আরমান ভূঁইয়া

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এসব অপরাধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে গেল ২০২৫ সালে।
বছরের শুরু থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে রাজধানীর ভাটারা থানার ভেতর থেকে খোদ এক পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত শনিবার ভোরে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি থানার কম্পাউন্ডে ঢুকে পার্কিংয়ে রাখা মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মোটরসাইকেলটি থানার অভ্যন্তরীণ পার্কিং থেকে চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু যে অপেক্ষাকৃত জনবিরল বা অনিরাপদ স্থানে ঘটছে, তা কিন্তু নয়। ঘটছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিল্পাঞ্চলেও। গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকায় র্যাব পরিচয়ে একটি জুয়েলারি দোকানের দুই কর্মচারীকে অপহরণ করে ৮০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা গামছা দিয়ে তাদের চোখ বেঁধে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আহত ওই দুই ব্যক্তি হলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজী জুয়েলারী নামের একটি দোকানের কর্মচারী মোজাম্মেল হক হুমায়ুন (৫৫) ও ফজলে রাব্বি (৪৮)।
ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক হুমায়ুন বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ এমন ভয়ংকর কাজ করতে পারে। চোখ বেঁধে আমাদের মারধর করা হয়, টাকা কেড়ে নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল বেঁচে ফিরতে পারব না। এখনো রাতে ঘুমাতে পারি না, রাস্তায় বের হলে ভয় লাগে।”

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ৯ হাজার ৬৭২টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ হাজার ৯৩৫টি এবং ডাকাতির ঘটনায় ৭০২টি মামলা হয়েছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল বেশ কিছুটা কম। ওই বছরে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৮ হাজার ৬৫৫টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ হাজার ৪১২টি এবং ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৪৯০টি।
এই দুই বছরের হিসাব দেখলেই এটি স্পষ্ট যে, দেশে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বাড়ছে। তবে আরও কিছু বছর পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, ২০২৫ সালে আসলে গত ৫ বছরের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা ছিল যথাক্রমে ৯ হাজার ৪৭৫টি, ১ হাজার ২২৭টি ও ৩১৯টি। ২০২২ সালে ছিল ৯ হাজার ৫৯১টি চুরি, ১ হাজার ১২৮টি ছিনতাই এবং ৪০৬টি ডাকাতির মামলা। এবং ২০২১ সালে এই মামলার সংখ্যা চুরির ক্ষেত্রে ছিল ৮ হাজার ৪৯৮টি, ছিনতাইয়ে ৯৭১টি ও ডাকাতির ক্ষেত্রে ৩০৮টি।

শুধু যে সাধারণ মানুষই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির শিকার হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও এসবের শিকার হচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারি গাজীপুরের বাসন থানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সদস্য মোহাম্মদ হাবীব চৌধুরীর কাছ থেকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে ডেকে নেয়। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
এ ঘটনার শিকার হাবীব চৌধুরীর অভিজ্ঞতা হচ্ছে, গুলি ছোড়ার শব্দ শুনেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। তার কথা হলো, “এখন মনে হচ্ছে, কেউই নিরাপদ নয়। রাজনীতি করি বা না করি, সবাই ঝুঁকির মধ্যে।”

জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আশা, বাড়তে থাকা চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির লাগাম টানতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এ বিষয়ে চরচা’কে বলেন, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার, চেকপোস্ট বৃদ্ধি, হটস্পট এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক চরচা’কে বলেন, “একটি দেশে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তখন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে এর পেছনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসব অপরাধের বড় একটি অংশ জীবন-জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে যুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে এই অপরাধের মাধ্যমে মাদকের অর্থ জোগান দেওয়া হয় কিংবা ন্যূনতম জীবিকা টিকিয়ে রাখা হয়। ফলে রাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত মানুষের যোগ্যতা, অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারবে এবং একই সঙ্গে কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হবে, ততদিন এসব অপরাধ উর্ধ্বমুখীই থাকবে।”
এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “এ ধরনের অপরাধ যত বাড়তে থাকে, নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধ তত কমে যায়। মানুষের মধ্যে স্থায়ী এক ধরনের ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করে-বাইরে বের হলে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা, বাসা ফাঁকা রাখলে চুরি বা ডাকাতির ভয়। কোথাও যেতে গেলেই মনে হয়, যেকোনো সময় অপরাধের মুখে পড়তে হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা ও ভয় নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে এবং সামাজিকভাবে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এসব অপরাধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে গেল ২০২৫ সালে।
বছরের শুরু থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে রাজধানীর ভাটারা থানার ভেতর থেকে খোদ এক পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত শনিবার ভোরে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি থানার কম্পাউন্ডে ঢুকে পার্কিংয়ে রাখা মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, মোটরসাইকেলটি থানার অভ্যন্তরীণ পার্কিং থেকে চুরি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু যে অপেক্ষাকৃত জনবিরল বা অনিরাপদ স্থানে ঘটছে, তা কিন্তু নয়। ঘটছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিল্পাঞ্চলেও। গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাতুয়াইল এলাকায় র্যাব পরিচয়ে একটি জুয়েলারি দোকানের দুই কর্মচারীকে অপহরণ করে ৮০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা গামছা দিয়ে তাদের চোখ বেঁধে মারধর করে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আহত ওই দুই ব্যক্তি হলেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজী জুয়েলারী নামের একটি দোকানের কর্মচারী মোজাম্মেল হক হুমায়ুন (৫৫) ও ফজলে রাব্বি (৪৮)।
ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হক হুমায়ুন বলেন, “আমরা কখনো ভাবিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ এমন ভয়ংকর কাজ করতে পারে। চোখ বেঁধে আমাদের মারধর করা হয়, টাকা কেড়ে নেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল বেঁচে ফিরতে পারব না। এখনো রাতে ঘুমাতে পারি না, রাস্তায় বের হলে ভয় লাগে।”

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ৯ হাজার ৬৭২টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ হাজার ৯৩৫টি এবং ডাকাতির ঘটনায় ৭০২টি মামলা হয়েছে। যেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল বেশ কিছুটা কম। ওই বছরে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৮ হাজার ৬৫৫টি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১ হাজার ৪১২টি এবং ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছিল ৪৯০টি।
এই দুই বছরের হিসাব দেখলেই এটি স্পষ্ট যে, দেশে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি বাড়ছে। তবে আরও কিছু বছর পিছিয়ে গেলে দেখা যাবে, ২০২৫ সালে আসলে গত ৫ বছরের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মামলা ছিল যথাক্রমে ৯ হাজার ৪৭৫টি, ১ হাজার ২২৭টি ও ৩১৯টি। ২০২২ সালে ছিল ৯ হাজার ৫৯১টি চুরি, ১ হাজার ১২৮টি ছিনতাই এবং ৪০৬টি ডাকাতির মামলা। এবং ২০২১ সালে এই মামলার সংখ্যা চুরির ক্ষেত্রে ছিল ৮ হাজার ৪৯৮টি, ছিনতাইয়ে ৯৭১টি ও ডাকাতির ক্ষেত্রে ৩০৮টি।

শুধু যে সাধারণ মানুষই চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির শিকার হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও এসবের শিকার হচ্ছে। গত ৮ জানুয়ারি গাজীপুরের বাসন থানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক সদস্য মোহাম্মদ হাবীব চৌধুরীর কাছ থেকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে তাকে ডেকে নেয়। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সৌভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
এ ঘটনার শিকার হাবীব চৌধুরীর অভিজ্ঞতা হচ্ছে, গুলি ছোড়ার শব্দ শুনেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। তার কথা হলো, “এখন মনে হচ্ছে, কেউই নিরাপদ নয়। রাজনীতি করি বা না করি, সবাই ঝুঁকির মধ্যে।”

জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আশা, বাড়তে থাকা চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির লাগাম টানতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন এ বিষয়ে চরচা’কে বলেন, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার, চেকপোস্ট বৃদ্ধি, হটস্পট এলাকায় বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। সেই সাথে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইন প্রয়োগে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক চরচা’কে বলেন, “একটি দেশে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তখন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। তবে এর পেছনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসব অপরাধের বড় একটি অংশ জীবন-জীবিকা নির্বাহের সঙ্গে যুক্ত। অনেক ক্ষেত্রে এই অপরাধের মাধ্যমে মাদকের অর্থ জোগান দেওয়া হয় কিংবা ন্যূনতম জীবিকা টিকিয়ে রাখা হয়। ফলে রাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত মানুষের যোগ্যতা, অবস্থান ও দক্ষতা অনুযায়ী টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারবে এবং একই সঙ্গে কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব অপরাধ দমন করতে ব্যর্থ হবে, ততদিন এসব অপরাধ উর্ধ্বমুখীই থাকবে।”
এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, “এ ধরনের অপরাধ যত বাড়তে থাকে, নাগরিকদের নিরাপত্তাবোধ তত কমে যায়। মানুষের মধ্যে স্থায়ী এক ধরনের ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করে-বাইরে বের হলে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা, বাসা ফাঁকা রাখলে চুরি বা ডাকাতির ভয়। কোথাও যেতে গেলেই মনে হয়, যেকোনো সময় অপরাধের মুখে পড়তে হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা ও ভয় নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে এবং সামাজিকভাবে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

অনেক এলাকায় চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। কোথাও গভীর রাতে সামান্য গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ছোট ছোট খাবারের দোকানগুলোতে রান্না ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নার বিকল্প হিসেবে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করছেন, কেউ আবার বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।