চরচা ডেস্ক

দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বর্ণকে ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গণ্য করা হতো। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা যুদ্ধের সময় যখন শেয়ার বাজার বা মুদ্রা বাজার টালমাটাল হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময়ে দেখা যাচ্ছে এক বিচিত্র চিত্র।
জানুয়ারিতে যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর তা হঠাৎ করেই ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক অর্থনীতির জটিল জালে স্বর্ণ কি তার চিরাচরিত রক্ষাকবচের মর্যাদা হারাচ্ছে? এর কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে সংবাদমাধ্যম এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে।
ফিনান্সিয়ালাইজেশন এবং ‘কাগজের স্বর্ণ’
আধুনিক স্বর্ণের বাজার এখন আর কেবল লকারবন্দি বিস্কুট বা অলংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক পোর্টাল ও বিশ্লেষণী সাইটের তথ্যমতে, গত এক দশকে স্বর্ণের বাজারে ‘ফিনান্সিয়ালাইজেশন’ বা আর্থিকীকরণ চরম রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সোনা কেনার বদলে গোল্ড ইটিএফ, ফিউচারস এবং ডেরিভেটিভসের মতো ডিজিটাল বা কাগজের স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এই আর্থিকীকরণের ফলে সোনা এখন সাধারণ শেয়ারের মতোই আচরণ করছে। যখন বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, তখন সোনা কারবারিরা দ্রুত মুনাফা তুলে নিতে বা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে এই ‘কাগজের স্বর্ণ’ বিক্রি করে দেন। ফলে বাস্তব বাজারে সোনার সরবরাহ ও চাহিদার চেয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক ও অনুমান দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব: তেল বনাম স্বর্ণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল একটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এটি একটি ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বা গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার আশঙ্কায় তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এখানেই স্বর্ণের সাথে তেলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তেলের একটি অপরিহার্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু বা শিল্পমূল্য রয়েছে। কলকারখানা চালানো, পরিবহন এবং বিশ্ববাণিজ্য সচল রাখতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, স্বর্ণের শিল্প ব্যবহার তেলের তুলনায় নগণ্য। যখন বিশ্ববাসী জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো অনুৎপাদনশীল সম্পদের চেয়ে জ্বালানি তেলের বাজারে মূলধন সরাতে বেশি বাধ্য হন। ফলস্বরূপ, স্বর্ণের চাহিদা কমে যায় এবং দাম পড়ে যায়।

তারল্য সংকট
আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যখন কোনো বড় সংঘাত শুরু হয়, তখন বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নামে। বড় বড় ‘হেজ ফান্ড’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ারের লোকসান সামাল দিতে ব্যাপক নগদ টাকার সংকটে পড়েন। একে বলা হয় ‘লিকুইডিটি ক্রাইসিস’ বা তারল্য সংকট।
ব্রোকারেজ হাউজগুলো যখন তাদের ‘মার্জিন মানি’, বা জামানত দাবি করে, তখন বিনিয়োগকারীরা বাধ্য হয়ে তাদের সবচেয়ে লাভজনক সম্পদ; অর্থাৎ স্বর্ণ বিক্রি করে নগদায়ন করেন। এশিয়া টাইমসের মতে, জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা সংগ্রহের সুযোগ করে দিয়েছিল। এই গণবিক্রির চাপে বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ বেড়ে যায়, যা দাম কমিয়ে দেয়।
ডলারের আধিপত্য ও ‘বন্ড ইয়েল্ডের’ প্রভাব
সাধারণত স্বর্ণের দামের সঙ্গে মার্কিন ডলারের একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরির পর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বৈশ্বিক অস্থিরতায় ডলার যেভাবে শক্তিশালী হয়েছে, তা স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যায়, তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো সম্পদ—যা থেকে কোনো সুদ বা ডিভিডেন্ড পাওয়া যায় না—তা ধরে রাখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
গবেষণার আলোকে নতুন বাস্তবতা
২০১৬ এবং ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্বর্ণের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হওয়ার ক্ষমতা এখন অনেক বেশি ম্লান। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারি বা পরবর্তী সংকটগুলোতে স্বর্ণ বাজারের অস্থিরতা কমানোর বদলে নিজেই বাজারের অস্থিরতা শুষে নিয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখন আর বাজারের বাইরে কোনো ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ নয়। বরং বাজারের অংশ হিসেবেই রোলার কোস্টারের মতো ওঠানামা করছে।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ছিল যে, স্বর্ণ কখনো মূল্য হারাবে না। কিন্তু বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তা মানুষকে অতি-সতর্ক করে তুলেছে। যখন মানুষ দেখে যে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায় এবং তারা আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি শুরু করে।
স্বর্ণের এই দরপতন থেকে বোঝা যায় যে, আধুনিক অর্থব্যবস্থায় কোনো সম্পদই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে স্বর্ণের দাম বাড়বে–এই গতানুগতিক সূত্র এখন আর কাজ করছে না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ আসলে স্বর্ণের বাজারের একটি গভীর ক্ষত উন্মোচিত করেছে। আর তা হলো অতিরিক্ত ফটকা বিনিয়োগ এবং জ্বালানি তেলের ওপর বিশ্বের অতি-নির্ভরশীলতা।
যদিও স্বর্ণ এখনো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চমূল্যে রয়েছে। কিন্তু এর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হওয়ার ভাবমূর্তিটি চিরতরে বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীদের এখন স্বর্ণকে একটি সাধারণ সম্পদ হিসেবে দেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের ‘বিনিয়োগের তালিকা’ সাজাতে হবে।

দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বর্ণকে ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে গণ্য করা হতো। মুদ্রাস্ফীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা যুদ্ধের সময় যখন শেয়ার বাজার বা মুদ্রা বাজার টালমাটাল হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময়ে দেখা যাচ্ছে এক বিচিত্র চিত্র।
জানুয়ারিতে যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার ছুঁয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর তা হঠাৎ করেই ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক অর্থনীতির জটিল জালে স্বর্ণ কি তার চিরাচরিত রক্ষাকবচের মর্যাদা হারাচ্ছে? এর কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে সংবাদমাধ্যম এশিয়া টাইমসের এক প্রতিবেদনে।
ফিনান্সিয়ালাইজেশন এবং ‘কাগজের স্বর্ণ’
আধুনিক স্বর্ণের বাজার এখন আর কেবল লকারবন্দি বিস্কুট বা অলংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক পোর্টাল ও বিশ্লেষণী সাইটের তথ্যমতে, গত এক দশকে স্বর্ণের বাজারে ‘ফিনান্সিয়ালাইজেশন’ বা আর্থিকীকরণ চরম রূপ নিয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি সোনা কেনার বদলে গোল্ড ইটিএফ, ফিউচারস এবং ডেরিভেটিভসের মতো ডিজিটাল বা কাগজের স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
এই আর্থিকীকরণের ফলে সোনা এখন সাধারণ শেয়ারের মতোই আচরণ করছে। যখন বাজারে অস্থিরতা বাড়ে, তখন সোনা কারবারিরা দ্রুত মুনাফা তুলে নিতে বা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে এই ‘কাগজের স্বর্ণ’ বিক্রি করে দেন। ফলে বাস্তব বাজারে সোনার সরবরাহ ও চাহিদার চেয়ে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক ও অনুমান দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব: তেল বনাম স্বর্ণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল একটি রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং এটি একটি ভয়াবহ জ্বালানি সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বা গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রগুলোতে হামলার আশঙ্কায় তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
এখানেই স্বর্ণের সাথে তেলের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তেলের একটি অপরিহার্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু বা শিল্পমূল্য রয়েছে। কলকারখানা চালানো, পরিবহন এবং বিশ্ববাণিজ্য সচল রাখতে তেলের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, স্বর্ণের শিল্প ব্যবহার তেলের তুলনায় নগণ্য। যখন বিশ্ববাসী জ্বালানি সংকটে পড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো অনুৎপাদনশীল সম্পদের চেয়ে জ্বালানি তেলের বাজারে মূলধন সরাতে বেশি বাধ্য হন। ফলস্বরূপ, স্বর্ণের চাহিদা কমে যায় এবং দাম পড়ে যায়।

তারল্য সংকট
আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যখন কোনো বড় সংঘাত শুরু হয়, তখন বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নামে। বড় বড় ‘হেজ ফান্ড’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ারের লোকসান সামাল দিতে ব্যাপক নগদ টাকার সংকটে পড়েন। একে বলা হয় ‘লিকুইডিটি ক্রাইসিস’ বা তারল্য সংকট।
ব্রোকারেজ হাউজগুলো যখন তাদের ‘মার্জিন মানি’, বা জামানত দাবি করে, তখন বিনিয়োগকারীরা বাধ্য হয়ে তাদের সবচেয়ে লাভজনক সম্পদ; অর্থাৎ স্বর্ণ বিক্রি করে নগদায়ন করেন। এশিয়া টাইমসের মতে, জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় ‘প্রফিট বুকিং’ বা মুনাফা সংগ্রহের সুযোগ করে দিয়েছিল। এই গণবিক্রির চাপে বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ বেড়ে যায়, যা দাম কমিয়ে দেয়।
ডলারের আধিপত্য ও ‘বন্ড ইয়েল্ডের’ প্রভাব
সাধারণত স্বর্ণের দামের সঙ্গে মার্কিন ডলারের একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরির পর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং বৈশ্বিক অস্থিরতায় ডলার যেভাবে শক্তিশালী হয়েছে, তা স্বর্ণের জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যায়, তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো সম্পদ—যা থেকে কোনো সুদ বা ডিভিডেন্ড পাওয়া যায় না—তা ধরে রাখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
গবেষণার আলোকে নতুন বাস্তবতা
২০১৬ এবং ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্বর্ণের ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হওয়ার ক্ষমতা এখন অনেক বেশি ম্লান। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা মহামারি বা পরবর্তী সংকটগুলোতে স্বর্ণ বাজারের অস্থিরতা কমানোর বদলে নিজেই বাজারের অস্থিরতা শুষে নিয়েছে। অর্থাৎ, এটি এখন আর বাজারের বাইরে কোনো ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ নয়। বরং বাজারের অংশ হিসেবেই রোলার কোস্টারের মতো ওঠানামা করছে।
বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ছিল যে, স্বর্ণ কখনো মূল্য হারাবে না। কিন্তু বর্তমানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তা মানুষকে অতি-সতর্ক করে তুলেছে। যখন মানুষ দেখে যে বড় বড় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, তখন খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়ায় এবং তারা আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি শুরু করে।
স্বর্ণের এই দরপতন থেকে বোঝা যায় যে, আধুনিক অর্থব্যবস্থায় কোনো সম্পদই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভূ-রাজনৈতিক সংকটে স্বর্ণের দাম বাড়বে–এই গতানুগতিক সূত্র এখন আর কাজ করছে না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধ আসলে স্বর্ণের বাজারের একটি গভীর ক্ষত উন্মোচিত করেছে। আর তা হলো অতিরিক্ত ফটকা বিনিয়োগ এবং জ্বালানি তেলের ওপর বিশ্বের অতি-নির্ভরশীলতা।
যদিও স্বর্ণ এখনো ঐতিহাসিকভাবে উচ্চমূল্যে রয়েছে। কিন্তু এর ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হওয়ার ভাবমূর্তিটি চিরতরে বদলে গেছে। বিনিয়োগকারীদের এখন স্বর্ণকে একটি সাধারণ সম্পদ হিসেবে দেখে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের ‘বিনিয়োগের তালিকা’ সাজাতে হবে।