
খনিজ সম্পদ কেবল একটি বাণিজ্যিক পণ্য নয়, এটি আগামী দিনের বিশ্ব ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি। যদি বিশ্বনেতারা সময় থাকতে একটি স্থিতিশীল এবং নিয়ম-ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারেন, তবে এই খনিজ সম্পদ বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন যুদ্ধ, অভ্যুত্থান এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লাভ করেছে সেই দেশ, যে কোনো যুদ্ধই করেনি। সামরিক তথ্য, জ্বালানি কৌশল, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, কূটনৈতিক প্রভাব–সব দিক থেকে চীন এগিয়ে গেছে। কোনো সৈন্য না পাঠিয়েও, কোনো অস্ত্র ব্যবহার না করেও তারা সুবিধা নিয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের ধৈর্যশীল ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের একটি বড় উদাহরণ।

মিয়ানমারের কাচিন পাহাড়ের দখল কার হাতে থাকবে, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো–ইন্দো-প্যাসিফিকের খনিজ পৃথকীকরণ প্ল্যান্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? খনিজ নিরাপত্তা এখন আর কেবল সরবরাহের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের শিল্প সার্বভৌমত্বেরও প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসলে কোনো দেশ দখল করতে চান না। বিষয়টা কেমন অদ্ভুত শোনায়। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর। কিন্তু এটাই সত্য। তার লক্ষ্য, জ্বালানি তেল, বিরল খনিজ ও বিশ্ব বাণিজ্যের সমুদ্র পথের নিয়ন্ত্রণে নিরঙ্কুশ আধিপত্য। তাহলেই আরও বহুকাল তার আমেরিকা গ্রেট থাকবে।

ভূরাজনীতির খেল: পর্ব ১
‘উইন্টার ইজ কামিং’–কী পরিচিত লাগছে? ‘গেম অব থ্রোনস’-এর ভক্তকূল নিশ্চয় চিনতে পারছেন? অনেক দৃশ্য নিশ্চয় মনে আসছে? আসাটাই স্বাভাবিক। উইন্টারফলের সবচেয়ে উচ্চারিত সতর্কবার্তা এটি। তারপর তো কত জল গড়াল। সত্যি সত্যি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে উঠল দর্শকদের কাছে ধীরে স্পষ্ট হলো–শীতের আগমন বার্তা কেন সতর্ক সং

পর্ব-২
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তারা দ্রুতই অল্প সংখ্যক অপরিশোধিত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, ঠিক তখনই ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘‘গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার আগ্রহের পেছনে খনিজ সম্পদের চেয়ে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ডের উপকূলজুড়ে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ চলাচল করছে এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড অবশ্যই দরকার।”

আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে এটি রাশিয়ার নিজেদের ব্যাপার। কিন্তু এর লক্ষ্য শুধুই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়। এটি একটি সুচিন্তিত ভূ-রাজনৈতিক কৌশল, যার মাধ্যমে মস্কো এক ঢিলে তিন পাখি মারতে চাইছে।

বাস্তবতা হলো, বিরল মৃত্তিকার বনাম উন্নত মাইক্রো চিপের ওপর এই অচলাবস্থা সম্ভবত বহু বছর ধরে চলতে থাকবে, যা বিরল মৃত্তিকাকে চীনের জন্য একটি শক্তিশালী ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয় মানুষের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য প্রতিক্রিয়া। অ্যামিগডালা ধ্বংস হলে মানুষ দ্রুত মারা যায়, কারণ তারা বিপদ চিনতে পারে না।