চরচা প্রতিবেদক

দুই দশক পর সরকার গঠন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর তিন দশক পর নতুন কোনো রাজনীতিককে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পায় বিএনপি। সরকার পরিচালনায় তারেক রহমানের সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তারেক রহমান তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন।
২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তার এক সময়ের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। যে দলটিকে সঙ্গে নিয়ে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চারদলীয় জোট গঠন করেছিল বিএনপি। সেই চারদলীয় জোট ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শেষবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। এরপর নানা নাটকীয়তার মধ্যে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়াক সরকার। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। সংসদে বিএনপি বসে বিরোধী দলের আসনে। এরপর টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকে আওয়ামী লীগ। দলটির ক্ষমতাকালীন তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের দুটি বর্জন করে বিএনপি।
সবশেষ বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন দলের নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। এবারের ভোটের প্রায় দেড় মাস আগে প্রয়াত হন তিনি।
খালেদা জিয়ার মারা যাওয়ার পাঁচ দিন আগে ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন তার ছেলে তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হয়ে ভোটযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ভোটের আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, আন্দোলনের সহযাত্রীদের নিয়ে তিনি সরকার গঠন করবেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আর নিজের দল এনডিএম ছেড়ে ভোটের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
এবারের মন্ত্রিসভার অনেকেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এবার প্রথমবার আইনসভার সদস্য হয়েছেন।
তবে, এই মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এমপি না হলেও তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে সামলাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামলাবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে সাধারণত দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিবকে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। মাঝখানে এক দফা আওয়ামী লীগ এই রীতি ভাঙলেও বিএনপি আগের ধারাতেই রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্যে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের এই সদস্য এবার কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ওই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী।
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হকও টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে জায়গা পেয়েছেন। নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন আমিনুল। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল বাতেনের কাছে হেরে যান।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন যারা–
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন যারা

দুই দশক পর সরকার গঠন করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আর তিন দশক পর নতুন কোনো রাজনীতিককে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পায় বিএনপি। সরকার পরিচালনায় তারেক রহমানের সঙ্গী হচ্ছেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তারেক রহমান তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দুই নেতাও রয়েছেন।
২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তার এক সময়ের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামী। যে দলটিকে সঙ্গে নিয়ে নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে চারদলীয় জোট গঠন করেছিল বিএনপি। সেই চারদলীয় জোট ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে।
২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত শেষবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। এরপর নানা নাটকীয়তার মধ্যে ক্ষমতায় আসে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়াক সরকার। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় আওয়ামী লীগ। সংসদে বিএনপি বসে বিরোধী দলের আসনে। এরপর টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকে আওয়ামী লীগ। দলটির ক্ষমতাকালীন তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের দুটি বর্জন করে বিএনপি।
সবশেষ বিএনপি যখন সরকার গঠন করে তখন দলের নেতৃত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া। এবারের ভোটের প্রায় দেড় মাস আগে প্রয়াত হন তিনি।
খালেদা জিয়ার মারা যাওয়ার পাঁচ দিন আগে ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দলের হাল ধরেন তার ছেলে তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান হয়ে ভোটযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ভোটের আগে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, আন্দোলনের সহযাত্রীদের নিয়ে তিনি সরকার গঠন করবেন।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। আর নিজের দল এনডিএম ছেড়ে ভোটের আগে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
এবারের মন্ত্রিসভার অনেকেই প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও এবার প্রথমবার আইনসভার সদস্য হয়েছেন।
তবে, এই মন্ত্রিসভায় বড় চমক হিসেবে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এমপি না হলেও তিনি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে সামলাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামলাবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশে সাধারণত দলের সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিবকে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়। মাঝখানে এক দফা আওয়ামী লীগ এই রীতি ভাঙলেও বিএনপি আগের ধারাতেই রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্যে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকার সময় গুমের শিকার হয়েছিলেন।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের এই সদস্য এবার কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে ভোট করতে চেয়েছিলেন। তবে ওই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী।
আমিন উর রশিদ ইয়াছিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ফুটবলার মো. আমিনুল হকও টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে জায়গা পেয়েছেন। নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করেন আমিনুল। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল বাতেনের কাছে হেরে যান।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন যারা–
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন যারা