Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> মতামত

ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি: মাটির দেহ পায় না মাটির স্পর্শ

শাহাবুদ্দিন শুভ

প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৫৬
ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি: মাটির দেহ পায় না মাটির স্পর্শ

খবর কিংবা ফেসবুকের নিউজফিডে বারবার ভেসে আসা একটি সংবাদ যেন হৃদয়কে বারবার ক্ষতবিক্ষত করছে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া কিছু তরুণের করুণ মৃত্যু—ভূমধ্যসাগরের অথৈ জলে। লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার। এই মৃত্যু শুধু সংখ্যা নয়; এটি ১৮টি স্বপ্নের মৃত্যু, ১৮টি পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেঙে পড়ার গল্প।

Advertisement

সুখের সন্ধানে ঘর ছেড়েছিলেন তারা। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, অভাবের সংসারে স্বস্তি আনতে, হয়তো বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে কিংবা ভাইবোনের পড়াশোনার খরচ জোগাতে—এই ছিল তাদের অপরাধ। কিন্তু সেই স্বপ্নই পরিণত হলো দুঃস্বপ্নে। দালালদের প্রলোভনে পড়ে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন এক অনিশ্চিত পথে—যেখানে প্রতিটি ধাপেই লুকিয়ে থাকে মৃত্যু।

প্রত্যেকেই ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা করে দিয়েছেন মানবপাচারকারী চক্রকে। কেউ জমি বিক্রি করেছেন, কেউ ঋণ নিয়েছেন, কেউ বা পরিবারের শেষ সম্বলটুকু পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছেন। তারপরও তারা জানতেন না, তাদের যাত্রা শেষ হবে এক অচেনা সাগরের বুকে। লিবিয়ায় নিয়ে ‘গেমঘর’ নামের অমানবিক বন্দিশালায় মাসের পর মাস আটকে রেখে, সুযোগ বুঝে তাদের তুলে দেওয়া হয় ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায়।

তারপর শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। চারদিকে শুধু পানি—অসীম জলরাশি, কিন্তু এক ফোঁটা পানযোগ্য নয়। খাদ্য নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই, নেই কোনো নিরাপত্তা। টানা কয়েক দিন সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে ক্লান্তি, ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় একে একে নিভে যায় জীবনের প্রদীপ। অবশেষে নিথর দেহগুলোও আর সম্মান পায় না—পাচারকারীদের নির্দেশে সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি আমাদের সমাজের, আমাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। কেন একটি তরুণকে জীবন বাজি রেখে অবৈধ পথে বিদেশ যেতে হয়? কেন সে বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও বিদেশে যাওয়া তার জন্য একমাত্র পথ? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই—অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব এবং বিদেশে উন্নত জীবনের মোহ তাকে ঠেলে দেয় এই অন্ধকার পথে।

বাস্তবতা হলো, ইউরোপে পৌঁছালেই জীবন বদলে যায় না। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া একজন অভিবাসীর জীবন হয় আরও কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তা, শোষণ আর অবহেলার মধ্যে দিন কাটাতে হয়। যেখানে একজন বৈধ কর্মী ৮ ঘণ্টা কাজ করেন, সেখানে একজন কাগজবিহীন শ্রমিককে ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করানো হয়। ন্যায্য মজুরি তো দূরের কথা, মানবিক আচরণও অনেক সময় পাওয়া যায় না।

তবুও কেন এই ঝুঁকি? কারণ আমরা বাস্তবতা জানি না, কিংবা জানতে চাই না। আমরা শুধু সফলতার গল্প শুনি, ব্যর্থতার আর্তনাদ আমাদের কানে পৌঁছায় না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝকঝকে জীবনের ছবি দেখে আমরা বিশ্বাস করি—বিদেশ মানেই সাফল্য। আর এই ভুল ধারণাকেই পুঁজি করে সক্রিয় থাকে মানবপাচারকারী চক্র।

লেখক
লেখক

এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। যারা মানুষের স্বপ্নকে পণ্য বানিয়ে ব্যবসা করে, যারা নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়—তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যায় না। শুধু গ্রেপ্তার নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।

একই সঙ্গে প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গায় মানুষকে জানাতে হবে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহতা। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন—সবখানে এই বার্তা পৌঁছাতে হবে: “অবৈধ পথে বিদেশ মানেই অনিশ্চিত জীবন, অনেক সময় নিশ্চিত মৃত্যু।”

সরকারি পর্যায়েও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে মানুষ দালালের ফাঁদে না পড়ে। বিদেশগামীদের জন্য প্রশিক্ষণ, তথ্যসেবা এবং সহায়তা বাড়াতে হবে।

সবশেষে, এই নির্মম ঘটনাগুলো আমাদের একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—একটি জীবনের মূল্য কি এতটাই কম?

কত নির্মম এই বিদায়—
যেখানে শেষ আশ্রয়টুকুও মেলে না,
মাটির দেহ পায় না
মাটির স্পর্শ।

এই মৃত্যু যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না করে—এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

শাহাবুদ্দিন শুভ: ফ্রান্সপ্রবাসী সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক

ইমেইল: [email protected]

বিষয়: মৃত্যুমানব পাচারকারী চক্রমুক্ত মতনৌকাডুবিভূমধ্যসাগরমুক্ত আলোচনামানবপাচার
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    আইজিপির ক্রসফায়ারের বক্তব্য প্রত্যাহার ও জবাবদিহি দাবি টিআইবির

  • ২

    হুতিদের হামলায় সৌদি আরবজুড়ে বিমান চলাচল যেভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে

  • ৩

    বেসরকারি ব্যাংক থেকে অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের এমডি নিয়োগ

  • ৪

    বিকাশে বিল পেমেন্ট করে স্মার্ট টিভি জিতলেন ১৫ জন

  • ৫

    একজন মুক্তিযোদ্ধার অসম্মান: তাসনিম জারার প্রশ্ন ও বিএনপির নীরবতা

সম্পর্কিত
  • ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডেগ বাণিজ্য এবং ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

    ডিসি সারওয়ার আলমের মতো অফিসার কম, তবে শূন্য নয়। তিনি নিজেই একটা ব্র্যান্ড। সুতরাং তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মতো কিছু নেই। তিনি এক সময় ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে বহু অসাধু ব্যবসায়ীকে জেলে পুরেছেন।

  • কিংবদন্তির জন্ম

    কিংবদন্তির জন্ম

    পেলে জানে হাজার মাইল দূরে তার বাবা অন্যের টেলিভিশনের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলের খেলা দেখছেন। অথবা রেডিওতে ধারাবিবরণী শুনছেন। পেলের মনে আছে আট বছর আগে কীভাবে তার বাবা কেঁদেছিলেন। সে তার বাবাকে এবারও কাঁদাতে চায়, তবে এবার যেন সেই অশ্রু হয় আনন্দের। গর্বের। স্বপ্ন পূরণের।

  • বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা: ২৮ বছরের এক প্রবাসযাত্রায় মানুষের পাশে থাকার গল্প

    প্রবাসজীবনের প্রথম দিকের সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং শৃঙ্খলার গুরুত্ব, যা পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

  • চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    চলে গেছেন খামেনি, ইরান থামেনি: নতুন বাস্তবতা ও শান্তি চুক্তির পূর্বাপর

    ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকটই একটি চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শেষ হয়নি। বর্তমান সমঝোতাও তার ব্যতিক্রম হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগের অবস্থায় আর ফিরবে না।