তাসীন মল্লিক

আসন সমঝোতা করে ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে ধর্মভিত্তিক ১২টি রাজনৈতিক দলের নতুন জোট। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বৈধতা যাচাই–বাছাই শেষ হলেও সে সমঝোতার রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে এ জোটের ‘ওয়ানবক্স পলিটিক্স’ শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
আসন সমঝোতার কথা থাকলেও এ জোটের দলগুলো ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬০০-এর বেশি প্রার্থী দিয়েছে। সমঝোতা নিয়ে জোটের বড় দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। সমঝোতা প্রক্রিয়ায় নতুন করে যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।
জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ তাহের চরচাকে বলেন, “আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা তা ঘোষণা দেব।”
সংসদ নির্বাচনে ‘ওয়ানবক্স পলিটিক্স’-এর অংশ হিসেবে ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে আটটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে শুরুতে জোট গঠন করে। লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা থাকলেও গত ২৮ ডিসেম্বর জোটের পরিধি বাড়ে। এ থেকেই আসন সমঝোতা নিয়ে সংকটের শুরু।
শুরুতে জোটটিতে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় এনসিপি, এবি পার্টি, এলডিপি ও লেবার পার্টি। বর্ধিত নতুন এ জোটকে ‘সমমনা বারো দলীয় জোট’ নামে ডাকছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
নাখোশ ইসলামী আন্দোলন
গত ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের দিন শেষে দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জামায়াত ২৭৬টি ও ইসলামি আন্দোলন ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দল দুটির মধ্যে টানাপোড়েন।
ইসলামী আন্দোলনকে যেসব আসনে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে জামায়াতের প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ঘটনার পর ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম প্রকাশ্যে ও সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সমঝোতা ভেঙে যায়নি বলে বার্তা দেন।
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের একজন যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “১২০ আসন থেকে সরে এসে আমরা একটি গঠনমূলক সংখ্যা নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাদের সিনিয়র নায়েবে আমিরের আসনে প্রার্থী দিয়েছে।”
দলটির আরেক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানান, প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শুনানিতে জামায়াতের সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর হলফনামার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভেস্তে যাবে কিনা এমন আশঙ্কা নাকচ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। তিনি চরচাকে বলেন, “আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে আপনারা কে কত আসনে নির্বাচন করছে, জানতে পারবেন। আমাদের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। এবারের নির্বাচনে আমরা সৎ লোকের জোট গঠন করেছি।”
এনসিপির চাহিদা ৪০, এবি পার্টি চায় ২১
সমমনা ১২ দলীয় জোটের আসন সমঝোতাকেন্দ্রিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দলগুলো নিজেদের মতোই মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে যে ২৪টি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি, তার অন্তত ৮টিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতার আঙ্গিক কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাকি দলগুলোর কাছে।
যদিও এনসিপির এক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানিয়েছেন, জামায়াতের কাছে ৪০টি আসনে ছাড় চেয়েছিল এনসিপি। এ সমঝোতা ২৫ থেকে ৩০টি আসনে গিয়ে ঠেকবে। ইসলামী আন্দোলন ও বাকি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে এনসিপিকে ছাড় দেওয়া আসনের সংখ্যা। আপাতত এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আসন সমঝোতার বিষয়টি জামায়াতকে কেন্দ্র করেই চলছে বলে জানান এবি পার্টির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ। চরচাকে তিনি বলেন, “আমরা ২১টি আসনে সমঝোতার প্রস্তাব রেখেছি। দলগুলো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আলোচনা করছে, দরকাষাকষি করছে। শীঘ্রই সমঝোতার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

আসন সমঝোতা করে ভোটের লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছে ধর্মভিত্তিক ১২টি রাজনৈতিক দলের নতুন জোট। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বৈধতা যাচাই–বাছাই শেষ হলেও সে সমঝোতার রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে এ জোটের ‘ওয়ানবক্স পলিটিক্স’ শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
আসন সমঝোতার কথা থাকলেও এ জোটের দলগুলো ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬০০-এর বেশি প্রার্থী দিয়েছে। সমঝোতা নিয়ে জোটের বড় দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। সমঝোতা প্রক্রিয়ায় নতুন করে যুক্ত হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।
জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ তাহের চরচাকে বলেন, “আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার পর আমরা তা ঘোষণা দেব।”
সংসদ নির্বাচনে ‘ওয়ানবক্স পলিটিক্স’-এর অংশ হিসেবে ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার লক্ষ্যে আটটি ধর্মভিত্তিক দল মিলে শুরুতে জোট গঠন করে। লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করে নিজেদের মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা থাকলেও গত ২৮ ডিসেম্বর জোটের পরিধি বাড়ে। এ থেকেই আসন সমঝোতা নিয়ে সংকটের শুরু।
শুরুতে জোটটিতে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয় এনসিপি, এবি পার্টি, এলডিপি ও লেবার পার্টি। বর্ধিত নতুন এ জোটকে ‘সমমনা বারো দলীয় জোট’ নামে ডাকছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
নাখোশ ইসলামী আন্দোলন
গত ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের দিন শেষে দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জামায়াত ২৭৬টি ও ইসলামি আন্দোলন ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে। এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসন সমঝোতাকে কেন্দ্র করে দল দুটির মধ্যে টানাপোড়েন।
ইসলামী আন্দোলনকে যেসব আসনে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে জামায়াতের প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ঘটনার পর ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম প্রকাশ্যে ও সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও সমঝোতা ভেঙে যায়নি বলে বার্তা দেন।
আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের একজন যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “১২০ আসন থেকে সরে এসে আমরা একটি গঠনমূলক সংখ্যা নিয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আমাদের সিনিয়র নায়েবে আমিরের আসনে প্রার্থী দিয়েছে।”
দলটির আরেক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানান, প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শুনানিতে জামায়াতের সমর্থকরা তাদের প্রার্থীর হলফনামার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা ভেস্তে যাবে কিনা এমন আশঙ্কা নাকচ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন। তিনি চরচাকে বলেন, “আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে আপনারা কে কত আসনে নির্বাচন করছে, জানতে পারবেন। আমাদের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। এবারের নির্বাচনে আমরা সৎ লোকের জোট গঠন করেছি।”
এনসিপির চাহিদা ৪০, এবি পার্টি চায় ২১
সমমনা ১২ দলীয় জোটের আসন সমঝোতাকেন্দ্রিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় দলগুলো নিজেদের মতোই মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে যে ২৪টি আসনে জামায়াত প্রার্থী দেয়নি, তার অন্তত ৮টিতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। ফলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের আসন সমঝোতার আঙ্গিক কিছুটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাকি দলগুলোর কাছে।
যদিও এনসিপির এক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানিয়েছেন, জামায়াতের কাছে ৪০টি আসনে ছাড় চেয়েছিল এনসিপি। এ সমঝোতা ২৫ থেকে ৩০টি আসনে গিয়ে ঠেকবে। ইসলামী আন্দোলন ও বাকি দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে এনসিপিকে ছাড় দেওয়া আসনের সংখ্যা। আপাতত এনসিপির শীর্ষ নেতাদের আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছে।
আসন সমঝোতার বিষয়টি জামায়াতকে কেন্দ্র করেই চলছে বলে জানান এবি পার্টির সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ। চরচাকে তিনি বলেন, “আমরা ২১টি আসনে সমঝোতার প্রস্তাব রেখেছি। দলগুলো নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আলোচনা করছে, দরকাষাকষি করছে। শীঘ্রই সমঝোতার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”