
টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পাহাড়ধসে অনেকের প্রাণ গেছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা যেতে চায় না। এ ক্ষেত্রে আসলে সংকট কী? জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও কোনো সুফর এখনো মেলেনি। এর কারণ কী?

টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙ্গামাটিসহ উপজেলাগুলোর সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনসহ অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসের ঘটনায় আট শিশু নিহ*ত এবং পাঁচ শিশু আহত হয়েছে। ৮ জুলাই বেলা ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গত মঙ্গলবার টানা বৃষ্টির মধ্যে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে এক নারী ও নগরীর রহমান নগর এলাকায় ঘরের দেয়াল ধসে মারা যান এক দিনমজুর। আর সবশেষ বুধবার দুই শিশুর প্রাণ গেছে।

সর্বশেষ ঘটনা মিলিয়ে তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় পৃথক পাহাড়ধসে মোট ১৭ জনের মৃত্যু হলো।

কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পাহাড় ধসে আটকা পড়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উদ্ধারকাজ চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল ছলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নিজ ঘরে পাহাড় ধসে ওই এলাকার মাঈনুদ্দিনের ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর মারা যায়।

টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আটটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় মোট ৩৯৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতাসহ চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।