Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ আগস্ট, ২০২৬
২৮ আগস্ট, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ আগস্ট, ২০২৬
২৮ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আতঙ্কের আগুনে যে শহরে আলো নিখোঁজ

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ২৩
আতঙ্কের আগুনে যে শহরে আলো নিখোঁজ

আগুন দেওয়ার অনেক পরে—রাত ১টার দিকে পৌঁছাই কারওয়ান বাজারে। তখনো প্রথম আলোর ছোট্ট সাদা ভবনটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। গনগনে আগুন ছাড়া আর কোনো আলো নেই। নিরুদ্দেশ চাঁদ। ভবনটির নিচের তলায় থাকা বইয়ের দোকানটিও বাদ যায়নি, বইগুলো সড়কে স্তুপ করে পোড়ানো হয়েছে। দূরে দাঁড়িয়ে আছে র‌্যাব ও পুলিশের কিছু সদস্য। ভবনের সামনে ‘বিক্ষুদ্ধ জনতা’—তারা একটু পরপর স্লোগান দিচ্ছে ‘নারায়ে তাকবির! আল্লাহু আকবার!’ ‘নারায়ে তাকবির! আল্লাহু আকবার!’ তাদের ক্ষোভ তখনো ভবনের আগুনের মতোই জ্বলছে, আগুনের কবলে থাকা ভবনটিতে ছুড়ে মারছে ইট-পাটকেল। ছবি নিচ্ছি এমন সময় একজন আমার পিঠে চাপড় দিয়ে ডাকলেন, তার দিকে ফিরতেই জানালেন, “উল্টা-পাল্টা নিউজ কইরেন না কিন্তু, বুগিচুগি নিউজ করলে কী হয়—তা দেখবারই পারতাছেন”, কথাটি শেষ করেই তিনি তার হাতে থাকা রডটি দিয়ে প্রথম আলোর পুড়তে থাকা ভবনটি দেখিয়ে দিলেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলাম, আরেকটি পত্রিকার অফিসও তো জ্বলছে।

তার আগে রাত ১০টার দিকে খবর আসে ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান শরিফ হাদি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মারা গেছেন। এই খবরে দৈনিক বাংলা মোড়ে আমাদের অফিসে হুলুস্থুল পড়ে যায়, মৃত্যু-সংবাদ নিশ্চিত করে নিউজ পাবলিশ করা, ফটোকার্ড বানানো—আরও কত কী! ওদিকে শাহবাগে শুরু হয়ে গেছে বিক্ষোভ সমাবেশ, টেলিভিশনে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ…। এসব সামাল দিতে দিতেই রাত ১২টা। তারপর ভীষণ ক্লান্ত নিজেকে টেনে বাসায় তুললাম। কেউ কিছু বলেনি—কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে মন পড়ে রইল কারওয়ান বাজার। আবার বেরিয়ে পড়লাম।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

প্রথম আলো রেখে ছুটে গেলাম ডেইলি স্টার ভবনের সামনে। ঘুটঘুটে অন্ধকার। কালো কাচে মোড়া বিশাল ভবনটি তার পেছনের গাঢ় অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। ভবনের মাথার দিকে শুভ্র ধোঁয়ার কুণ্ডলি। সবাই বলছে, দ্য ডেইলি স্টারের অনেক কর্মী ছাদে আটকে আছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকায় এখানে ‘বিক্ষুদ্ধ জনতা’ একটু তফাতে দাঁড়িয়ে। তবে তাদের মন্তব্য থেমে নেই, ‘এইটা তো ডেইলি স্টার না, দিল্লি স্টার’, ‘ভারতের দালাল গো মাটিসহ উডাইয়া ফেলতে হইব’, ‘এরাই আওয়ামী লীগের দোসর’…। ভবনের সামনে যাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসতে না পারে, সেই চেষ্টা করেছে একটি দল। সেনাবাহিনী থাকায় খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। তারা কাজে নেমে পড়েন। অ্যারিয়েল ল্যাডার দিয়ে ছাদ থেকে একজনকে নামিয়ে নিয়ে আসা হলো। চিনতে পারলাম, ছেলেটি ডেইলি স্টারের ক্যান্টিনে কাজ করে। তার চোখে মুখে আতঙ্কের ছায়া। এর মধ্যে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সাংবাদিক ও ইউটিউবাররা।

ছায়ানট ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি: চরচা
ছায়ানট ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ছবি: চরচা

মনে হচ্ছিল এই রাত যেন ফুরাবার নয়। রাত ভোরের আলোর দিকে যায়, কিন্তু আজকের রাত যেন আরও অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে। এমন কোনো রাত দেখেই কি কবি জীবনানন্দ লিখেছিলেন, ‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ’? রাত দুটোর দিকে হোয়াটস্যাপে একটি ম্যাসেজ আসে, “ছায়ানটে কি আগুন দেওয়া হয়েছে?” এমন পরিস্থিতিতে গুজবের ডালপালা ছড়াতে থাকে। হয়তো ছায়ানটে আগুন লাগার খবরটিও ভুয়া। কেননা, ওসমান হাদির মৃত্যুতে ছায়ানটে কেন আগুন দেওয়া হবে? কিন্তু প্রশ্নটির উত্তরও তো জানা চাই। দোটানায় পড়ে গেলাম, সংবাদ যদি সত্য হয়? যুক্তি দিয়ে কি আর সব হয়! শেষে ধানমন্ডির শঙ্করের দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

কথা সত্য। ছায়ানট ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ভেতরের বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাইরে এনে পোড়ানো হয়েছে। ভেতরের প্রায় প্রতিটি রুমের আসবাব ও জিনিসপত্র তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। আগুন লাগানো হয়েছে একাধিক ফ্লোরে। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে স্বরলিপির খাতা, তবলা, হারমোনিয়াম, খেলনা…। তবে আগুন ছড়াতে পারেনি, তার আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করেছে। ভবনের এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বইপত্র। দেখলাম কবি নজরুলের টুপিপরা বড় ছবিটি ছাড়া বাকি সব ছবি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে, বাদ যায়নি লালনের প্রতিকৃতিও।

কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর ডেইলি স্টার ভবনের সামনে বিজিবি সদস্যদের অবস্থান। ছবি: চরচা
কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউর ডেইলি স্টার ভবনের সামনে বিজিবি সদস্যদের অবস্থান। ছবি: চরচা

রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছায়ানট থেকে বের হই। শীতল ও সমাধিনীরব শহরের সুনসান সড়কে যেন আমি একা। পুরো শহরটাই যেন একটি হিমঘর—আমরা মরদেহ। এসব আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতে ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, বাড়িতে আমার উদ্বিগ্ন স্বজনরা আমার অপেক্ষায় নির্ঘাত জেগে আছে। আর তারাও কি নিরাপদে আছে? আমি মোটরসাইকেলের গতি বাড়িয়ে হিমঘরের হিম কেটে আপনজনদের কাছে ফিরতে লাগলাম।

সুদীপ্ত সালাম: প্রধান, ভিডিও বিভাগ, চরচা

বিষয়:

ছায়ানটআগুনপ্রথম আলোসাংবাদিকতাঅগ্নিকাণ্ড
১

ক্রিকেটের উন্নয়নে ওয়ালটনের সহযোগিতা প্রত্যাশা তামিমের

২

পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

৩

একীভূত ৫ ব্যাংক: চেক বই, ডিপিএস, এফডিআর ও শাখার কী হবে

৪

চেক জালিয়াতির মামলায় ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

৫

আমেরিকা–কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের লাভ

সম্পর্কিত

কেমন হবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

কেমন হবে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনেও সরকারি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে না বিরোধী দল গতিমুখ বদলাতে পারবে, সেটা আগে থেকে বলা কঠিন। সংসদীয় কমিটি গঠন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যকার বিরোধ কীভাবে ও কতদিনে মীমাংসা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হে সরকার, একটু শান্তি যে দরকার!

হে সরকার, একটু শান্তি যে দরকার!

এই দেশে মানুষ মোটা দাগে দুই ধরনের। একটি হলো ‘সাধারণ’, অন্যটি হলো ‘অসাধারণ’। কে সাধারণ বা অসাধারণ এবং কেন, সেই ব্যাখ্যায় যাওয়া হবে শিগগিরই। তবে তার আগে জানানো যাক যে, শিরোনামে যে ‘শান্তি’র খোঁজ করা হয়েছে, তা আদতে এই সাধারণদের হিসাব থেকেই বলা। সাধারণদেরই একটু শান্তি দরকার। সেই প্রয়োজনের কথা আর কাক

স্বাস্থ্যে আমরা ‘কোথায়’ যাচ্ছি?

স্বাস্থ্যে আমরা ‘কোথায়’ যাচ্ছি?

গেল আগস্টের ১৫ তারিখ নেত্রকোনা জেলায় আমার একমাত্র ছোট বোনের ব্রেইন স্ট্রোক করে। দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিউরোসায়েন্স বিভাগে রাতে ভর্তির পর সকালে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। এর কয়েক মিনিট পর তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।

প্রথম রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অজানা গল্প

প্রথম রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অজানা গল্প

মিয়ানমার সরকার তার দেশের একটি প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠী—রোহিঙ্গাদের নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেয়নি। ২০২৫ সালের ঘটনা এটি, যা ২০১৬-১৭ সালে ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা ঢলের প্রায় নয় বছর পরের কথা।