চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬%, বলছে জাতিসংঘ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
চলতি বছর প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬%, বলছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ছবি: রয়টার্স

শুল্ক বৃদ্ধি, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও এবছর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩.৯ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৭ শতাংশে নামলেও স্বল্পোন্নত দেশগুলো তুলনামূলকভাবে এগিয়ে যাবে। জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন এবং কিছু দেশে রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে এই দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি জোরালো হচ্ছে। ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে সেটিও করোনা মহামারির আগের ২০১০ থেকে ২০১৯ সময়ের গড় ৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচেই থাকবে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত টানাপোড়েন বিশ্ব পরিস্থিতিকে নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে, যা অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আমেরিকার উচ্চ শুল্ক আরোপের প্রভাব সত্ত্বেও ভোক্তা ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসায় অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে ভালোভাবে টিকে আছে। তবে ভেতরের দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে। আমেরিকা-এ ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে, যা ২০২৬ সালে সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে কমে ১ দশমিক ৪ শতাংশে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জাপান-এর অর্থনীতি চলতি বছরে ০ দশমিক ৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া তুলনামূলকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায় সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে, যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।

প্রতিবেদনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশসহ ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় প্রবৃদ্ধি মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও উচ্চ ঋণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

জাতিসংঘের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। ঋণ সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত