আমেরিকাকে টেক্কা দিতে চীনের নতুন রণতরী ‘ফুজিয়ান’

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আমেরিকাকে টেক্কা দিতে চীনের নতুন রণতরী ‘ফুজিয়ান’
চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সবচেয়ে উন্নত বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক পরিষেবাতে প্রবেশ করেছে। ছবি: রয়টার্স

চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে গত ৫ নভেম্বর। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সবচেয়ে উন্নত বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক পরিষেবাতে প্রবেশ করেছে। এই রণতরীটি চীনের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ যুদ্ধ ক্ষমতা অর্জনের আগে ফুজিয়ানকে আরও তিনটি মূল ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে বিমানবাহী রণতরীভিত্তিক বিমান দিয়ে একে সাজাতে হবে।

এরপর মোতায়েন করতে হবে একটি প্রহরী নৌবহর। আর শেষ ধাপ, দীর্ঘ পাল্লার প্রশিক্ষণ পরিচালনা।

চীনা সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং শুয়েফেং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “একটি বিমানবাহী রণতরীর যুদ্ধ ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হলো এর বিমানগুলো। যুদ্ধ ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রথমে এতে পূর্ণ সংখ্যক বিমান থাকতে হবে। বর্তমানে, আমাদের কিছু ফাইটার জেট এবং ফিক্সড-উইং এয়ারবর্ন আর্লি ওয়ার্নিং বিমান ফুজিয়ানে ওঠানামা করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তী ধাপে এর সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।’’

বিশেষজ্ঞ ঝাং শুয়েফেং আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে, বিমান সম্পূর্ণ হওয়ার পর, ফুজিয়ানকে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক এবং প্রহরী নৌবহর দিয়ে সজ্জিত করা প্রয়োজন।

ঝাং শুয়েফেং বলেন, “বিমান সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত করার পর বিমানবাহী রণতরীটিকে একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক এবং প্রহরী নৌবহর দিয়ে সজ্জিত করতে হবে। ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত হওয়ার পর, আমাদের কমান্ডার এবং সৈন্যরা যাতে উচ্চ স্তরের যুদ্ধ ক্ষমতায় পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে উচ্চ-তীব্রতা সম্পন্ন দীর্ঘ পাল্লার প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে।”

২০২২ সালের জুনে চালু হওয়া ‘ফুজিয়ান’ চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরী, যা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট দিয়ে সজ্জিত। বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতের চীনা বিমানবাহী রণতরী নিয়েও তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।

আরেক সামরিক বিশেষজ্ঞ ঝাং জুনশে বলছেন, “আজকের বিমানবাহী রণতরীর সর্বোচ্চ স্তর হলো পারমাণবিক শক্তি চালিত এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট দিয়ে সজ্জিত। তাই আমি মনে করি পরবর্তী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে পারমাণবিক শক্তি চালিত বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা। ভবিষ্যতের নকশায় সম্ভবত আরও বড় জাহাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’’

ফুজিয়ানের এই যাত্রা চীনের নৌ-শক্তির জন্য একটি বিশাল পদক্ষেপ। এটি কবে নাগাদ সম্পূর্ণ যুদ্ধ সক্ষমতা অর্জন করে আন্তর্জাতিক সমুদ্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সম্পর্কিত