ফজলে রাব্বি

‘আইয়েরে গণভোট, আদ্দে নির্বাচন
পরিবর্তনের লাই ‘হ্যা’ দইন।।’
(এসেছে গণভোট, এসেছে নির্বাচন। পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যা’ ভোট দিন)
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৮টি বিভাগের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। হাটে মাঠে ঘাটে তা প্রচার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চমৎকার অডিও-ভিজ্যুয়াল। সুর-তালও হয়তো মন ছুঁয়ে যাবে সাধারণ মানুষের। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে মিউজিক ভিডিওগুলো।
এসব গানে গণআন্দোলনের পর গণতন্ত্রের যে সুযোগ এসেছে, তা লুফে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাগিদ দেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র বিনির্মাণের অংশীদার হওয়ার।
এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। এটাই জনআকাঙ্ক্ষা। একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তার রায় দেবে। সে অনুযায়ী দেশ চলবে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন, যখন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার সুনির্দিষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালায়। সাধারণ নির্বাচনের মতো গণভোটের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতাই প্রত্যাশা করছেন রাজনীতিক ও আইনজ্ঞরা। ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালালে তা নৈতিকতা ও আইনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন বা গণভোটের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালানো আইনেরও লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক চরচাকে বলেন, “প্রত্যাশা হলো একটা নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার সব ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে দলের ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে এবং ইস্যুর ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। তো সেই মাপকাঠিতে একটা ইস্যুর (গণভোটে হ্যাঁ) পক্ষে প্রচার চালানো সঠিক হচ্ছে না।”
ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, কী নিয়ে গণভোট হচ্ছে, জনগণ যাতে তা সঠিকভাবে বুঝে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেজন্য নানামূখী প্রচার সরকারের দিক থেকে হতে পারে। সে ক্যাম্পেইনে কারও আপত্তি থাকার সুযোগ কম। কোনো রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজ কিংবা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি যদি কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালায়, সেটাও গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এই প্রচারে অংশগ্রহণ না করাই শ্রেয়। তাহলে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি, ওটা তো নষ্ট হয়ে যায়।”
অবশ্য এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে আজ রোববার নির্বাচন কমিশনকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে, আগের বিভিন্ন গণভোটেও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “কী নিয়ে গণভোট, তা মানুষকে জানাতে প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারে সরকার।”
কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকার নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে প্রচার চালানোয় বিষ্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া চরচাকে বলেন, “সরকার কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নিতে পারে না। যদি তারা আগে থেকেই জনগণকে প্রভাবিত করে কোনো এক পক্ষে প্রচারণা চালায়, তবে সেই ভোটাভুটির বা গণভোটের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না। এ ছাড়া সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রচলিত রীতিনীতি বা ‘কাস্টমস’ও আইনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, যা এ ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হচ্ছে।”
এই আইনজীবি বলেন, “যারা এই ধরনের অনৈতিক প্রচারণার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত অথবা বিষয়টি আদালতের নজরে আনা উচিত। এমনকি সরকার কর্তৃক গঠিত কোনো সংস্থা বা সংবিধান সংস্কার কমিশনও আইনের বাইরে গিয়ে এই ধরনের একপক্ষীয় প্রচারণা চালাতে পারে না।”
প্রায় একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাহাবুব উদ্দিন খোকন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “গণভোটের ক্ষেত্রে জনগণ চিন্তা করে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে রায় দেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বা কমিশন থেকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার করলে বা প্রভাব বিস্তার করে বক্তব্য রাখলে সেটা আসলে নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হবে।” তিনি বলেন, এমনটা করলে সরকার একটা পক্ষ হয়ে যাচ্ছে, আইনগতভাবে সেটা সঠিক হবে না।
তবে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূর মনে করেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালানোটা সরকারের সঠিক অবস্থান। তিনি বলেন, “যেহেতু সংস্কার কমিশনের নেতৃত্বে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, এবং সরকার জুলাই আন্দোলনের ফসল। কাজেই হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার চালানো সরকারের দ্বায়িত্ব।”
যে, যেই পক্ষের হয়েই প্রচার চালাক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভেবেচিন্তে মতামত দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখবে বলেই প্রত্যাশা করছেন বিশিষ্টজনরা।

‘আইয়েরে গণভোট, আদ্দে নির্বাচন
পরিবর্তনের লাই ‘হ্যা’ দইন।।’
(এসেছে গণভোট, এসেছে নির্বাচন। পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যা’ ভোট দিন)
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৮টি বিভাগের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। হাটে মাঠে ঘাটে তা প্রচার করা হচ্ছে। ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চমৎকার অডিও-ভিজ্যুয়াল। সুর-তালও হয়তো মন ছুঁয়ে যাবে সাধারণ মানুষের। প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে মিউজিক ভিডিওগুলো।
এসব গানে গণআন্দোলনের পর গণতন্ত্রের যে সুযোগ এসেছে, তা লুফে নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তাগিদ দেওয়া হচ্ছে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র বিনির্মাণের অংশীদার হওয়ার।
এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। এটাই জনআকাঙ্ক্ষা। একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তার রায় দেবে। সে অনুযায়ী দেশ চলবে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখন, যখন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার সুনির্দিষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালায়। সাধারণ নির্বাচনের মতো গণভোটের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষতাই প্রত্যাশা করছেন রাজনীতিক ও আইনজ্ঞরা। ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার চালালে তা নৈতিকতা ও আইনের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন বা গণভোটের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালানো আইনেরও লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক চরচাকে বলেন, “প্রত্যাশা হলো একটা নির্বাচনের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার সব ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে। তার মানে দলের ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে এবং ইস্যুর ব্যাপারেও নিরপেক্ষ থাকবে। তো সেই মাপকাঠিতে একটা ইস্যুর (গণভোটে হ্যাঁ) পক্ষে প্রচার চালানো সঠিক হচ্ছে না।”
ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, কী নিয়ে গণভোট হচ্ছে, জনগণ যাতে তা সঠিকভাবে বুঝে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেজন্য নানামূখী প্রচার সরকারের দিক থেকে হতে পারে। সে ক্যাম্পেইনে কারও আপত্তি থাকার সুযোগ কম। কোনো রাজনৈতিক দল বা সুশীল সমাজ কিংবা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি যদি কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালায়, সেটাও গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এই প্রচারে অংশগ্রহণ না করাই শ্রেয়। তাহলে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি, ওটা তো নষ্ট হয়ে যায়।”
অবশ্য এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে আজ রোববার নির্বাচন কমিশনকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে, আগের বিভিন্ন গণভোটেও তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার চালানো হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “কী নিয়ে গণভোট, তা মানুষকে জানাতে প্রচার কার্যক্রম চালাতে পারে সরকার।”
কিন্তু গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সরকার নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে প্রচার চালানোয় বিষ্ময় প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া চরচাকে বলেন, “সরকার কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ নিতে পারে না। যদি তারা আগে থেকেই জনগণকে প্রভাবিত করে কোনো এক পক্ষে প্রচারণা চালায়, তবে সেই ভোটাভুটির বা গণভোটের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না। এ ছাড়া সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রচলিত রীতিনীতি বা ‘কাস্টমস’ও আইনের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, যা এ ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হচ্ছে।”
এই আইনজীবি বলেন, “যারা এই ধরনের অনৈতিক প্রচারণার সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত অথবা বিষয়টি আদালতের নজরে আনা উচিত। এমনকি সরকার কর্তৃক গঠিত কোনো সংস্থা বা সংবিধান সংস্কার কমিশনও আইনের বাইরে গিয়ে এই ধরনের একপক্ষীয় প্রচারণা চালাতে পারে না।”
প্রায় একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মাহাবুব উদ্দিন খোকন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “গণভোটের ক্ষেত্রে জনগণ চিন্তা করে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর পক্ষে রায় দেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বা কমিশন থেকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার করলে বা প্রভাব বিস্তার করে বক্তব্য রাখলে সেটা আসলে নিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হবে।” তিনি বলেন, এমনটা করলে সরকার একটা পক্ষ হয়ে যাচ্ছে, আইনগতভাবে সেটা সঠিক হবে না।
তবে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূর মনে করেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালানোটা সরকারের সঠিক অবস্থান। তিনি বলেন, “যেহেতু সংস্কার কমিশনের নেতৃত্বে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে, এবং সরকার জুলাই আন্দোলনের ফসল। কাজেই হ্যাঁ-এর পক্ষে প্রচার চালানো সরকারের দ্বায়িত্ব।”
যে, যেই পক্ষের হয়েই প্রচার চালাক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভেবেচিন্তে মতামত দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখবে বলেই প্রত্যাশা করছেন বিশিষ্টজনরা।