
বাটন ফোন ছাড়তে প্রস্তুত দেশের ৭ কোটি মানুষ?
এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চরচা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১ কোটি ৭০ লাখ শিশু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে, যাদের দৈনিক গড় ব্যবহারের সময় প্রায় ৩০ মিনিট। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ২০ বছর বয়সী তরুণী কেলির ক্ষেত্রে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার শুরু করা কেলি দ্রুতই এতে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং দিনে কয়েক ঘণ্টা এই অ্যাপগুলোতে ব্যয় করতে থাকেন। কেলির দাবি অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের অতিরিক্ত ব্যবহার তার মধ্যে ‘বডি ডিসমরফিয়া’ (শারীরিক গঠন নিয়ে হীনম্মন্যতা) এবং আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করেছিল। গত ২৫ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় এবং কেলিকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬০ লাখ ডলার প্রদানের জন্য মেটা ও গুগলকে নির্দেশ দেয়।
ফেসবুক বা গুগলের মতো বিশাল কোম্পানির কাছে এই অর্থের পরিমাণ তাদের বার্ষিক আয়ের তুলনায় নগণ্য। কিন্তু এই মামলার আসল গুরুত্ব টাকার অঙ্কে নয়, বরং আইনি যুক্তিতে। কেলির আইনজীবীরা আদালতে এমন এক নতুন কৌশলে যুক্তি দেখিয়েছেন, যা আগে কেউ করেনি। এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে কঠোর নিয়ম মানতে বাধ্য করা যেতে পারে। কোম্পানি দুটি অবশ্য এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার বৈশ্বিক নিয়মকানুন চিরতরে বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
মেটা-র মালিক মার্ক জাকারবার্গ এই প্রথমবার জুরির সামনে এলেন ঠিকই, তবে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা এটাই প্রথম নয়। ২০২৩ সালে টুইটারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একটি মামলা আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল, যেখানে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিগুলোই জয়ী হয়। এর প্রধান কারণ ছিল ১৯৯৬ সালের একটি পুরনো আইন—‘সেকশন ২৩০’। এই আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় যা পোস্ট করবেন, তার জন্য ওই কোম্পানিকে দায়ী করা যাবে না।
আসক্তিমূলক ফিচারের নেপথ্যে গোপন নথি
কেলির আইনজীবীরা মামলাটি লড়েছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। তারা ফেসবুক বা গুগলকে স্রেফ ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য দোষ দেননি; বরং তারা প্রমাণ করেছেন যে, এই অ্যাপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে শিশুরা নেশার মতো এতে পড়ে থাকে। তারা আদালতের কাছে কোম্পানির ভেতরের কিছু গোপন নথি উপস্থাপন করেন, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে এই অ্যাপগুলো শিশুদের ক্ষতি করতে পারে—তা প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারকরা আগে থেকেই জানতেন। বিশেষ করে ‘অটো প্লে’ (ভিডিও নিজে নিজে চালু হওয়া), অ্যালগরিদমের মাধ্যমে পছন্দের জিনিস বারবার সামনে আনা এবং ‘ইনফিনাইট ফিড’ (স্ক্রল করতে করতে শেষ না হওয়া)—এই ফিচারগুলো ইচ্ছা করেই যুক্ত করা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা ফোন ছাড়তে না পারে।
এই একটি মামলার রায়ের কারণে মেটা এবং গুগলের বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা আরও হাজার হাজার মামলার ভাগ্য বদলে যেতে পারে। কেলির এই লড়াইয়ে শুরুতে টিকটক এবং স্ন্যাপ-ও বিবাদী ছিল, কিন্তু বিচার শুরু হওয়ার আগেই তারা মোটা অংকের অর্থ দিয়ে বিষয়টি মিটমাট করে নেয়। অনেক নামী আইনজীবী বলছেন, এই ঘটনাটি কয়েক দশক আগে তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে হওয়া ঐতিহাসিক মামলার মতো। সেই সময়ে আইনি চাপের মুখে পড়েই সিগারেট কোম্পানিগুলো কঠোর নিয়ম মানতে বাধ্য হয়েছিল। এখন সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বেলাতেও তেমনটা ঘটার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর ওপর এই কঠোর নজরদারি শুধু আমেরিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপীয় কমিশনের একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে যে, আসক্তিমূলক ফিচারের কারণে টিকটক তাদের ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছে। টিকটককে তাদের অ্যাপের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় এর চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স-কে বৈশ্বিক আয়ের ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ফিচার নিয়ন্ত্রণ করা হলে ব্যবহারকারীদের অ্যাপে কাটানো সময় কমে যাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিজ্ঞাপনের সংখ্যা এবং কোম্পানির মুনাফার ওপর।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ব্রিটেন থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত আরও অনেক দেশ এখন একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে। গত বছর গবেষণা সংস্থা ইপসস ৩০টি দেশে একটি জরিপ চালিয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, প্রতিটি দেশেই অধিকাংশ মানুষ ১৪ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত দিয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার এই সাম্প্রতিক রায়টি খুব দ্রুতই বিশ্বজুড়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে।

এক হাতে বাটন ফোন, অন্য হাতে স্মার্টফোন। মোবাইল যোগাযোগের দুই ভিন্ন যুগের প্রতীক এই দুই ডিভাইস। বাংলাদেশ এখন বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিকে যদি আবার কার্যকর করতে হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোকে কেবল ক্ষমতা ভাগাভাগি বা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমীকরণে আটকে থাকলে চলবে না।

চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়। ‘মক্কা চুক্তি’ নামের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে বলে জানিয়েছেন সরকারের একজন মন্ত্রী। এই পদক্ষেপটি বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারতের সাথে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কে জটিলতা

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ এবার নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সামরিক অভিযান ও কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সামনে এনেছে। তবে এবারের কৌশল আগের চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। লক্ষ্য শুধু ইরান নয়; ত