২ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ফজলে রাব্বি

পহেলা ডিসেম্বর চরচা’র স্টুডিওতে কথা হচ্ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বিজয়ের মাসের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিন গুলোর গতিপথ নিয়ে আলোচনায় তিনি জানান, মুক্তিবাহিনীর একের পর এক সফলতায় নভেম্বরের মাঝামাঝি বিজয়ের লাল আভা উজ্জ্বল হতে থাকে বাংলার আকাশে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে সর্বাত্মক ঢাকা অ্যাটাকের জন্য নানা প্রান্ত থেকে আশপাশের জেলায় জড়ো হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা।
একাত্তরের দিনগুলিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ২ ডিসেম্বর সারাদিন তিনি কারও অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও সেদিন কারও আসার কথা ছিলো না। হয়ত তিনি ঢাকার দিকে এগোতে থাকা মুক্তিবাহিনীর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন!
এদিন ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধারা আঘাত হানে ঢাকার রামপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে আঘাত হানার অর্থ হল, পাকিস্তানি সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অচল করে দেওয়া এবং তাদের মনোবল ভেঙে দিতে এই আক্রমণটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সফল অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ধ্বংস হয়। ৬ নম্বর সেক্টরের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী দখলের পর লালমনিরহাট বিমানবন্দর প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে বাড়তে থাকে যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুরের মুক্তাঞ্চলের পরিধি।
তীব্র যুদ্ধ চলতে থাকে চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনায়। গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যার ফলে ঢাকায় রসদ ও সৈন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কুমিল্লা-সিলেট সিএন্ডবি রোডের সংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মুক্তিবাহিনী।
পরাজয় নিশ্চিত জেনে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিসহ নানা কৌশল খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে, এদিন দুপুরে তিনটি পাকিস্তানি স্যবর জেট ভারতের আগরতলা বিমান ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। জবাবে জেনারেল মানেকশকে পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাতে নির্দেশ দেয় ভারত। দিল্লির বাসভবনে কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবারও বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা ফিরিয়ে নিলেই চলমান যুদ্ধ থামতে পারে। কাটতে পারে অচলাবস্থা।
২ ডিসেম্বর পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের খবর এবং ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির খবর প্রচার করতে থাকে।
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর মানবেতর জীবন নিয়ে উদ্বেগ চোখে পড়ে। তবে, ডিসেম্বরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ শরণার্থী সংকট থেকে সরে কেন্দ্রীভূত হয় সামরিক সংঘাতের দিকে।
তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১, এইচ. টি. ইমাম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অষ্টম, একাদশ ও দ্বাদশ খন্ড।
দৈনিক ইত্তেফাক, ডিসেম্বর, ১৯৭১
একাত্তরের দিনগুলি, জাহানারা ইমাম

পহেলা ডিসেম্বর চরচা’র স্টুডিওতে কথা হচ্ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বিজয়ের মাসের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিন গুলোর গতিপথ নিয়ে আলোচনায় তিনি জানান, মুক্তিবাহিনীর একের পর এক সফলতায় নভেম্বরের মাঝামাঝি বিজয়ের লাল আভা উজ্জ্বল হতে থাকে বাংলার আকাশে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে সর্বাত্মক ঢাকা অ্যাটাকের জন্য নানা প্রান্ত থেকে আশপাশের জেলায় জড়ো হতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা।
একাত্তরের দিনগুলিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম লিখেছেন, ২ ডিসেম্বর সারাদিন তিনি কারও অপেক্ষায় ছিলেন, যদিও সেদিন কারও আসার কথা ছিলো না। হয়ত তিনি ঢাকার দিকে এগোতে থাকা মুক্তিবাহিনীর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন!
এদিন ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধারা আঘাত হানে ঢাকার রামপুরা বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে। রাজধানীর বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে আঘাত হানার অর্থ হল, পাকিস্তানি সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোকে অচল করে দেওয়া এবং তাদের মনোবল ভেঙে দিতে এই আক্রমণটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
১ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের সফল অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ধ্বংস হয়। ৬ নম্বর সেক্টরের কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী দখলের পর লালমনিরহাট বিমানবন্দর প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে বাড়তে থাকে যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও রংপুরের মুক্তাঞ্চলের পরিধি।
তীব্র যুদ্ধ চলতে থাকে চুয়াডাঙ্গা ও দর্শনায়। গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, যার ফলে ঢাকায় রসদ ও সৈন্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কুমিল্লা-সিলেট সিএন্ডবি রোডের সংযোগ এবং চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-ঢাকা রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় মুক্তিবাহিনী।
পরাজয় নিশ্চিত জেনে যুদ্ধের মোড় ঘোরাতে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতিসহ নানা কৌশল খুঁজতে থাকে। এরই মধ্যে, এদিন দুপুরে তিনটি পাকিস্তানি স্যবর জেট ভারতের আগরতলা বিমান ঘাঁটিতে বোমা হামলা চালায়। জবাবে জেনারেল মানেকশকে পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালাতে নির্দেশ দেয় ভারত। দিল্লির বাসভবনে কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আবারও বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানি সেনা ফিরিয়ে নিলেই চলমান যুদ্ধ থামতে পারে। কাটতে পারে অচলাবস্থা।
২ ডিসেম্বর পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে। বিবিসি এবং ভয়েস অব আমেরিকাসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের খবর এবং ঢাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির খবর প্রচার করতে থাকে।
যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীর মানবেতর জীবন নিয়ে উদ্বেগ চোখে পড়ে। তবে, ডিসেম্বরের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ শরণার্থী সংকট থেকে সরে কেন্দ্রীভূত হয় সামরিক সংঘাতের দিকে।
তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১, এইচ. টি. ইমাম
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র অষ্টম, একাদশ ও দ্বাদশ খন্ড।
দৈনিক ইত্তেফাক, ডিসেম্বর, ১৯৭১
একাত্তরের দিনগুলি, জাহানারা ইমাম

চরমপন্থী ও ডানপন্থী মতাদর্শের উত্থান নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আরেকটি উদ্বেগের দিক। সারা দেশে ধর্মোন্মত্ততা বেড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রক্ষণশীল ইসলামি ব্যাখ্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যদি আরও খারাপ হয়, তবে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নীতির কৌশলগত যৌক্তিকতা নিয়ে আপনি যদি বিভ্রান্ত বোধ করেন, তবে আপনাকে দোষ দেওয়া যায় না। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক ‘অপহরণের’বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব যুক্তি দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগই হাস্যকর।