হারে করারোপের কথা বলেছেন। এই কর আরোপ হলে ফ্রান্সের সবচেয়ে ধনী ১৮০০ পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ২০১৮ সালে সম্পদ করটি বাতিল করেছিলেন। জুকমানের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই কর বছরে ১৫ থেকে ২৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত রাজস্ব আনতে পারে। বার্নার্ড আর্নল্ট জুকমানকে ‘অতি-বামপন্থী কর্মী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
নতুন এই কর এরইমধ্যে ‘জুকমান ট্যাক্স’ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। বামপন্থীদের অনেকে দাবি করেছেন, আগামী বছরের বাজেট অনুমোদনের শর্ত হিসেবে এই কর প্রবর্তন করা হোক। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু নতুন বাজে নিয়ে এখন বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন যাতে সমাজতন্ত্রী ও অন্যদের সঙ্গে একধরনের ‘চুক্তি’ করা যায়।
ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, ফ্রান্সের কর ও কল্যাণ ব্যবস্থা আয়-বৈষম্য দূর করতে যথেষ্ট কার্যকর। দেশের মোট কর আদায় জিডিপির ৪৬ শতাংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবুও ফ্রান্সে অতি ধনীদের সম্পদ দ্রুত বেড়েছে।
নতুন করনীতি ফ্রান্সের ‘অর্থনীতিকে ধ্বংস’ করে ফেলবে।
জুকমানের হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষ ০.০১ শতাংশ পরিবার কম কর দেয়। কর এড়ানোর নানা পদ্ধতি তারা ব্যবহার করে এই পরিবারগুলো। গড় কার্যকর করহার ফ্রান্সে ৫০ শতাংশ, অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নে সর্বাধিক বিলিয়নিয়ার থাকা দেশটির ওই ধনীরা তাদের আয়ের মাত্র ২৭ শতাংশ কর দেন।
বামপন্থীদের কাছে ‘জুকমান ট্যাক্স’-এর আসল আকর্ষণ হলো প্রতীকী বার্তা। মাখোঁ পুরোনো সম্পদ কর তুলে দেওয়ার পর থেকেই তাকে ‘বড় লোকদের প্রেসিডেন্ট’ বলা হয়। যদিও বার্নার্ড আর্নল্ট মে মাসে সিনেটে জানিয়েছেন, তার কোম্পানি এলভিএমএইচ একাই গত বছর ফ্রান্সে প্রায় তিন বিলিয়ন ইউরো কর দিয়েছে।

সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ ফরাসি নাগরিক এই করের পক্ষে, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশ সমাজতন্ত্রী ভোটার আর ৭৫ শতাংশ দক্ষিণপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের সমর্থক।
ইকোনমিস্ট বলছে, এই কর প্রস্তাবে অনেক দুর্বলতা আছে। প্রথমত, এর ভিত্তি খুবই সংকীর্ণ। মাত্র কয়েকটি পরিবার কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা কেউ জানে না। অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের মতে, কর ফাঁকি, কর পলায়ন ও কর অপটিমাইজেশন মিলিয়ে প্রকৃত আদায় নেমে আসবে মাত্র পাঁচ বিলিয়ন ইউরোতে। দ্বিতীয়ত, এটি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ইকোনমিস্ট বলছে, প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু এক জটিল পথের ওপর হাঁটছেন। বামপন্থীরা চায় এমন কিছু, যাতে তারা মাখোঁর মধ্যপন্থী দলের ওপর রাজনৈতিক জয় দাবি করতে পারে। কিন্তু লেকর্নু আবার ডানদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি নিতে পারেন না। মাখোঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, প্রেসিডেন্ট জানেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল্য হচ্ছে বামদের কিছু ছাড় দেওয়া। কিন্তু সেই ছাড়ের মূল্য হতে পারে তার বহুদিনের পরিশ্রমে তৈরি ‘ব্যবসাবান্ধব ফ্রান্স’-এর ইমেজের সঙ্গে আপস।

রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্সের সম্পদ কর নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনের লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও। তাদের অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া কার্যকর সম্পদ কর বাস্তবায়ন অসম্ভব। তবে বার্ষিক ও স্থায়ী করের পরিবর্তে এককালীন বড় কর ধনীদের ওপর আরোপ করা যেতে পারে।
রয়টার্স আরও বলেছে, শুধু মাত্র একটি সম্পদ কর সরকারের আর্থিক সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারবে না। এটিকে অবশ্যই বাজেট পরিকল্পনার পরিপূরক হিসেবে আসতে হবে, যার মধ্যে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবৃদ্ধির উন্নয়নে সংস্কার কাজ থাকবে।
অতি ধনীদের সম্পদের ওপর করারোপ নিয়ে সারা পৃথিবীতেই সরব আলোচনা আছে। আয়-বৈষম্য কমাতে এবং সরকারি আয় বাড়াতে এরকম পদক্ষেপকে মধ্য ও নিম্নবিত্তের মানুষজন পছন্দ করে। তবে কোনো একটি দেশের অর্থনীতি যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে তাদের ওপর কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারকে অনেক সময় বিপাকে ফেলে। ফ্রান্স সরকার এখানে কোন পথে হাঁটবে তা দেখার অপেক্ষা।