
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

আইসিসি সময় বেঁধে দিলেও বুলবুল জানান, “আমরা আমাদের মতো চেষ্টা করে যাব, এখনো হাল ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করব আরও কিছু বিষয় নিয়ে এবং চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, আইসিসি এমনটা জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ কী করবে, সিদ্ধান্তটা নিতে হবে ২১ জানুয়ারির মধ্যে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, না নেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের হাতে সময় ৪৮ ঘণ্টা! বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে আইসিসি অন্য একটি দেশকে সুযোগ দেবে।

সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট এই মুহূর্তে যে অস্থির সময় পার করছে, এমনটা অতীতে কখনো হয়নি বলে মনে করেন অনেকেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের আপাতত কোনো রাস্তাও দেখা যাচ্ছে না বা বিসিবি সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে পারছে না।

দুপুর একটায় বিপিএলে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুই দলের খেলোয়াড়েরা মাঠে হাজির হননি। ম্যাচটি হওয়ার কথা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।

বাংলাদেশ আইসিসিকে আবারও জানিয়ে দিয়েছে ভারতে না যাওয়ার কথা। আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনড়। ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো কলকাতা ও মুম্বাই থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তর করার অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় বিসিবি। এমনকি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে আসছে আইপিএলের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশ জারি করেছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি, ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নেপালের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে চায় না বাংলাদেশ। আজ রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় ১৭ জন বোর্ড পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বিপিএল মানেই যেন বিতর্ক। মাঠের খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের বিষয় নিয়েই বেশি খবর। বাংলাদেশের এই টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেন খবরের চেয়ে বেখবরের জন্যই বেশি বিখ্যাত। প্রতিটি সংস্করণ যেন নতুন নতুন বিতর্কের জন্মদাতা। বিপিএলকে তাই ‘বিতর্ক লিগ’ বললে বাড়িয়ে বলা হবে না।