রয়টার্সের বিশ্লেষণ
চরচা ডেস্ক

ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করতে শনিবার সব এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির ওপর চাপ তৈরি করতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জামও মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে ২০টির বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এসব নৌযান ভেনেজুয়েলার বলেও দাবি করা হচ্ছে।
নৌযানে হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করার ইঙ্গিতও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে মাদুরোর ওয়াশিংটন সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে শনিবারের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মাদুরো সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমেরিকা হামলা চালালেও তারা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
কিন্তু ভেনেজুয়েলা কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বা আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত? তাদের সামরিক সক্ষমতাই বা কতটুকু? এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা।
ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা কতটুকু?
ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানে এমন ছয়টি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, কম বেতন ও অকেজো হতে চলা সরঞ্জামের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরো সামরিক কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্বে বসিয়ে তাদের আনুগত্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু নিম্নপদস্থ বা সাধারণ সেনারা স্থানীয় মুদ্রায় মাসে মাত্র ১০০ ডলারের সমপরিমাণ বেতন পান। এই অর্থ একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাঁচভাগের মাত্র এক ভাগ।
সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনীর যেসব ইউনিট থেকে ইতোমধ্যেই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, আমেরিকা হামলা চালালে তা আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলার সেনারা কেবল রাস্তায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদেরই প্রতিহত করার কাজ করে আসছিল।
মাদুরো দাবি করেছেন, ৮০ লাখ বেসামরিক নাগরিক মিলিশিয়া (আধা-সামরিক বাহিনী) প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে একটি সূত্রের মতে, হামলা হলে প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে পারে কেবল হাজারখানেক গোয়েন্দা সদস্য, শাসকদল-সমর্থিত সশস্ত্র কর্মী এবং অল্পসংখ্যক মিলিশিয়া সদস্য।
ভেনেজুয়েলার সামরিক সরঞ্জামগুলোর বড় অংশই রাশিয়া থেকে আমদানি করা এবং সেগুলো বহু দশক পুরনো।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রায় ২০টি সুখোই ফাইটার জেট কিনেছিল কারাকাস। তবে সেগুলো আমেরিকার বি-২ বিমানের তুলনায় অনুন্নত।
হামলা হলে ভেনেজুয়েলা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের বিমান বা স্থল হামলা চালালে ভেনেজুয়েলা গেরিলা ধাঁচের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য মিলেছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ’ হিসেবে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তবে বিস্তারিত বলেননি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে ২৮০টির বেশি স্থানে ছোট ছোট সামরিক ইউনিট ছড়িয়ে পড়বে, যারা নাশকতা ও গেরিলা কৌশল প্রয়োগ করবে।
ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার রাশিয়ান ইগলা মোতায়েন করা হয়েছে বলা বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানতে পেরেছে রয়টার্স।
একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলা হলে ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে গিয়ে গোপন অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় কৌশল হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শাসকদলের সশস্ত্র সমর্থকদের ব্যবহার করে রাজধানী কারাকাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতে পারে। যাতে দেশটিকে অশাসনযোগ্য অবস্থায় ঠেলে দেওয়া যায়।
ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে?
ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলের কোকা চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে কলোম্বিয়ার গেরিলা গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
সরকারের সমর্থক ‘কোলেক্তিভোস’ নামে পরিচিত দলগুলো প্রায়ই মোটরসাইকেল বহর নিয়ে রাস্তায় নামে এবং বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করে। এদের অনেকেই সশস্ত্র।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল, বিভিন্ন এনজিও, যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু লাতিন আমেরিকান দেশের অভিযোগ, মাদুরো সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মাদক চক্রের যোগসূত্র আছে, এবং এ চক্রগুলো সহিংসতায় জড়িত।
তবে সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে।

ভেনেজুয়েলা ও এর আশপাশের আকাশপথ ‘পুরোপুরিই বন্ধ’ বিবেচনা করতে শনিবার সব এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ এই দেশটির ওপর চাপ তৈরি করতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জামও মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে ২০টির বেশি নৌযানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এসব হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এসব নৌযান ভেনেজুয়েলার বলেও দাবি করা হচ্ছে।
নৌযানে হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান শুরু করার ইঙ্গিতও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। সেখানে মাদুরোর ওয়াশিংটন সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে।
এরই মধ্যে শনিবারের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মাদুরো সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমেরিকা হামলা চালালেও তারা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
কিন্তু ভেনেজুয়েলা কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বা আগ্রাসন ঠেকাতে প্রস্তুত? তাদের সামরিক সক্ষমতাই বা কতটুকু? এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা আলোচনা।
ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা কতটুকু?
ভেনেজুয়েলার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানে এমন ছয়টি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, অপ্রতুল প্রশিক্ষণ, কম বেতন ও অকেজো হতে চলা সরঞ্জামের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনী ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরো সামরিক কর্মকর্তাদের সরকারি দায়িত্বে বসিয়ে তাদের আনুগত্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু নিম্নপদস্থ বা সাধারণ সেনারা স্থানীয় মুদ্রায় মাসে মাত্র ১০০ ডলারের সমপরিমাণ বেতন পান। এই অর্থ একটি পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাঁচভাগের মাত্র এক ভাগ।
সূত্রগুলো বলছে, সেনাবাহিনীর যেসব ইউনিট থেকে ইতোমধ্যেই পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, আমেরিকা হামলা চালালে তা আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলার সেনারা কেবল রাস্তায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদেরই প্রতিহত করার কাজ করে আসছিল।
মাদুরো দাবি করেছেন, ৮০ লাখ বেসামরিক নাগরিক মিলিশিয়া (আধা-সামরিক বাহিনী) প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তবে একটি সূত্রের মতে, হামলা হলে প্রতিরক্ষায় অংশ নিতে পারে কেবল হাজারখানেক গোয়েন্দা সদস্য, শাসকদল-সমর্থিত সশস্ত্র কর্মী এবং অল্পসংখ্যক মিলিশিয়া সদস্য।
ভেনেজুয়েলার সামরিক সরঞ্জামগুলোর বড় অংশই রাশিয়া থেকে আমদানি করা এবং সেগুলো বহু দশক পুরনো।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রায় ২০টি সুখোই ফাইটার জেট কিনেছিল কারাকাস। তবে সেগুলো আমেরিকার বি-২ বিমানের তুলনায় অনুন্নত।
হামলা হলে ভেনেজুয়েলা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের বিমান বা স্থল হামলা চালালে ভেনেজুয়েলা গেরিলা ধাঁচের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য মিলেছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ’ হিসেবে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তবে বিস্তারিত বলেননি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশজুড়ে ২৮০টির বেশি স্থানে ছোট ছোট সামরিক ইউনিট ছড়িয়ে পড়বে, যারা নাশকতা ও গেরিলা কৌশল প্রয়োগ করবে।
ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার রাশিয়ান ইগলা মোতায়েন করা হয়েছে বলা বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানতে পেরেছে রয়টার্স।
একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলা হলে ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে গিয়ে গোপন অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় কৌশল হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থা এবং শাসকদলের সশস্ত্র সমর্থকদের ব্যবহার করে রাজধানী কারাকাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতে পারে। যাতে দেশটিকে অশাসনযোগ্য অবস্থায় ঠেলে দেওয়া যায়।
ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী আছে?
ভেনেজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলের কোকা চাষের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে কলোম্বিয়ার গেরিলা গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে।
সরকারের সমর্থক ‘কোলেক্তিভোস’ নামে পরিচিত দলগুলো প্রায়ই মোটরসাইকেল বহর নিয়ে রাস্তায় নামে এবং বিক্ষোভকারীদের মোকাবিলা করে। এদের অনেকেই সশস্ত্র।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী দল, বিভিন্ন এনজিও, যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু লাতিন আমেরিকান দেশের অভিযোগ, মাদুরো সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে মাদক চক্রের যোগসূত্র আছে, এবং এ চক্রগুলো সহিংসতায় জড়িত।
তবে সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ দখল করতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে।