
দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!
তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

পহেলা ডিসেম্বর চরচা’র স্টুডিওতে কথা হচ্ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বিজয়ের মাসের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিন গুলোর গতিপথ নিয়ে আলোচনায় তিনি জানান, মুক্তিবাহিনীর একের পর এক সফলতায় নভেম্বরের মাঝামাঝি বিজয়ের লাল আভা উজ্জ্বল হতে থাকে বাংলার আকাশে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে সর্বাত্মক ঢাকা অ্যাটাকের জন্য নানা প্রান্ত থেকে আশপাশের জেলায় জড়ো হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা।
একাত্তরের দিনগুলিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ২ ডিসেম্বর সারাদিন তিনি কারও অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও সেদিন কারও আসার কথা ছিলো না। হয়ত তিনি ঢাকার দিকে এগোতে থাকা মুক্তিবাহিনীর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন!
এদিন ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধারা আঘাত হানে ঢাকার রামপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে আঘাত হানার অর্থ হল, পাকিস্তানি সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অচল করে দেওয়া এবং তাদের মনোবল ভেঙে দিতে এই আক্রমণটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সফল অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ধ্বংস হয়। ৬ নম্বর সেক্টরের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী দখলের পর লালমনিরহাট বিমানবন্দর প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে বাড়তে থাকে যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুরের মুক্তাঞ্চলের পরিধি।
তীব্র যুদ্ধ চলতে থাকে চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনায়। গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যার ফলে ঢাকায় রসদ ও সৈন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কুমিল্লা-সিলেট সিএন্ডবি রোডের সংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মুক্তিবাহিনী।
পরাজয় নিশ্চিত জেনে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিসহ নানা কৌশল খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে, এদিন দুপুরে তিনটি পাকিস্তানি স্যবর জেট ভারতের আগরতলা বিমান ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। জবাবে জেনারেল মানেকশকে পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাতে নির্দেশ দেয় ভারত। দিল্লির বাসভবনে কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবারও বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা ফিরিয়ে নিলেই চলমান যুদ্ধ থামতে পারে। কাটতে পারে অচলাবস্থা।
২ ডিসেম্বর পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের খবর এবং ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির খবর প্রচার করতে থাকে।
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর মানবেতর জীবন নিয়ে উদ্বেগ চোখে পড়ে। তবে, ডিসেম্বরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ শরণার্থী সংকট থেকে সরে কেন্দ্রীভূত হয় সামরিক সংঘাতের দিকে।
তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১, এইচ. টি. ইমাম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অষ্টম, একাদশ ও দ্বাদশ খন্ড।
দৈনিক ইত্তেফাক, ডিসেম্বর, ১৯৭১
একাত্তরের দিনগুলি, জাহানারা ইমাম

দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!
তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র
সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত
দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪
২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।