
শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৩৯০ রানে। ১৩৭ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিকুর। তার এই ইনিংস কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একজন বোলারের তিনটি বলের গতি ঘণ্টায় ১৪৮; ১৪৯ ও ১৫০ কিলোমিটার বেগে–এমন দৃশ্য বছর তিনেক আগেও ছিল যেন ‘অলীক কল্পনা’! আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাহিদ সেটাই করে দেখিয়েছেন।

১৭তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের মিডল স্টাম্প লাইনের ডেলিভারি, মাহমুদুল হাসান জায়গায় দাঁড়িয়ে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারলেন চার। এই শটেই পূর্ণ হয় ফিফটি। গোটা ইনিংসে শুধু এই শটটাই যেন সিলেট টেস্টে তাকে খেলানো নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব।

লিটন ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭৮ রানে। জবাবে পাকিস্তান করেছে বিনা উইকেটে ২১ রান। এখনো তারা পিছিয়ে ২৫৭ রানে।

বৃষ্টিতে দ্বিতীয় সেশন ভেসে যাওয়ার পর বিকেলে শুরু হয় শেষ সেশনের খেলা। লিড খুব বড় না হওয়ায় তখনও চাপেই ছিল বাংলাদেশ। তবে টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাজমুল এবং প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা মুমিনুল চূড়ান্ত নিবেদন দেখিয়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান।

বাস্তবতা অবশ্য বলছে, সময় এসেছে পরিবর্তনের। আর সেটা হওয়া উচিত মাহমুদুলকে সরিয়েই। নির্বাচকেরা কি ভিন্ন কিছু করার সাহস দেখাবেন?

ওয়ানডে অধিনায়ক হলেও দলে তার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা নিয়ে প্রায়ই ওঠে প্রশ্ন। তবে ফরম্যাট যখন টেস্ট ক্রিকেট, সেখানে মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগই নেই। ধারাবাহিকভাবে লাল বলের ক্রিকেটে দলের অন্যতম সেরা পারফরমার যে তিনিই।

নাহিদ দেশে ফেরার পরই খবর চাউর হয়, পিএসএল থেকে দুটি চোট বয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। একটি হাতে, যা তিনি পাকিস্তানে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন। এই চোট শিগগিরই সেরে উঠবে বলেই আশা করছে বিসিবি।

খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট। গুয়াহাটি টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৪০৮ রানে হার বড় ঘটনা, সন্দেহ নেই। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের খারাপ সময়টা নিছকই একটা টেস্ট হারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটির ব্যপ্তি অনেকটাই।