চরচা ডেস্ক

ইরান হুমকি দিয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত করার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি অবকাঠামোগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরুপ্রধান এই অঞ্চলে পানীয় জলের জন্য দেশগুলো ব্যাপকভাবে সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক জীবন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
এরই মধ্যে ইরানের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার জবাবে তারা বাহরাইন, কুয়েতের প্ল্যান্টে হামলা করে।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে সংবেদনশীল বেসামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ও অন্যান্য খনিজ অপসারণ করে তা পানযোগ্য পানিতে রূপান্তরিত করে। বর্তমানে এটি মূলত ‘রিভার্স অসমোসিস’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়।

উপসাগরীয় দেশগুলোর টিকে থাকার জন্য এই প্ল্যান্টগুলো অপরিহার্য। এই দেশগুলো আয়তনে ছোট হলেও সেখানে বিশাল আধুনিক শহর ও শিল্পকারখানা রয়েছে এবং এগুলো শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এই দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, নদী বা হ্রদ নেই বললেই চলে এবং প্রাকৃতিক মিঠা পানির উৎসের পরিমাণও অত্যন্ত নগণ্য।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে যখন এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রসার শুরু হয়, তখন থেকেই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট তৈরি শুরু হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে যখন দুবাইয়ের মতো শহরগুলোর নগরায়ন ও বিস্তার ঘটে, তখন এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়। এই অঞ্চলের সব দেশই এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যেমন-কুয়েত তাদের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ এবং সৌদি আরব প্রায় ৭০ শতাংশ পানি এই প্ল্যান্টগুলো থেকে পায়।
কেন ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে?
উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ তাদের পানির চাহিদার বড় অংশের জন্য মাত্র কয়েকটি বড় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করে। ফলে যেকোনো সংঘাতের সময় এগুলো অত্যন্ত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই প্ল্যান্টগুলো উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে থাকা ইরানের হামলার সহজ নাগালে রয়েছে।
এই প্ল্যান্টগুলো অকেজো করে দিলে বেসামরিক জনগণের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে এবং সরাসরি জনগণের ওপর হামলা না করেও একটি দেশে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির এটি একটি কার্যকর উপায়। এছাড়া এটি শিল্পকারখানার জন্যও বিধ্বংসী হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শিল্পগুলো পানি শোধনাগারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পানি অবকাঠামো নিয়ে ইরান কী হুমকি দিয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানি শাসকগোষ্ঠী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এর আগে অবশ্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধগুলোতে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এড়িয়ে চলা হতো। তবে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা উপসাগরের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে আঘাত করবে, যা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।
ইরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুদ্ধে তাদের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই এই নজির স্থাপন করেছে, ইরান নয়।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্যবস্তু হলে তার প্রভাব কী হবে?
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পানি অবকাঠামোতে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে তা যুদ্ধের ভয়াবহ মোড় ডেকে আনতে পারে।
অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের কাছে মাত্র এক সপ্তাহের মতো পানি মজুত থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো একটি প্ল্যান্টে আঘাত হানা হয় এবং উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়, তবে এর প্রভাব হবে দ্রুত ও তীব্র। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বড় বড় শহরগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য এই শোধিত পানির প্রয়োজন হয়, তাই পানি বন্ধ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হবে। এটি স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল পরিচালনাকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পানি সংকট চলাকালীন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য করবে।
এমন পরিস্থিতিতে পানি রেশনিং (সীমাবদ্ধ ব্যবহার) চালু করতে হবে, যা জনসাধারণের মধ্যে গণ-আতঙ্ক এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরান হুমকি দিয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে আঘাত করার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে তারা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পানি অবকাঠামোগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরুপ্রধান এই অঞ্চলে পানীয় জলের জন্য দেশগুলো ব্যাপকভাবে সমুদ্রের পানি লবণমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক জীবন ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
এরই মধ্যে ইরানের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলার জবাবে তারা বাহরাইন, কুয়েতের প্ল্যান্টে হামলা করে।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে সংবেদনশীল বেসামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এগুলো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। সমুদ্রের পানি থেকে লবণ ও অন্যান্য খনিজ অপসারণ করে তা পানযোগ্য পানিতে রূপান্তরিত করে। বর্তমানে এটি মূলত ‘রিভার্স অসমোসিস’ নামক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়।

উপসাগরীয় দেশগুলোর টিকে থাকার জন্য এই প্ল্যান্টগুলো অপরিহার্য। এই দেশগুলো আয়তনে ছোট হলেও সেখানে বিশাল আধুনিক শহর ও শিল্পকারখানা রয়েছে এবং এগুলো শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এই দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত খুব কম হয়, নদী বা হ্রদ নেই বললেই চলে এবং প্রাকৃতিক মিঠা পানির উৎসের পরিমাণও অত্যন্ত নগণ্য।
১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে যখন এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস শিল্পের প্রসার শুরু হয়, তখন থেকেই ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট তৈরি শুরু হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে যখন দুবাইয়ের মতো শহরগুলোর নগরায়ন ও বিস্তার ঘটে, তখন এই কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়। এই অঞ্চলের সব দেশই এই প্ল্যান্টগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যেমন-কুয়েত তাদের প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ এবং সৌদি আরব প্রায় ৭০ শতাংশ পানি এই প্ল্যান্টগুলো থেকে পায়।
কেন ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে?
উপসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ তাদের পানির চাহিদার বড় অংশের জন্য মাত্র কয়েকটি বড় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভর করে। ফলে যেকোনো সংঘাতের সময় এগুলো অত্যন্ত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এই প্ল্যান্টগুলো উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত, যা পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে থাকা ইরানের হামলার সহজ নাগালে রয়েছে।
এই প্ল্যান্টগুলো অকেজো করে দিলে বেসামরিক জনগণের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে এবং সরাসরি জনগণের ওপর হামলা না করেও একটি দেশে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির এটি একটি কার্যকর উপায়। এছাড়া এটি শিল্পকারখানার জন্যও বিধ্বংসী হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি শিল্পগুলো পানি শোধনাগারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পানি অবকাঠামো নিয়ে ইরান কী হুমকি দিয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ইরানি শাসকগোষ্ঠী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

এর আগে অবশ্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধগুলোতে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা এড়িয়ে চলা হতো। তবে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা উপসাগরের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে আঘাত করবে, যা অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনবে।
ইরান দাবি করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে যুদ্ধে তাদের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই এই নজির স্থাপন করেছে, ইরান নয়।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট লক্ষ্যবস্তু হলে তার প্রভাব কী হবে?
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পানি অবকাঠামোতে যেকোনো বিঘ্ন ঘটলে তা যুদ্ধের ভয়াবহ মোড় ডেকে আনতে পারে।
অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের কাছে মাত্র এক সপ্তাহের মতো পানি মজুত থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো একটি প্ল্যান্টে আঘাত হানা হয় এবং উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট হয়, তবে এর প্রভাব হবে দ্রুত ও তীব্র। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বড় বড় শহরগুলোতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ঠান্ডা রাখার জন্য এই শোধিত পানির প্রয়োজন হয়, তাই পানি বন্ধ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হবে। এটি স্বাস্থ্যসেবা ও হাসপাতাল পরিচালনাকে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং পানি সংকট চলাকালীন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য করবে।
এমন পরিস্থিতিতে পানি রেশনিং (সীমাবদ্ধ ব্যবহার) চালু করতে হবে, যা জনসাধারণের মধ্যে গণ-আতঙ্ক এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।