চরচা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আজ বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহাসিক এই শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের উপস্থিত থাকার ঘটনা নজিরবিহীন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যেসব শিশুর বাবা-মা অবৈধভাবে কিংবা সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাদের সন্তানরা আপনা-আপনিই মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না।
এর আগে নিম্ন আদালতগুলো ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে স্থগিত করে দেয়। আদালত জানায়, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ‘নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী, মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেকেই সে দেশের নাগরিক।
সংশোধনীতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্ব পাওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই মার্কিন নাগরিক।” তবে এটি বিদেশি কূটনীতিক বা সার্বভৌম আদিবাসী আমেরিকানদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি সেখানে যাচ্ছি।” ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিল গোরসাচের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে নিজের প্রশাসনের লড়ে যাওয়া কোনো মামলার শুনানিতে প্রেসিডেন্টের উপস্থিত হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের আইনের অধ্যাপক স্টিভেন শোয়িন বলেন, আদালত সম্ভবত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেবে। তিনি বলেন, “এই আদালত সংবিধান বোঝার ক্ষেত্রে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে নজর দেয়। দেড়শ বছর পর হঠাৎ করে যদি দেখা যায় আমরা নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদের ভুল প্রয়োগ করছি, তবে তা হবে বিস্ময়কর।”
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীলদের ৬-৩ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার বলেছেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ’ করতে হবে এবং দেশটির ‘পূর্ণ এখতিয়ারভুক্ত’ হতে হবে।
আদালতে জমা দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে সাউয়ার বলেন,“‘সাময়িকভাবে অবস্থানরত বিদেশি বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত নয়। একজন ব্যক্তি কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত হবেন, যদি তিনি দেশটির প্রতি যথেষ্ট অনুগত থাকেন এবং রাষ্ট্রের কাছে সুরক্ষা দাবি করতে পারেন।”
সুপ্রিম কোর্ট যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে চলতি মেয়াদে এটি হবে ট্রাম্পের জন্য দ্বিতীয় বড় পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত তার বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল।
ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ‘বড় জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি বিচারকদের ‘বোকা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
অন্যদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে লড়াই করা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের জাতির সাংবিধানিক ভিত্তি বদলে দিতে চাইছে। এই ভিত্তিহীন যুক্তি গ্রহণ করা হলে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোটি কোটি আমেরিকানের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আজ বুধবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঐতিহাসিক এই শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্টের উপস্থিত থাকার ঘটনা নজিরবিহীন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যেসব শিশুর বাবা-মা অবৈধভাবে কিংবা সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন, তাদের সন্তানরা আপনা-আপনিই মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না।
এর আগে নিম্ন আদালতগুলো ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক বলে স্থগিত করে দেয়। আদালত জানায়, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর ‘নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদ’ অনুযায়ী, মার্কিন ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেকেই সে দেশের নাগরিক।
সংশোধনীতে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্ব পাওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই মার্কিন নাগরিক।” তবে এটি বিদেশি কূটনীতিক বা সার্বভৌম আদিবাসী আমেরিকানদের মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি সেখানে যাচ্ছি।” ২০১৭ সালে তার প্রথম মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিল গোরসাচের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে নিজের প্রশাসনের লড়ে যাওয়া কোনো মামলার শুনানিতে প্রেসিডেন্টের উপস্থিত হওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।
ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ের আইনের অধ্যাপক স্টিভেন শোয়িন বলেন, আদালত সম্ভবত জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দেবে। তিনি বলেন, “এই আদালত সংবিধান বোঝার ক্ষেত্রে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে নজর দেয়। দেড়শ বছর পর হঠাৎ করে যদি দেখা যায় আমরা নাগরিকত্ব অনুচ্ছেদের ভুল প্রয়োগ করছি, তবে তা হবে বিস্ময়কর।”
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীলদের ৬-৩ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজনকে ট্রাম্প নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার বলেছেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ’ করতে হবে এবং দেশটির ‘পূর্ণ এখতিয়ারভুক্ত’ হতে হবে।
আদালতে জমা দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে সাউয়ার বলেন,“‘সাময়িকভাবে অবস্থানরত বিদেশি বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত নয়। একজন ব্যক্তি কেবল তখনই যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারভুক্ত হবেন, যদি তিনি দেশটির প্রতি যথেষ্ট অনুগত থাকেন এবং রাষ্ট্রের কাছে সুরক্ষা দাবি করতে পারেন।”
সুপ্রিম কোর্ট যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের এই আবেদন খারিজ করে দেয়, তবে চলতি মেয়াদে এটি হবে ট্রাম্পের জন্য দ্বিতীয় বড় পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত তার বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিল।
ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টিকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ‘বড় জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি বিচারকদের ‘বোকা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
অন্যদিকে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পক্ষে লড়াই করা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন আমাদের জাতির সাংবিধানিক ভিত্তি বদলে দিতে চাইছে। এই ভিত্তিহীন যুক্তি গ্রহণ করা হলে কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা কোটি কোটি আমেরিকানের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই মামলার চূড়ান্ত রায় আগামী জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।