নাইর ইকবাল

১৯৭৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ২০৭ আসনে জয় পেয়েছিল দলটি। ৭৯’র নির্বাচনের ৪৬ বছর পর দলটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেল। ১৯৯৬ সালের একতরফা ও বিরোধীদলবিহীন ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮ আসন পেলেও নির্বাচনটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সে হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনই এখন বিএনপির সেরা নির্বাচনী সাফল্য।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে নিহত হন। এরপর দলের হাল ধরেছিলেন তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়া। তিনি এর পরের এক দশক বিএনপিকে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সরকার গড়ার মতো আসন তারা লাভ করতে পারেনি। পরে নিজেদের ১৮ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে সমর্থন দিলে তারা সরকার গঠন করে। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথমে এরশাদের সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপি ছিল না ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনেও।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি ছিল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধী দলের বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপি ছিল একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিহীন। ২৭৮ আসন তাই দলটির জন্য গর্বের কোনো বিষয় নয় কখনোই। একপেশে সেই নির্বাচনে গঠিত সংসদ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৩ দিন। বিএনপি সব সময়ই বলে এসেছে শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যেই বাধ্য হয়ে তাদের সেই একতরফা নির্বাচনটি করতে হয়েছিল।
সেই নির্বাচনের ঠিক চার মাস পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হেরেছিল। তারপরেও বিএনপি জিতেছিল ১১৬টি আসন। এখনো পর্যন্ত জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল তারাই। সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও বিএনপির চেয়ে আর কোনো দলই বেশি আসন জিততে পারেনি।

২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় ফেরে। তবে সেবার তারা একা ছিল না। চারদলীয় জোটের মোড়কে বিএনপির বড় সঙ্গী ছিল জামায়াত। ছিল নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও ইসলামী ঐক্যজোট। ২০০১ নির্বাচনে একক দল হিসেবে বিএনপি ১৯৩ আসন পেয়েছিল। জামায়াত, বিজেপি ও ইসলামী ঐক্যজোটের আসন মিলে সেবার সংসদে দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছিল চারদলীয় জোট। ২০০৮ সালে সেই চারদলীয় জোটেরই ভরাডুবি হয়েছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি এককভাবে পেয়েছিল মাত্র ৩০ আসন। জামায়াত পেয়েছিল ২টি, বিজেপি ১টি।
নবম সংসদ নির্বাচনে ২৩০টির বেশি আসনে জিতেছিল আওয়ামী লীগ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ ও কারচুপির নির্বাচন আয়োজন করে ১৫ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে দলটি। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ২০১৪ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দুটি সংসদের বাইরে থাকার পর ২০১৪ সালের পরই সংসদে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ২০১৮ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও বিতর্কিত সেই নির্বাচনে দলটির ভাগ্যে জোটে মাত্র ৬টি আসন। সংসদে সেটিই ছিল বিএনপির সর্বনিম্ন সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব। ২০২৪ সালে বিএনপি আবারও নির্বাচন বর্জন করে। বিএনপিবিহীন সেই সংসদ অবশ্য ৭ মাসের বেশি টিকতে পারেনি। জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের।
জুলাই–অভ্যুত্থানের ১৮ মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এসে বিএনপি পেল ভূমিধস এক বিজয়। প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছরের মাথায় এসে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাতে গড়া বিএনপি তাদের ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৈরি করল নতুন এক ইতিহাস।

১৯৭৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ২০৭ আসনে জয় পেয়েছিল দলটি। ৭৯’র নির্বাচনের ৪৬ বছর পর দলটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেল। ১৯৯৬ সালের একতরফা ও বিরোধীদলবিহীন ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৭৮ আসন পেলেও নির্বাচনটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সে হিসেবে এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনই এখন বিএনপির সেরা নির্বাচনী সাফল্য।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে নিহত হন। এরপর দলের হাল ধরেছিলেন তার সহধর্মিনী খালেদা জিয়া। তিনি এর পরের এক দশক বিএনপিকে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও সরকার গড়ার মতো আসন তারা লাভ করতে পারেনি। পরে নিজেদের ১৮ আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে সমর্থন দিলে তারা সরকার গঠন করে। এর আগে ১৯৮৬ সালে প্রথমে এরশাদের সামরিক শাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। বিএনপি ছিল না ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনেও।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি ছিল বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ। বিরোধী দলের বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপি ছিল একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিহীন। ২৭৮ আসন তাই দলটির জন্য গর্বের কোনো বিষয় নয় কখনোই। একপেশে সেই নির্বাচনে গঠিত সংসদ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৩ দিন। বিএনপি সব সময়ই বলে এসেছে শুধুমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যেই বাধ্য হয়ে তাদের সেই একতরফা নির্বাচনটি করতে হয়েছিল।
সেই নির্বাচনের ঠিক চার মাস পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি হেরেছিল। তারপরেও বিএনপি জিতেছিল ১১৬টি আসন। এখনো পর্যন্ত জাতীয় সংসদে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল তারাই। সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও বিএনপির চেয়ে আর কোনো দলই বেশি আসন জিততে পারেনি।

২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় ফেরে। তবে সেবার তারা একা ছিল না। চারদলীয় জোটের মোড়কে বিএনপির বড় সঙ্গী ছিল জামায়াত। ছিল নাজিউর রহমান মঞ্জুর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও ইসলামী ঐক্যজোট। ২০০১ নির্বাচনে একক দল হিসেবে বিএনপি ১৯৩ আসন পেয়েছিল। জামায়াত, বিজেপি ও ইসলামী ঐক্যজোটের আসন মিলে সেবার সংসদে দুই–তৃতীয়াংশ আসন পেয়েছিল চারদলীয় জোট। ২০০৮ সালে সেই চারদলীয় জোটেরই ভরাডুবি হয়েছিল নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি এককভাবে পেয়েছিল মাত্র ৩০ আসন। জামায়াত পেয়েছিল ২টি, বিজেপি ১টি।
নবম সংসদ নির্বাচনে ২৩০টির বেশি আসনে জিতেছিল আওয়ামী লীগ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তারা ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর তিনটি প্রশ্নবিদ্ধ ও কারচুপির নির্বাচন আয়োজন করে ১৫ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে দলটি। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে ২০১৪ সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দুটি সংসদের বাইরে থাকার পর ২০১৪ সালের পরই সংসদে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। ২০১৮ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও বিতর্কিত সেই নির্বাচনে দলটির ভাগ্যে জোটে মাত্র ৬টি আসন। সংসদে সেটিই ছিল বিএনপির সর্বনিম্ন সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব। ২০২৪ সালে বিএনপি আবারও নির্বাচন বর্জন করে। বিএনপিবিহীন সেই সংসদ অবশ্য ৭ মাসের বেশি টিকতে পারেনি। জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের।
জুলাই–অভ্যুত্থানের ১৮ মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এসে বিএনপি পেল ভূমিধস এক বিজয়। প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছরের মাথায় এসে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার হাতে গড়া বিএনপি তাদের ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৈরি করল নতুন এক ইতিহাস।