Advertisement Banner

এবার তিমির পিছু নেবে রোবট

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এবার তিমির পিছু নেবে রোবট
ছবি: রয়টার্স থেকে নেওয়া

সমুদ্রের অতল গভীরে, যেখানে কখনো সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ঠিক সেখানেই চলে এক রহস্যময় আলাপচারিতা। বিশালকার স্পার্ম হোয়েলরা একে অপরের সঙ্গে ‘ক্লিক’ নামের এক বিশেষ শব্দে কথা বলে। আর সেসব কথা মাইলের পর মাইল পাড়ি দিতে পারে।

কিন্তু কী কথা বলে তারা? কী তাদের রহস্য?

দীর্ঘকাল ধরে তিমির এই ভাষার পাঠোদ্ধার করা বিজ্ঞানীদের জন্য ছিল এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন এমন এক ‘অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার রোবট’ বা গ্লাইডার, যা সমুদ্রের নিচে অনেকটা ‘ওয়েমো’ গাড়ির মতো নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জার্নাল সায়েন্টিফিক রিপোর্টস। এ সংক্রান্ত প্রকল্প ‘প্রজেক্ট সেটির’ প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গ্রুবার জানিয়েছেন, রোবটটি তিমির গলার স্বর শুনে তাদের পিছু নিতে পারে। এটি কেবল তথ্য রেকর্ড করে না, বরং পানির নিচেই রিয়েল-টাইমে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তিমিটি আসলে কোন দিকে যাচ্ছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কল্পনা করুন তো, বিষয়টা কতটা মূল্যবান হবে, যদি আমরা একটি শিশু তিমির জীবনের প্রথম এক বছরের প্রতিটি ভাষা রেকর্ড করতে পারি! এই আবিষ্কার স্পার্ম তিমির ভাষা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ভাষাবিদ, এআই বিশেষজ্ঞ এবং সামুদ্রিক গবেষকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।”

স্পার্ম হোয়েলরা অত্যন্ত দক্ষ শিকারি। তারা সমুদ্রের দেড় কিলোমিটারের বেশি গভীরে একটানা ৫০ মিনিট পর্যন্ত থাকতে পারে। আগে তাদের ওপর নজর রাখা কঠিন ছিল, কারণ ট্র্যাকিং সেন্সরগুলো দ্রুত খুলে যেত। কিন্তু এই নতুন রোবটটি মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর সমুদ্রের নিচে ভেসে থাকতে পারে। নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য পাঠাতে পারে।

এ বিষয়ে গ্রুবার আরও বলেন, “মূল ধারণাটি হলো, একবার যদি আমরা মানুষের বাইরে কারও কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থার মৌলিক বিষয়গুলো সত্যিই বুঝতে পারি, তবে এটিকে হাতি, উদ্ভিদ এবং ছত্রাক পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব। বর্তমানে এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রচুর বিস্ময়কর কাজ হচ্ছে। ‘জীববৃক্ষ’ বা ‘ট্রি অব লাইফের’ অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণসত্তার যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যে মিল এবং অমিলগুলো খুঁজে পাওয়ার মাধ্যমে এই সব কাজ সহজ হচ্ছে।”

বিজ্ঞানীরা এখন স্বপ্ন দেখছেন, একটি শিশু তিমির জন্মের পর থেকে তার প্রতিটি আওয়াজ বা ‘কোডা’ রেকর্ড করা যাবে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে তিমির ভাষার ব্যাকরণ ও অর্থ বোঝা সহজ হবে।

এই প্রযুক্তি কেবল ভাষা শেখাবে না, এটি আরও জানাবে মানুষের তৈরি শব্দ কীভাবে এই বিশাল প্রাণীদের জীবনকে প্রভাবিত করছে।

সম্পর্কিত