আরমান ভূঁইয়া

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার অংশ হিসেবে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে ‘আয়রন গ্রে’ বা ‘গাঢ় ধূসর’ রং নির্ধারণ করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নতুন পোশাক কার্যকর করা হয়। তবে শুরু থেকেই পোশাকটি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ছিল অসন্তোষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ব্যবহৃত ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছেরের মার্চে বাহিনীর ভেতরে একটি অভ্যন্তরীণ জরিপ চালানো হয়। সেখানে ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ সদস্য ২০০১-২০০৬ সময়কার পোশাকে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অধিকাংশ সদস্য আগের (বিএনপি আমলে) পোশাকে ফিরে যেতে চেয়েছেন। আমরা সরকারকে সেই প্রস্তাব দিয়েছি।”
খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সে সময় ব্যবহৃত জামার রং কিছুটা কালচে ছিল, যা অনেক সদস্যের অপছন্দের তালিকায় রয়েছে। তাই পুরোনো ডিজাইন রেখে রঙে আংশিক পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমান নতুন ইউনিফর্মের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা এসেছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পোশাকের কাপড় তুলনামূলক ভারী ও মোটা হওয়ায় দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা কষ্টের। বিশেষ করে গরমের সময় ঘাম জমে অস্বস্তি হয়। আবার রাতে গাড়ির আলো পড়লেও খুব একটা দৃশ্যমান হয় না।”
নতুন ইউনিফর্মের কাপড়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সদস্যদের দাবি, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে শার্টের কাপড় চুক্তির শর্ত পূরণ করেনি। সুতার ঘনত্ব যেখানে ২০৫ জিএসএম (±৫) হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাওয়া গেছে ১৯৩ জিএসএম।
এ ছাড়া ‘উইকিং ক্যাপাসিটি’ বা ঘাম শোষণক্ষমতা চুক্তি অনুযায়ী ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ৬ সেন্টিমিটারের নিচে হলে তা দীর্ঘ সময় বাইরে দায়িত্বপালনের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং ক্লান্তি বাড়ে।
নতুন পোশাক নিয়ে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন ইউনিফর্ম নির্বাচনের সময় সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া ও মাঠপর্যায়ের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া, নতুন পোশাকটি অন্যান্য সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে প্রবর্তিত পোশাক পুনর্বহালের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সে সময়ের কালো ধরনের শার্টটি অনেকের অপছন্দ হওয়ায় রঙে আংশিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের পোশাকে ফেরার প্রস্তাব যেমন আছে, তেমনি শার্টে পরিবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে। প্যান্ট ও শার্টে কন্ট্রাস্ট রঙ রাখা, দেশের মানুষের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই ও তুলনামূলক উজ্জ্বল রঙ নির্বাচন এবং রাতে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে।”
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, বর্তমান পোশাকের একটি বড় সমস্যা হলো—রাতে আলো পড়লেও রঙ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না। তাই এমন রঙ নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে, যা অন্ধকারেও দৃশ্যমান হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষার অংশ হিসেবে পুলিশের পোশাক পরিবর্তন করে ‘আয়রন গ্রে’ বা ‘গাঢ় ধূসর’ রং নির্ধারণ করে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে নতুন পোশাক কার্যকর করা হয়। তবে শুরু থেকেই পোশাকটি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ছিল অসন্তোষ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবারও পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ২০০১-২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ব্যবহৃত ইউনিফর্মে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে জোরালো আলোচনা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছেরের মার্চে বাহিনীর ভেতরে একটি অভ্যন্তরীণ জরিপ চালানো হয়। সেখানে ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ সদস্য ২০০১-২০০৬ সময়কার পোশাকে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। অধিকাংশ সদস্য আগের (বিএনপি আমলে) পোশাকে ফিরে যেতে চেয়েছেন। আমরা সরকারকে সেই প্রস্তাব দিয়েছি।”
খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, সে সময় ব্যবহৃত জামার রং কিছুটা কালচে ছিল, যা অনেক সদস্যের অপছন্দের তালিকায় রয়েছে। তাই পুরোনো ডিজাইন রেখে রঙে আংশিক পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমান নতুন ইউনিফর্মের সবচেয়ে বেশি বিরোধিতা এসেছে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান পোশাকের কাপড় তুলনামূলক ভারী ও মোটা হওয়ায় দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে থাকা কষ্টের। বিশেষ করে গরমের সময় ঘাম জমে অস্বস্তি হয়। আবার রাতে গাড়ির আলো পড়লেও খুব একটা দৃশ্যমান হয় না।”
নতুন ইউনিফর্মের কাপড়ের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সদস্যদের দাবি, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা গেছে শার্টের কাপড় চুক্তির শর্ত পূরণ করেনি। সুতার ঘনত্ব যেখানে ২০৫ জিএসএম (±৫) হওয়ার কথা ছিল, সেখানে পাওয়া গেছে ১৯৩ জিএসএম।
এ ছাড়া ‘উইকিং ক্যাপাসিটি’ বা ঘাম শোষণক্ষমতা চুক্তি অনুযায়ী ৬ থেকে ১০ সেন্টিমিটার হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় পাওয়া গেছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ৬ সেন্টিমিটারের নিচে হলে তা দীর্ঘ সময় বাইরে দায়িত্বপালনের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এতে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং ক্লান্তি বাড়ে।
নতুন পোশাক নিয়ে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, নতুন ইউনিফর্ম নির্বাচনের সময় সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া ও মাঠপর্যায়ের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া, নতুন পোশাকটি অন্যান্য সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের সময়ে প্রবর্তিত পোশাক পুনর্বহালের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সে সময়ের কালো ধরনের শার্টটি অনেকের অপছন্দ হওয়ায় রঙে আংশিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে।
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “পূর্বের পোশাকে ফেরার প্রস্তাব যেমন আছে, তেমনি শার্টে পরিবর্তনের কথাও ভাবা হচ্ছে। প্যান্ট ও শার্টে কন্ট্রাস্ট রঙ রাখা, দেশের মানুষের গায়ের রঙের সঙ্গে মানানসই ও তুলনামূলক উজ্জ্বল রঙ নির্বাচন এবং রাতে দৃশ্যমানতা বাড়ানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে।”
রফিকুল ইসলাম আরও জানান, বর্তমান পোশাকের একটি বড় সমস্যা হলো—রাতে আলো পড়লেও রঙ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না। তাই এমন রঙ নির্বাচন করার চিন্তা করা হচ্ছে, যা অন্ধকারেও দৃশ্যমান হবে।