চরচা ডেস্ক

চার বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছিল। রাশিয়া ও চীন—এ দুটি দেশই বিশ্বের অন্যতম শস্য উৎপাদনকারী দেশ। তবুও তখন বিশ্ব একটি মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে তখন দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা ছিল। কারণ গমসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম হয়ে গিয়েছিল আকাশচুম্বী। এ অবস্থায় ইউক্রেন-রাশিয়া দুই শত্রু দেশ কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে শস্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংবাদপত্রের শিরোনাম থেকে ক্ষুধার খবর হারিয়ে যায়। কিন্তু দরিদ্র মানুষের জীবন থেকে ক্ষুধা চলে যায়নি। ধারণা করা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ পূর্ব ইউরোপের রণক্ষেত্রের চেয়েও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ ঠিক তেমনি এক বিপর্যয়ের হুমকি দিচ্ছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র মানুষেরা ইতিমধ্যে তাদের জমিতে চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছে এবং এক বেলা না খেয়ে থাকছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, যদি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হয়, তবে বর্তমানে অনাহারে থাকা ৩০ কোটি মানুষের সঙ্গে আরও সাড়ে চার কোটি মানুষ যুক্ত হবে। বিশ্ব চাইলে এই পরিণতি এড়াতে পারত। কিন্তু করুণ বাস্তবতা হলো, তা হবে না।
ইরান ও তার প্রতিবেশীরা বড় কোনো খাদ্য রপ্তানিকারক না হলেও, কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। অবরুদ্ধ এই অঞ্চলটি বিশ্ববাজারে বিক্রি হওয়া সারের ৩০ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ (যা সার তৈরির কাঁচামাল এবং রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়) এবং তেলের ১৫ শতাংশ (যা কৃষি যন্ত্রপাতি চালাতে প্রয়োজন) সরবরাহ করে। যদি অবরুদ্ধ প্রণালিতে আটকে থাকা প্রায় ২০ লাখ টন সার দ্রুত ছাড়া না পায়, তবে চাষের মৌসুমে অনেক ফসল সঠিক সময়ে পুষ্টি পাবে না। ফলে ফলন নাটকীয়ভাবে কমবে, দাম বাড়বে এবং শহরের দরিদ্র মানুষরা ক্ষুধার্ত থাকবে।

সারের এই সংকট দরিদ্র বিশ্বের কৃষিব্যবসার যতটা ক্ষতি করবে, প্রান্তিক চাষিদের ঠিক ততটা নয়, কারণ তারা এমনিতেও সার খুব কম ব্যবহার করে। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এখন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার বড় প্রভাব পড়বে গ্রামাঞ্চলে। বিশ্ব এখন এল নিনো নামক আবহাওয়া চক্রের কবলে পড়তে যাচ্ছে, যা কয়েক বছর পর পর পৃথিবীকে সাময়িকভাবে উত্তপ্ত করে এবং বিশ্বজুড়ে খরা ও বন্যার সৃষ্টি করে। এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোতে এল নিনোর প্রভাব কিছুটা ইতিবাচক হলেও দরিদ্র দেশগুলোতে এর পরিণতি প্রায়ই ভয়াবহ হয়। আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়েতে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়; অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা দেয় তীব্র অনাবৃষ্টি। ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনোর কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছিল। সবশেষ ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ওই অঞ্চলে ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা নিয়ে আসে। ফসল নষ্ট হয় এবং হাজার হাজার গবাদি পশু মারা যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সে সময় ৩ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
এ বছরের এল নিনোর প্রকৃত শক্তি উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মের আগে স্পষ্ট হবে না, তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এটি ত্বরান্বিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরও শুষ্ক হবে এবং আর্দ্র অঞ্চলগুলো আরও সিক্ত হবে। এটি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চরম দারিদ্র্যকে আরও প্রকট করে তুলবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। প্রয়োজনীয় সারের সিংহভাগই প্রস্তুত আছে এবং কিছু অঞ্চলে এই বছরের ফসলে তা প্রয়োগ করার মতো সময় এখনও আছে। যদিও কোনো ইউরিয়া সার খরায় পুড়ে যাওয়া ফসল রক্ষা করতে পারবে না, তবুও সারের সতর্ক প্রয়োগ এল নিনোর ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা সীমিত করতে পারে। বিশ্বে খাদ্যেরও অভাব নেই। গাড়ির জ্বালানি (ইথানল) তৈরির জন্য ব্যবহৃত প্রচুর ভুট্টা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জ্বালানি শক থেকে বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা দিয়ে তারা দরিদ্র বিশ্বের খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে।
তবে এসবই তত্ত্ব কথা। ইরানের উচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার চলাচলের অনুমতি দেওয়া; অন্যদিকে আমেরিকারও ইরান থেকে আসা ইউরিয়া সারের জাহাজ আটকে দেওয়া উচিত নয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পেট্রোলের চড়া দাম কৃষকদের কাছে জৈব জ্বালানিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আর ধনী দেশগুলো এখন যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। ফলে এই বিপর্যয় এড়াতে না পারাটাই এখন অবধারিত মনে হচ্ছে। যে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব. সে ক্ষেত্রে এই নিষ্ক্রিয়তা সত্যিই লজ্জাজনক।

চার বছর আগে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছিল। রাশিয়া ও চীন—এ দুটি দেশই বিশ্বের অন্যতম শস্য উৎপাদনকারী দেশ। তবুও তখন বিশ্ব একটি মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে তখন দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা ছিল। কারণ গমসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম হয়ে গিয়েছিল আকাশচুম্বী। এ অবস্থায় ইউক্রেন-রাশিয়া দুই শত্রু দেশ কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরগুলো দিয়ে শস্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সংবাদপত্রের শিরোনাম থেকে ক্ষুধার খবর হারিয়ে যায়। কিন্তু দরিদ্র মানুষের জীবন থেকে ক্ষুধা চলে যায়নি। ধারণা করা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ পূর্ব ইউরোপের রণক্ষেত্রের চেয়েও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোতে বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ ঠিক তেমনি এক বিপর্যয়ের হুমকি দিচ্ছে। আফ্রিকা ও এশিয়ার দরিদ্র মানুষেরা ইতিমধ্যে তাদের জমিতে চাষাবাদ কমিয়ে দিয়েছে এবং এক বেলা না খেয়ে থাকছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করেছে, যদি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া না হয়, তবে বর্তমানে অনাহারে থাকা ৩০ কোটি মানুষের সঙ্গে আরও সাড়ে চার কোটি মানুষ যুক্ত হবে। বিশ্ব চাইলে এই পরিণতি এড়াতে পারত। কিন্তু করুণ বাস্তবতা হলো, তা হবে না।
ইরান ও তার প্রতিবেশীরা বড় কোনো খাদ্য রপ্তানিকারক না হলেও, কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। অবরুদ্ধ এই অঞ্চলটি বিশ্ববাজারে বিক্রি হওয়া সারের ৩০ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ (যা সার তৈরির কাঁচামাল এবং রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়) এবং তেলের ১৫ শতাংশ (যা কৃষি যন্ত্রপাতি চালাতে প্রয়োজন) সরবরাহ করে। যদি অবরুদ্ধ প্রণালিতে আটকে থাকা প্রায় ২০ লাখ টন সার দ্রুত ছাড়া না পায়, তবে চাষের মৌসুমে অনেক ফসল সঠিক সময়ে পুষ্টি পাবে না। ফলে ফলন নাটকীয়ভাবে কমবে, দাম বাড়বে এবং শহরের দরিদ্র মানুষরা ক্ষুধার্ত থাকবে।

সারের এই সংকট দরিদ্র বিশ্বের কৃষিব্যবসার যতটা ক্ষতি করবে, প্রান্তিক চাষিদের ঠিক ততটা নয়, কারণ তারা এমনিতেও সার খুব কম ব্যবহার করে। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে এখন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার বড় প্রভাব পড়বে গ্রামাঞ্চলে। বিশ্ব এখন এল নিনো নামক আবহাওয়া চক্রের কবলে পড়তে যাচ্ছে, যা কয়েক বছর পর পর পৃথিবীকে সাময়িকভাবে উত্তপ্ত করে এবং বিশ্বজুড়ে খরা ও বন্যার সৃষ্টি করে। এবারের এল নিনো বিশেষভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোতে এল নিনোর প্রভাব কিছুটা ইতিবাচক হলেও দরিদ্র দেশগুলোতে এর পরিণতি প্রায়ই ভয়াবহ হয়। আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়েতে অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়; অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা দেয় তীব্র অনাবৃষ্টি। ২০১৫-১৬ সালের সুপার এল নিনোর কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন দুই-তৃতীয়াংশ কমে গিয়েছিল। সবশেষ ২০২৩-২৪ সালের এল নিনো ওই অঞ্চলে ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরা নিয়ে আসে। ফসল নষ্ট হয় এবং হাজার হাজার গবাদি পশু মারা যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, সে সময় ৩ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন ছিল।
এ বছরের এল নিনোর প্রকৃত শক্তি উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মের আগে স্পষ্ট হবে না, তবে একটি বিষয় নিশ্চিত—এটি ত্বরান্বিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে শুষ্ক অঞ্চলগুলো আরও শুষ্ক হবে এবং আর্দ্র অঞ্চলগুলো আরও সিক্ত হবে। এটি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চরম দারিদ্র্যকে আরও প্রকট করে তুলবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। প্রয়োজনীয় সারের সিংহভাগই প্রস্তুত আছে এবং কিছু অঞ্চলে এই বছরের ফসলে তা প্রয়োগ করার মতো সময় এখনও আছে। যদিও কোনো ইউরিয়া সার খরায় পুড়ে যাওয়া ফসল রক্ষা করতে পারবে না, তবুও সারের সতর্ক প্রয়োগ এল নিনোর ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা সীমিত করতে পারে। বিশ্বে খাদ্যেরও অভাব নেই। গাড়ির জ্বালানি (ইথানল) তৈরির জন্য ব্যবহৃত প্রচুর ভুট্টা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া ধনী দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জ্বালানি শক থেকে বাঁচাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা দিয়ে তারা দরিদ্র বিশ্বের খাদ্য সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে।
তবে এসবই তত্ত্ব কথা। ইরানের উচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার চলাচলের অনুমতি দেওয়া; অন্যদিকে আমেরিকারও ইরান থেকে আসা ইউরিয়া সারের জাহাজ আটকে দেওয়া উচিত নয়। দুঃখজনক বিষয় হলো, কোনো পক্ষই এ ব্যাপারে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পেট্রোলের চড়া দাম কৃষকদের কাছে জৈব জ্বালানিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আর ধনী দেশগুলো এখন যার যার স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। ফলে এই বিপর্যয় এড়াতে না পারাটাই এখন অবধারিত মনে হচ্ছে। যে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব. সে ক্ষেত্রে এই নিষ্ক্রিয়তা সত্যিই লজ্জাজনক।