Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১

বাঙালির মুক্ত স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন পূরণের দিন

ফজলে রাব্বি

ফজলে রাব্বি

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২: ৫১
বাঙালির মুক্ত স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন পূরণের দিন

ভারতীয় সেনা বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশ ১৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমান হামলা বন্ধ রাখে। তবে ভারত-বাংলাদেশ যৌথবাহিনী আর্টিলারি ইউনিটগুলো ঢাকা শহরের সামরিক অবস্থানে সর্বাত্মক গোলাবর্ষণ চালিয়ে যায়। মিরপুর ও টঙ্গী সেতু দখল করে ভারতীয় প্যারা ট্রুপার ও পদাতিক বাহিনী ঢাকার একদম উপকণ্ঠে পৌঁছে যায়।

Advertisement

রণাঙ্গনে আর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ধরাশায়ী পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু লজ্জা আর অহমিকার কারণে তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণে রাজি হচ্ছিলেন না পূর্বাঞ্চলের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল এ এ কে নিয়াজি। এই গোলাবর্ষণ তাকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য চূড়ান্ত সামরিক চাপ তৈরি করে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের কাছে দ্বিতীয় দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মানেকশ-এর পক্ষ থেকে জেনারেল নিয়াজিকে জানানো হয় যে, শর্তহীন আত্মসমর্পণ করলেই বেসামরিক নাগরিক এবং সামরিক বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। চরম মানসিক চাপ নিয়েই জেনারেল নিয়াজি ঢাকার গভর্নর হাউসে (বর্তমানে বঙ্গভবন) ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক থেকে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ফ্রন্টে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ায় শর্তহীন আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।

আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুযায়ী সামরিক বন্দীদের (POWs) সঙ্গে ব্যবহার এবং তাদের সম্মান রক্ষা করার শর্ত পূরণ করে ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব তৈরি করেন ‘Instruments of Surrender’ বা আত্মসমর্পণ দলিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অবশেষে বিকেল ৪ টা ৩১ মিনিটে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এ এ কে নিয়াজি আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। যেখানে লেখা ছিলো “The Pakistan Eastern Command agrees to surrender all Pakistan Armed Forces in Bangladesh to the Joint Forces Commander, Eastern Theatre (পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তানের সমস্ত সশস্ত্র বাহিনী ইস্টার্ন থিয়েটারের যৌথ বাহিনী কমান্ডারের নিকট আত্মসমর্পণে সম্মত হচ্ছে)।” নিয়াজি তার কোমরের পিস্তল খুলে জেনারেল অরোরার হাতে তুলে দেন। বিশ্বের মানচিত্রে নিশ্চিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার শিরোনাম ছিল ‘BANGLADESH LIBERATED’। এতে বলা হয়, স্বাধীন রাষ্ট্রের আবেগে ঢাকা শহর ফেটে পড়েছে। ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর জনগণ রাস্তায় নেমে আসে, যা ছিল দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর স্বস্তি ও মুক্তির এক বাঁধভাঙা প্রকাশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস এর শিরোনাম ছিল, ‘PAKISTANIS SURRENDER IN DACCA; INDIA ORDERS CEASE-FIRE ON WEST’। এতে বলা হয় ঢাকায় ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের যুদ্ধ শেষ হলো। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পশ্চিম রণাঙ্গনেও একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন, যা উপমহাদেশে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনবে। যুদ্ধ শেষে ঢাকার সামগ্রিক চিত্রকে ভয়াবহ ‘গণহত্যা-পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞ’-এর জ্বলন্ত সাক্ষী হিসাবে তুলে ধরে বিদেশি গণমাধ্যমগুলো। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলো এটিকে কেবল সামরিক যুদ্ধ হিসেবে নয়, বরং জাতিগত নির্মূল (Ethnic Cleansing) এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ধ্বংস হিসেবে বর্ণনা করে। একই সঙ্গে প্রায় সব খবরেই চূড়ান্ত উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করা হয় পাকিস্তানে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থান নিয়ে।

বিশ্ববাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ অবিলম্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি দাবি করেন। ভারতের লোকসভায় ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন মুক্ত, স্বাধীন।

তথ্যসূত্র:

আনন্দবাজার পত্রিকা, ভারত

একাত্তরের দিনপঞ্জি, সাজ্জাদ শরিফ, রাশেদুর রহমান

বিষয়: মুক্তিযুদ্ধবাংলাদেশবিজয় দিবস১৬ই ডিসেম্বর
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সৌদিপ্রবাসী কর্মীদের কাজে যোগদান ও চাকরির নিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এসএবিসিসিআই

  • ২

    ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯২০

  • ৩

    ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক

  • ৪

    ট্রাম্প যে কারণে ছাড় দিচ্ছেন পুতিনকে

  • ৫

    দীর্ঘ বিলম্বের পর চালু হচ্ছে চীন-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী সেতু

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই