Advertisement Banner

মার্কিন ‘সিস্টেমে’ হামলা চালিয়েছে ইরানি হ্যাকাররা!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মার্কিন ‘সিস্টেমে’ হামলা চালিয়েছে ইরানি হ্যাকাররা!
হ্যাকার। ছবি: রয়টার্স

গত মার্চে লস অ্যাঞ্জেলেসের ট্রানজিট সিস্টেমে সাইবার হামলা চালানোর পেছনে ইরানি হ্যাকাররা দায়ী বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের একদল গবেষক। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাম্বিট সিকিউরিটি’ বিষয়টি জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, হ্যাকাররা লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি থেকে অন্তত ৭০০ গিগাবাইট ইমেইল, ব্যাকআপ এবং অন্যান্য ফাইল চুরি করেছে। চুরি হওয়া এই ডেটাগুলো ভুলবশত ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হয়ে পড়ার পর তারা বিষয়টি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

এর আগে একটি প্রতিবেদনে কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, যে সার্ভারে এই ডেটাগুলো পাওয়া গেছে, তার ডিজিটাল প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এটি পূর্ববর্তী একটি হ্যাকিং অপারেশনের সাথে যুক্ত। ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও গবেষকরা এর আগে সেই অপারেশনটির পেছনে তেহরানের হাত ছিল বলে চিহ্নিত করেছিলেন।

এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেস ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

তবে গত মাসে এক বিবৃতিতে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা তাদের সিস্টেমগুলো পুনরায় সচল করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “হামলার উৎস বা দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্তের অংশ, তাই আমরা এখনই এই নিয়ে কোনো অনুমান করতে চাই না।”

আবাবিল অফ মিনা নামের একটি ইরানপন্থী গ্রুপ এই হামলার দায় স্বীকার করার পর থেকেই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছিলেন, এর পেছনে ইরানের হাত রয়েছে। গ্রুপটির নাম ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনাকে নির্দেশ করে।

ওই হামলায় ১৭৫ জনের বেশি শিশু ও শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন বলে সেখানকার কর্মকর্তারা দাবি করেন। আমেরিকা ও ইসরায়েলি গবেষকদের মতে, এই গ্রুপের কাজের ধরণ মূলত সেইসব স্বঘোষিত পাহারাদার হ্যাকার গ্রুপগুলোর মতো, যারা আসলে ইরানি গোয়েন্দাদের ছদ্মবেশী রূপ হিসেবে কাজ করে।

গ্যাম্বিট-এর থ্রেট ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর ইয়াল সেলা বলেন, “আবাবিল গ্রুপের সাথে ইরান সরকারের সংযোগ থাকাটা এতদিন একটি কার্যকর অনুমান ছিল। আমাদের গবেষণা এখন এর পক্ষে ফরেনসিক প্রমাণ সরবরাহ করছে।”

সম্পর্কিত