মেরিনা মিতু

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঢাকাবাসী। ঈদ উদযাপনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও জেলায় যাচ্ছেন। সেখানে পরিবার, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা তুলে ধরবেন তারা।
একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভুল তথ্য ও অপপ্রচার’ সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাতে কেন্দ্র থেকে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমানও দলীয় নেতাদের ঈদের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য—দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, মামলা ও দমন-পীড়নের কারণে গত দেড় দশকে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপনের সুযোগ ছিল না তাদের। অনেক নেতা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নিজ এলাকায় যেতে পারেননি। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এবার ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করছেন তারা।
সেজন্য সরকার গঠনের পর এটি বিএনপির দ্বিতীয় ঈদ হলেও দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় থেকে ঈদ উদযাপন ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, সরকার গঠনের তিন মাস পার হওয়ার পর এবার মাঠপর্যায়ে সরকারের কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাইকমান্ডও সেটাই মনে করেন। তাই ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং তাদের প্রত্যাশা ও মতামত জানার চেষ্টা করবেন।
ওই নেতা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকটি দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ও অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করাসহ দলের অবস্থান তুলে ধরার নির্দেশনাও নেতাদের দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান চরচাকে বলেন, ‘‘ঈদের যে আমেজ, যে আনন্দ...তার জন্য তো উন্মুক্ত সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ এতদিন ছিল না। তাই বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরাই এবার নিজ নিজ এলাকায় ঈদের পরিকল্পনা করছেন।’’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। সেখানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন।
নামাজ শেষে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। পরে অধিকাংশ নেতা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
তবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকাতেই অবস্থান করতে পারেন। এছাড়া কেউ কেউ দেশের বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলেও জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় ঈদ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আবার কেউ কেউ সকালে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরবেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের সেখানেই ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও নিজের নির্বাচনী এলাকা নরসিংদীতে ঈদ করবেন সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চট্টগ্রামে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভোলা ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এ ছাড়া অধিকাংশ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নিজ নিজ সংসদীয় আসনে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে।
সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান চরচাকে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন ছিল যে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবও স্বাভাবিকভাবে পরিবার ও এলাকার মানুষের সঙ্গে পালন করতে পারেননি। মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই নিজ এলাকায় যেতে পারতেন না। আজ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে বলেই আমাদের নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারছেন। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানুষের কাছে যাওয়ারও একটি সময়। তাই দলের নেতাদের বলা হয়েছে জনগণের পাশে থাকতে, তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে এবং উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বার্তা পৌঁছে দিতে।’’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু চরচাকে জানান, ঈদ উপলক্ষে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা নাটোরে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তার ভাষ্য, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা কী—সেসব বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হবে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারবিরোধী যে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে বিএনপি মনে করছে, সে বিষয়েও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় দলীয়ভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের কাছে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঢাকাবাসী। ঈদ উদযাপনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা ও জেলায় যাচ্ছেন। সেখানে পরিবার, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা তুলে ধরবেন তারা।
একইসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ‘ভুল তথ্য ও অপপ্রচার’ সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাতে কেন্দ্র থেকে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমানও দলীয় নেতাদের ঈদের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতা মনে করছেন, এবারের ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়। এটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষ্য—দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, মামলা ও দমন-পীড়নের কারণে গত দেড় দশকে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপনের সুযোগ ছিল না তাদের। অনেক নেতা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নিজ এলাকায় যেতে পারেননি। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এবার ভিন্ন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করছেন তারা।
সেজন্য সরকার গঠনের পর এটি বিএনপির দ্বিতীয় ঈদ হলেও দীর্ঘ ১৯ বছর পর ক্ষমতায় থেকে ঈদ উদযাপন ঘিরে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসবের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির এক নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, সরকার গঠনের তিন মাস পার হওয়ার পর এবার মাঠপর্যায়ে সরকারের কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাইকমান্ডও সেটাই মনে করেন। তাই ঈদ উপলক্ষে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন এবং তাদের প্রত্যাশা ও মতামত জানার চেষ্টা করবেন।
ওই নেতা আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকটি দল বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ভুল তথ্য ও অপপ্রচার’ চালাচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করাসহ দলের অবস্থান তুলে ধরার নির্দেশনাও নেতাদের দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান চরচাকে বলেন, ‘‘ঈদের যে আমেজ, যে আনন্দ...তার জন্য তো উন্মুক্ত সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ এতদিন ছিল না। তাই বেশিরভাগ নেতা-কর্মীরাই এবার নিজ নিজ এলাকায় ঈদের পরিকল্পনা করছেন।’’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। সেখানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন।
নামাজ শেষে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন। পরে অধিকাংশ নেতা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন।
তবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে কয়েকজন মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকাতেই অবস্থান করতে পারেন। এছাড়া কেউ কেউ দেশের বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলেও জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় ঈদ করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আবার কেউ কেউ সকালে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন শেষে ঢাকায় ফিরবেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে ঈদ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের সেখানেই ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও নিজের নির্বাচনী এলাকা নরসিংদীতে ঈদ করবেন সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চট্টগ্রামে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভোলা ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোনায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এ ছাড়া অধিকাংশ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের নিজ নিজ সংসদীয় আসনে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা রয়েছে।
সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান চরচাকে বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন ছিল যে বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী ঈদের মতো ধর্মীয় উৎসবও স্বাভাবিকভাবে পরিবার ও এলাকার মানুষের সঙ্গে পালন করতে পারেননি। মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেকেই নিজ এলাকায় যেতে পারতেন না। আজ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পেয়েছে বলেই আমাদের নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারছেন। ঈদ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি মানুষের কাছে যাওয়ারও একটি সময়। তাই দলের নেতাদের বলা হয়েছে জনগণের পাশে থাকতে, তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে এবং উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বার্তা পৌঁছে দিতে।’’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু চরচাকে জানান, ঈদ উপলক্ষে তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা নাটোরে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তার ভাষ্য, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা কী—সেসব বিষয়ে জনগণকে অবহিত করা হবে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সরকারবিরোধী যে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে বলে বিএনপি মনে করছে, সে বিষয়েও গণসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় দলীয়ভাবে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় কেন্দ্রীয় নেতারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি জনগণের কাছে দলের অবস্থানও ব্যাখ্যা করবেন।