Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> মতামত

জুলাই সনদ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশের হারানো বিশ্বাস

রহমান মৃধা

রহমান মৃধা

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ০০
জুলাই সনদ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশের হারানো বিশ্বাস

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে মনে হয়, গণভোট ও জুলাই সনদের ধারণা সবচেয়ে বেশি বহন করেছিলেন শেখ হাসিনা। সেই সনদ ধারণ করার রাজনৈতিক মূল্য হিসেবেই তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। অথচ যারা কার্যত কিছু না করে ওই সনদের উত্তরাধিকার দাবি করতে চেয়েছিলেন, তারা আজও দ্বিধা ও দ্বন্দ্বে আবদ্ধ।

Advertisement

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই স্বৈরশাসন, ভোট জালিয়াতি, ত্রাণ ও কম্বল চুরির মতো অনৈতিকতার সংস্কৃতি বিদ্যমান। জিয়া থেকে এরশাদ পর্যন্ত শাসনামলেও সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। একটি আঞ্চলিক প্রবাদ আছে—“সব মাছে গু খায়, ঘাউরা মাছের দোষ হয়।” কিন্তু শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি শুধু স্বৈরাচারী উপাধিই অর্জন করেননি; বিনিময়ে বাংলাদেশকেও আন্তর্জাতিক পরিসরে এক ধরনের বর্জনের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা দলের ছিল না; এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই আপামর জনগণের। অথচ সেই জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক জুলাই সনদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, অপমানিত করা হয়েছে এবং ‘হ্যাঁ’–‘না’ ভোটের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।

যে সনদ ছিল সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক—সুইডিশ ভাষায় যাকে বলা যায় “självklara valet”, অর্থাৎ স্বাভাবিক ও অনিবার্য—সেই সনদ নিয়েই আজ একটি বড় গোষ্ঠী সংশয় প্রকাশ করছে। যখন একটি জাতি এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন ধরে নিতে হয় তার নৈতিক বোধে অবক্ষয় ঘটেছে। যে জাতি নিজের বিপদকে ঈশ্বরের পরীক্ষা বলে মেনে নেয়, কিন্তু অন্যের বিপদকে পাপের শাস্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করে, সেখানে এই নৈতিক দ্বিচারিতা গভীরভাবে প্রোথিত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমি ‘নেমকহারাম’ শব্দটির অর্থ জানি। আমি নেমকহারাম দেখেছি, নেমকহারামি করতেও দেখেছি। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদদের মতো পরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক নেমকহারামি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি। সত্য বলতে কী, অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য জুলাই সনদকে ব্যবহার করেছে। সম্ভবত এই কারণেই সমাজের একাংশ মনঃক্ষুণ্ন হয়েছে এবং দুঃখের সঙ্গে বলছে, তারা আর জুলাই সনদ ধারণ করে না। আমার বিশ্বাস, এটি অভিমান থেকে বলা—মন থেকে নয়।

এবার আসা যাক অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতায়ন এবং গত ১৮ মাসে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গে। জাতির প্রত্যাশা ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে। সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি শুধু নিজেই পরাজিত হননি, আমাদেরকেও পরাজিত করেছেন। ওসমান হাদি তাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন তিনি জাতির সামনে স্পষ্ট করে বলেন—কারা তাকে সঠিক পথে দেশ পরিচালনায় বাধা দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এই নীরবতাই জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এই দায় কি তিনি এড়াতে পারবেন?

রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তিনি যখন বলেন, “জালিয়াতিতে বাংলাদেশ পৃথিবীতে চ্যাম্পিয়ন,” তখন সেই বক্তব্য আর ব্যক্তিগত মত থাকে না—তা রাষ্ট্রের ভাষায় পরিণত হয়। বিশেষত যখন সেই ব্যক্তি মুহাম্মদ ইউনূসের মতো নোবেলজয়ী ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হন, তখন তার প্রতিটি উচ্চারণ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর প্রতিধ্বনিত হয়।

বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমাদের সব জিনিস জাল। ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল। আমরা একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই বক্তব্যের সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ নাগরিকদের ওপর—যাদের বড় একটি অংশ কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা পর্যটনের জন্য ভিসা ও পাসপোর্টের ওপর নির্ভরশীল।

পাসপোর্ট খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সেবাখাতের মধ্যে পাসপোর্ট সেবায় মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছে।

মনে পড়ে, শেখ হাসিনাকেও একসময় বলতে শুনেছি—তার বাড়ির কাজের লোক নাকি ৪০০ কোটি টাকার মালিক। সেদিনই আমি ধরে নিয়েছিলাম, তার সময় ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু তিনি সেই বাস্তবতা আজও মেনে নিতে পারেননি। আফসোস।

দেশটা যে কারও বাপের নয়, কারও মায়ের নয়, বা কোনো পরিবারের নয়—এই সত্য আমরা এখনো প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।

এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য শুধু সময়ের সঙ্গে বেমানান নয়; তা মানবিক ও নৈতিক সীমা ভয়ংকরভাবে লঙ্ঘন করেছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়ে তার মন্তব্য এমন এক মানসিকতা প্রকাশ করে, যা ইতিহাস, বাস্তবতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ—তিনটির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। রাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রায় ৩০ বছর দেশ পরিচালনা করেছেন নারী নেতৃত্ব। মুক্তিযুদ্ধ, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নারীরা প্রমাণ করেছেন—নেতৃত্ব কোনো লিঙ্গনির্ভর বিষয় নয়।

এই বাস্তবতার পরও যখন একজন রাজনৈতিক নেতা কর্মজীবী নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেন, তখন তা শুধু নারী অবমাননা নয়—এটি একটি রাষ্ট্রচিন্তার ঘোষণা। এখানেই প্রশ্ন উঠে আসে, রাষ্ট্র পরিচালনায় আমরা কোন মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

রাজনীতি, দুর্নীতি এবং বহিরাগত চাপ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট কেবল অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়; এটি এখন গঠনগত ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা ক্ষয় করেছে। এই আস্থাহীনতার সুযোগে বহিরাগত শক্তিগুলো প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র খুঁজে পাচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বীকে শত্রু হিসেবে দেখার এই প্রবণতা দেশকে জনগণের রাষ্ট্র থেকে স্বার্থের সংঘর্ষস্থলে পরিণত করছে।

এখানেই মূল প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে যায়—আমরা কি সত্যিকার অর্থে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সার্বভৌম ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই, নাকি কেবল ক্ষমতার নতুন বন্দোবস্তেই সন্তুষ্ট থাকব? যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার আস্থার সংকটে পড়ে, তবে মানুষের বিশ্বাস আর ফিরে আসবে না। তখন রাজনীতি জনগণের হাতিয়ার না হয়ে দেশি–বিদেশি স্বার্থের কৌশলগত মাঠে পরিণত হবে।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

রহমান মৃধা: গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: মুক্ত আলোচনাজুলাই সনদরাজনীতিমুক্ত মত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

  • ২

    ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কী লাগে? ৫টি যোগ্যতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি?

  • ৩

    বাংলাদেশ লিড নেওয়ার আশায় বাধা রহমতের প্রতিরোধ

  • ৪

    কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

  • ৫

    দিল্লিতে লকডাউন পরিস্থিতি: ৬ হাজার আটক, সিজেপির আন্দোলন ‘চলবে’

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।