
মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্যই ইশরাকের পদত্যাগ!
প্রশ্ন উঠেছে, একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র উঁচিয়ে যদি মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?

আবু তাহের খান

সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান আক্রমণের প্রেক্ষিতে সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র প্রতিবেশী, এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন মুসলমান প্রধান দেশ, সদ্যগঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট প্রভৃতি শক্তির কাছে সামরিক সহযোগিতা প্রার্থনা ও অনুসন্ধান করছে। এরমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একেবারে প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই এ ব্যাপারে তার অনাগ্রহ ও অপারগতার কথা জানিয়েছিল, যদিও সদা অস্থিরতাপ্রবণ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথাবার্তা ইদানীং আবার কিঞ্চিত হলেও সৌদি আরবকে আশ্বস্তকরণের দিকে ঝুঁকছে। তবে এ ব্যাপারে বাংলাদেশই বোধকরি সবচেয়ে বেশি তেজস্বী বক্তব্য নিয়ে এগিয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলছেন, “মক্কা ও মদিনায় কোনো ধরনের হুমকি দেখা দিলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না।” অবশ্য বসে না থাকলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরাসরি আক্রমণে অংশ নেবে নাকি শিগগিরই মক্কা সামরিক জোটে যোগ দিয়ে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এগুবে, সেসব বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কিছু বলেননি।
সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের এ হামলার ঘটনা এখন বিশ্বব্যাপী আলোচনার এক প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে অবশ্যই তা একই দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর কাছে এটি হচ্ছে ভূরাজনৈতিক কৌশল পাল্টানোর এক নতুন উপলক্ষ, মধ্যপ্রাচ্যের শেখ ও আমিরশাসিত দেশগুলোর কাছে নতুনতর নিরাপত্তা ঝুঁকি, আর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর একটি অংশের কাছে অন্ধ হুজুগ। আর এই হুজুগে পড়া মানুষেরা শুধু সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণ দেখছে। কিন্তু হুতিরা মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও কেন সৌদি আরবে আক্রমণ করছে, সেটি একবারও খতিয়ে দেখছে না। তারা একবারও জানার চেষ্টা করছে না, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনের হুতিদের উপর কী অকথ্য নির্যাতন ও নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে অত্যাচার-নির্যাতন সইতে সইতে আত্মরক্ষার্থে শক্তি সঞ্চয় করে আজ যখন তারা বদলা নেওয়ার পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে, তখন নানা দেশ ও জোটের কাছে নিরাপত্তা সহায়তা চাইতে শুরু করেছে সৌদি আরব।
ফলে উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে, হুতিরা রিয়াদ বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় যেসব আক্রমণ চালাচ্ছে, সেগুলো আসলে কাবা ঘর বা মদিনার মসজিদে নববিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত কোনো আক্রমণ নয় এবং মুসলমান হওয়ার কারণে সেখানে তাদের আক্রমণ করার কথাও নয়। আসলে তাদের লক্ষ্য হচ্ছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সামরিক আগ্রাসন এবং জনবিচ্ছিন্ন ও একনায়কতান্ত্রিক সৌদি রাজতন্ত্রের অনাচার ও স্বেচ্ছাচারিতাকে মোকাবেলা করা। প্রকৃত অর্থে মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিহীন অধিকারবঞ্চিত সাধারণ সৌদি জনগণেরও সেটিই প্রত্যাশা। প্রকৃত জনমত সংগ্রহ করতে পারলে হয়তো জানা-ই যেত যে, হুতিরা ছাড়া আর যারা এ আক্রমণে সবচেয়ে বেশি খুশি তাদের মধ্যে সৌদি আরবের প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ জনগণই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। কিন্তু একনায়কতান্ত্রিক রাজতন্ত্রের অধীনে সেখানে ন্যূনতম বাকস্বাধীনতাটুকুও না থাকার কারণে বাইরের পৃথিবী তা জানতে বা বুঝতে পারছে না।
মধ্যপ্রাচ্যের শেখ ও আমির শাসিত রাষ্ট্রগুলোর সবই রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতাধীন। তবে এরমধ্যেও কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন প্রভৃতি দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমিত পরিসরে হলেও একটু একটু করে জনসম্পৃক্ততা সম্পন্ন উদারতান্ত্রিক রাজনীতির দিকে এগুচ্ছে। কিন্তু এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম সৌদি আরব। দেশটি বস্তুতই চরম কর্তৃত্ববাদী রাজতান্ত্রিক শাসনের আওতাধীন, যেখানে রাজপরিবারের বাইরের সাধারণ মানুষের মতামত, চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদির কোনোই মূল্য নেই। বস্তুত রাজা ও যুবরাজদের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গিই সৌদি শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আর এরূপ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে প্রতি মুহূর্তে তার নিরাপত্তার জন্য বহিঃশক্তির উপর নির্ভর করতে হয়েছে ও হচ্ছে, যে নির্ভরতা এতদিন মূলত ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থার (ন্যাটো) ওপর। এবং নিরাপত্তার বিনিময়ে তারা নিজেদের তেলক্ষেত্র ও পণ্যবাজারকে পশ্চিমের জন্য অকাতরে খুলে দিয়েছে। তদুপরি ওই নিরাপত্তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে থাকতে যেয়ে ফিলিস্তিন ও মুসলিম উম্মার স্বার্থকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন সময় ও ইস্যুতে তারা প্রকাশ্যে ও নীরবে ইসরায়েলকেও সমর্থন দিয়ে গেছে। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সে নিরাপত্তা অঙ্গীকার অনেকটাই শিথিল হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আত্মরক্ষার নতুন উপায় হিসেবে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে, যেটিতে যোগ দেয়ার জন্য বাংলাদেশও অত্যন্ত উৎসাহী।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নিজ দেশে জনগণের শাসন কায়েম না করে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো, মক্কা জোট ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে সৌদি আরব তার নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে? কয়েক শ বছরের কায়েমি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনগণভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনে তাদের মন হয়তো একেবারেই সায় দেবে না বা দিচ্ছে না। কিন্তু তাদেরকে বুঝতে হবে যে, রিয়াদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সৌদি স্থাপনায় হুতিদের আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে নতুনতর সামরিক বিন্যাসের শুরু মাত্র। এটি যে ক্রমান্বয়ে বিমানবন্দর থেকে রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে না, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল; বরং তা সেখানে পৌঁছবার আশঙ্কাই সর্বাধিক। বিষয়টি হয়তো রাজা-যুরাজরাও কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন এবং তা পেরেই মক্কা প্রতিরক্ষা জোট গঠনে উদ্যোগী হয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, শেষ পর্যন্ত এসব কোনো জোটই তাদেরকে রক্ষা করতে পারবে না। রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় জনগণের শাসনের কাছে আশ্রয় নেওয়া। তুলনামূলকভাবে অধিকতর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ইতোমধ্যে যে পথ খুঁজে নিতে শুরু করেছে। কিন্তু সৌদি আরব সে পথে এগুবে কিনা, তা সঠিক বুঝা যাচ্ছে না। কারণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিত্র অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে প্রথমেই তারা ঝুঁকেছে পাকিস্তানের মতো গণতন্ত্রবিহীন সামরিক শাসনাধীন দেশের দিকে, যারা ১৯৭১ সনে বাংলাদেশে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল।
পরিশেষে তাই বলব, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে সৃষ্ট যুদ্ধ, হানাহানি ও সংঘাত পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যই কমবেশি ক্ষতির কারণ। সৌদি আরবে শান্তি বিঘ্নিত হলে তা অন্য সকল দেশের নাগরিকদেরকেই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বাংলাদেশের জন্যও যা সমান সত্য। আর সেটি শুধু তেল কেনা ও জনশক্তি রপ্তানির বিবেচনা থেকে নয়; সার্বিক বিশ্বপরিস্থিতির দৃষ্টিকোণ থেকেও সমান সত্য। অতএব বিশ্বসমাজের একজন শান্তিকামী ক্ষুদ্র সদস্য হিসেবে আরও অনেকের মতোই এমনটিই আশা করব যে, সৌদি রাজপরিবার তাদের নিজেদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের স্বার্থে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বা অন্যের কাছ থেকে সামরিক সমর্থন আদায়ের কৌশলের ওপর নির্ভর না করে জনগণের শাসনের কাছে আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করবে। তাতে করে বিশ্বব্যবস্থায় তাদের নিজেদের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা যেমনি বাড়বে, তেমনি বহুলাংশে নিশ্চিত হবে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও।
আর সেইসঙ্গে অনুরোধ করব, যুক্তরাষ্ট্রের বাতলানো পথে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষা না করে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়ান এবং ইরান ও হুতিদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসায় আসুন। তাতে প্রকারান্তরে সৌদি জনগণ ও পুরো মধ্যেপ্রাচ্যই উপকৃত হবে। মনে রাখা দরকার, তাদের ও এ অঞ্চলের শান্তি, সংহতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আটলান্টিকের দু’পাড়ের শক্তি কখনো ভরসা হতে পারে না। নিজেদের উত্তম ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত ভরসা খুঁজতে হবে আরব সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর অববাহিকার দেশগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতির ওপর। আর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সে বোধ যত দ্রুত তৈরি হবে ততোই মঙ্গল।
লেখক: অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি; সাবেক পরিচালক, বিসিক, শিল্প মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশসহ ৪ দেশের কথা তুলে আরএসএসপ্রধানের সতর্কবার্তা
ফ্রান্সে বিক্ষোভ ও ইউরোপে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ক্ষোভে কীভাবে লাভবান হচ্ছে উগ্র ডানপন্থীরা
সৌদি রাজতন্ত্রকে নিরাপত্তা খুঁজতে হবে জনগণের শাসনের মধ্যে
খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে পাকিস্তানি নাগরিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করা বা বোঝা খুব কঠিন’

মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্যই ইশরাকের পদত্যাগ!
প্রশ্ন উঠেছে, একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র উঁচিয়ে যদি মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী করছে?

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কি রিপাবলিকানদের জন্য অন্ধকার দিন অপেক্ষা করছে?
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করতেই হয়। তিনি ডেমোক্র্যাটদের ক্ষুব্ধ করেছেন, নিরপেক্ষ ভোটারদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন, আর এখন—সব মিলিয়ে—রিপাবলিকানদেরও বিরক্ত করে তুলেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে, এটি খুব একটা বুদ্ধিদীপ্ত রাজনৈতিক কৌশল নয়।

জয়তু দেবী দুর্গা
বাংলাদেশে মাতৃপূজার যে বিচিত্র রূপ আছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে মাতৃদেবীর মধ্যে বহু যুগের বহু ধারা এসে মিশেছে। অনেক প্রাচীন ধারা মূল আমরা বেদের মধ্যেই লক্ষ্য করতে পারি।

ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে
ফরাসি ভাষায় এর একটি চমৎকার শব্দ আছে: ‘আন অঁগ্রেনাজ’। যার অর্থ এক দুষ্টচক্র বা ক্রমাগত অবনতির ঘূর্ণিপাক। ফ্রান্স ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। এখানে বেশ কয়েকটি সংকট দীর্ঘ সময় ধরে দানা বাঁধছিল; এখন প্রতিটি সংকট অন্যগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করছে।