Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ অক্টোবর, ২০২৬
২১ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২১ অক্টোবর, ২০২৬
২১ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

মার্কিন ডলারের প্রকৃত মূল্য ক্রমে কমছে

জন ম্যাক গ্লিওন

জন ম্যাক গ্লিওন

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৪৪
মার্কিন ডলারের প্রকৃত মূল্য ক্রমে কমছে
মার্কিন ডলারের প্রকৃত মূল্য ক্রমে কমছে। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ সম্প্রতি ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে—এটা এমন এক বিশাল সংখ্যা, যা মানুষের মস্তিষ্ক ঠিকঠাক ধারণই করতে পারে না। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন তার দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ নেন, তখন ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৬.২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই সময়ের মধ্যে আরও প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলাটা যেন দেশের ক্রেডিট কার্ডের সীমা পুরোপুরি শেষ করে ফেলার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

Advertisement

এই আর্থিক তাণ্ডবের প্রধান শিকার হলো খোদ ফেডারেল বাজেট। মার্কিন সরকার এখন অতীতের ঋণের চক্রবৃদ্ধি সুদ পরিশোধ করতেই যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা জাতীয় প্রতিরক্ষা কিংবা লাখ লাখ নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ অর্থের চেয়েও বেশি। ওয়াশিংটন এমন এক আর্থিক কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে রাষ্ট্র মূলত বৈশ্বিক বন্ডধারীদের অর্থ প্রদানের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। অতীতের অপরিশোধিত দেনা এখন ভবিষ্যতের সরকারি ব্যয়ের খাত থেকে অর্থ শুষে নিচ্ছে। বিষয়টি যদি এত উদ্বেগজনক না হতো, তবে একে এক অদ্ভুত ও হাস্যকর পরিস্থিতি হিসেবে দেখা যেত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

করদাতারা যখন এই বোধগম্যতার বাইরের সংখ্যাগুলো নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দায়িত্বে থাকা পরিবারটি যেন বেশ আনন্দেই দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২.২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছেন। তার বড় দুই ছেলে, এরিক ও ডোনাল্ড জুনিয়র, বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিশ বছর বয়সী ব্যারনের ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ অর্জনের খবর পাওয়া গেছে। সরকারি কোষাগার থেকে যখন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবারের বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ গড়ে তোলার এই দৃশ্য আধুনিক অগ্রাধিকারগুলোর এক স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।

উভয় দলের রাজনীতিবিদরাই কয়েক দশক ধরে তিল তিল করে ঋণের এই পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তবে বর্তমান ঋণের গতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রশাসনগুলো যে পরিমাণ ঋণ কয়েক দশকে তৈরি করেছিল, এখন তা মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই জমা হচ্ছে। চলমান সামরিক দায়বদ্ধতাগুলো প্রতিদিন এই ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি কয়েক হাজার কোটি ডলার শুষে নিচ্ছে, অথচ দেশের লাখ লাখ পরিবার তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় মাসিক বিল পরিশোধ করতেই হিমশিম খাচ্ছে।

কানাডার অংশ হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দিল আলবার্টার বাসিন্দারাPeople take part in a Pro-Canada Rally in Edmonton, Alberta, Canada, October 18, 2026 REUTERS

বিশাল জাতীয় ঋণকে ওয়াশিংটনের হিসাবের খাতায় খেলা এক বিমূর্ত হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া বলে মনে হতে পারে—যতক্ষণ না এর পরিণতি অনিবার্যভাবে দৈনন্দিন জীবনে আঘাত হানে। ফেডারেল সরকারের কাছে জাদুকরী সোনার কোনো গোপন ভাণ্ডার নেই। বিশাল অঙ্কের সুদ পরিশোধের জন্য তারা হয় অভ্যন্তরীণ সরকারি পরিষেবাগুলো ছাঁটাই করে, অথবা নতুন নোট ছাপায়। যখন সুদের অর্থ ফেডারেল বাজেটের বড় অংশ গ্রাস করে ফেলে, তখন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় তহবিল থেকে বঞ্চিত হয়। পরিবহন অবকাঠামো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে, দুর্যোগ মোকাবিলাকারী সংস্থাগুলো মাঝপথেই অর্থসংকটে পড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা গবেষণা থমকে যায়।

বিদ্যমান দায় মেটাতে নতুন নোট ছাপানো সরাসরি মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে টিকে থাকলেও, ক্রমাগত ঋণ গ্রহণের ফলে এর প্রকৃত মূল্য ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ফেডারেল সংস্থাগুলোকে সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন অর্থের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়, তখন স্থানীয় বাজারে পণ্যের দামও সেই অনুপাতে বেড়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি দেশের প্রতিটি মানুষের আয়ের ওপর এক ধরনের স্থায়ী ও অনিবার্য করের মতো কাজ করে—যার জন্য কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়ে না।

কয়েক দশকের রাজনৈতিক অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডের মূল্য পরিশোধের সময় এসেছে, আর রাজনৈতিক শ্রেণি এই খরচের বোঝা সাধারণ নাগরিকদের কাঁধে চাপিয়ে দিতে চাইছে। ঋণের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং জনসেবার অবনতি—এগুলো কোনো আকস্মিক দুর্ভাগ্য নয়; বরং এমন দাবি করা চরম অসততা। প্রকৃতপক্ষে, এগুলো হলো সরকারের এমন এক গাণিতিক পরিণতি, যেখানে সরকার নিজের কাছে না থাকা পুঁজি ব্যয় করছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করছেন এমন কিছু ব্যক্তি, যারা নিজেরা ক্রমাগত ধনী হচ্ছেন, অথচ জাতীয় অর্থনীতির হিসাবের খাতা ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, এটি পুরোপুরি আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। জাতীয় ঋণের খাতায় প্রতি ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার অর্থ হলো, উৎপাদনশীল খাত থেকে সম্পদ সরিয়ে তা ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় করা। যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় থাকা অবকাঠামো আরও বেশি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

হাসপাতালগুলোর বাজেট কমানো হচ্ছে, অথচ সরকারি ঋণের বড় বিনিয়োগকারীরা তাদের মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। সাধারণ পরিবারগুলোকে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে, কিন্তু তারা কিনতে পারছে আগের চেয়ে কম পণ্য। এমন সব নীতিগত সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের, যেখানে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চেয়ে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এক পর্যায়ে, ক্রমাগত ঋণ নেওয়ার সীমাবদ্ধতাগুলো অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে সামনে চলে আসে। বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যেখানে কোনো জাতি কেবল ঋণের অর্থে ব্যয় করে স্থায়ী সমৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। ‘বিনামূল্যে পাওয়া অর্থ’—এই বিভ্রমটি কেবল ততক্ষণই টিকে থাকে, যতক্ষণ বৈশ্বিক বাজারগুলো সংশ্লিষ্ট মুদ্রাকে গ্রহণ করে।

একবার সেই আস্থা হারিয়ে গেলে, ওয়াশিংটনের নথিপত্রে থাকা বিমূর্ত সংখ্যাগুলো সাধারণ পরিবারের জন্য তাৎক্ষণিক ও কাঠামোগত দুর্দশায় পরিণত হয়। ঋণটা ওয়াশিংটনই করে, কিন্তু তার মূল্য চোকাতে হয় সাধারণ কর্মজীবী মানুষকে—মজুরি কমে যাওয়ার মাধ্যমে এবং সরকারি সেবার মান পড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। পুরো ব্যবস্থাটি এমনভাবেই সাজানো হয়েছে যে, এটি সরকারি ঋণকে ব্যক্তিগত সুবিধায় রূপান্তরিত করে, আর চূড়ান্ত ঝুঁকিটি চাপিয়ে দেয় তাদের ওপর, যাদের তা বহন করার সক্ষমতা সবচেয়ে কম।

জন ম্যাক গ্লিওন: লেখক ও গবেষক।

(এই লেখাটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল–এর সৌজন্যে প্রকাশিত।)

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রমার্কিন ডলারকরমূল্যস্ফীতিডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিলেটে অটোরিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা

  • ২

    ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

  • ৩

    চট্টগ্রামে ‘ক্লিন ইমেজের’ মানুষদের প্রার্থী করার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

  • ৪

    মার্কিন ডলারের প্রকৃত মূল্য ক্রমে কমছে

  • ৫

    ‘সাইবার বুলিং এমন ধরনের অপরাধ যা মানুষকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়’

সম্পর্কিত
  • ‘পাপের লাশ’ কীভাবে আমাদের ‘শেখা’র উপকরণ হচ্ছে?

    ‘পাপের লাশ’ কীভাবে আমাদের ‘শেখা’র উপকরণ হচ্ছে?

    কোনো মানবশিশুর জন্মের পর থেকেই তাকে এক ধরনের শিখন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেসবের উপকরণও নানা ধরনের হয়। হ্যাঁ, নিজেদের লাশ থেকেও মানুষ শেখে বটে। সেভাবেই চিকিৎসাশাস্ত্রের উন্নতি হয়েছে। তবে তা হয়েছে জীবন বাঁচানোর ইচ্ছা থেকেই। দিন যত গেছে, মানুষ নিজের লাশ থেকে শেখার বিষয়টা সংকুচিত করেছে এবং করছে।

  • পুরনো বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটেছে, এরপর যা আসতে পারে

    পুরনো বিশ্বব্যবস্থার অবসান ঘটেছে, এরপর যা আসতে পারে

    অবশ্য আগামী বছর বা দশকগুলোতে পরিস্থিতি অন্য যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে—এমন সম্ভাবনা অগণিত। আমাদের মহান আমেরিকান চিন্তাবিদের ভাষায়, “ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন, বিশেষ করে ভবিষ্যতের বিষয়ে।”

  • সৌদি রাজতন্ত্রকে নিরাপত্তা খুঁজতে হবে জনগণের শাসনের মধ্যে

    সৌদি রাজতন্ত্রকে নিরাপত্তা খুঁজতে হবে জনগণের শাসনের মধ্যে

    নিজেদের উত্তম ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত ভরসা খুঁজতে হবে আরব সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির ওপর।

  • মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্যই ইশরাকের পদত্যাগ!

    মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্যই ইশরাকের পদত্যাগ!

    প্রশ্ন উঠেছে, একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র উঁচিয়ে যদি মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?