Advertisement Banner

আর্জেন্টিনা ৩ : ১ জর্ডান

আর্জেন্টিনার তেমন কিছু হোক না হোক, মেসির দারুণ রেকর্ড হলো

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
আর্জেন্টিনার তেমন কিছু হোক না হোক, মেসির দারুণ রেকর্ড হলো

লিওনেল মেসি শুরু থেকে খেলবেন না, বেঞ্চে থাকবেন – সেটা আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি গতকালই জানিয়ে দিয়েছেন। জর্ডানের বিপক্ষে আজ ৬০তম মিনিটে মেসি যখন নামছেন, আর্জেন্টিনা ম্যাচে এগিয়ে থাকলেও স্বস্তিতে ছিল না। মিনিট চারেক আগেই গোল করে ব্যবধান ২-১-এ নামিয়ে এনেছিল জর্ডান।

মেসি নামলেন, ৮০তম মিনিটে ফ্রি-কিকে গোল করলেন। ডালাসে নিয়মরক্ষার হয়ে পড়া ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলে জিতল আর্জেন্টিনা।

তেমন আহামরি কিছুই নেই এতটুকুতে। আর্জেন্টিনা খুব আহামরি খেলেনি, জর্ডান কিছু কিছু আক্রমণে শেষ পাসটা ঠিকভাবে দিতে পারলে আর্জেন্টিনাকে আরও ভোগাতে পারত, আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি বেঞ্চের শক্তিতে কতটা সন্তুষ্ট হবেন সেটা তর্কসাপেক্ষ।

মাঠে খুব আহামরি কিছু না থাকলেও রেকর্ডবইতে আরেকটা ওলটপালট ঘটিয়ে দিয়েছেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের চার ম্যাচের পর এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ – বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ কীর্তি আর কারও নেই।

এর আগে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার কীর্তি ছিল ব্রাজিলের জেয়ারজিনিও (১৯৭০) ও ফ্রান্সের জুস্ত ফন্তাইনের (১৯৫৮)। তবে জেয়ারজিনিও ও ফন্তাইন এক জায়গায় এগিয়ে, তাদের ছয় ম্যাচের সবগুলোই ছিল একই বিশ্বকাপে। সে সময় বিশ্বকাপ ছিল ছয় ম্যাচের। এক বিশ্বকাপে সব ম্যাচে গোল করার কীর্তিতে অবশ্য উরুগুয়ের আলচিদেস ঘিঘিয়াও আছেন, যদিও ১৯৫০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ে ম্যাচ খেলেছিল চারটি।

গোলপোস্টে এমিলিয়ানো মার্তিনেস আর ফরোয়ার্ড লাইনে লওতারো মার্তিনেস - এই দুই মার্তিনেসের বাইরে আজ আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশের বাকি ৯ জনই এমন, যারা প্রথম দুই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন না। দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ ভালেন্তিন বার্কো, স্ট্রাইকার হোসে মানুয়েল লোপেসকেও মাঠে নামিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। শুধু দুই গোলকিপার হুয়ান মুসো আর হেরোনিমো রুইয়ি ছাড়া বাকি সবারই অন্তত কিছু মিনিট বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হলো, জর্ডান ম্যাচে এটিই বলা যায় আর্জেন্টিনার বড় প্রাপ্তি।

তা স্কালোনির দ্বিতীয় সারির এই একাদশ কেমন করেছে? একেবারে খারাপও করেনি, আবার খুব আহামরিও নয়। বিরতির আগেই দুই গোলে এগিয়ে গেছে বটে, তবে মিডফিল্ডে আর্জেন্টিনার নিয়মিত পজেশনের চিত্রটা দেখা যায়নি। বরং ভার্টিক্যাল বা লম্বালম্বি পাসে খেলার চেষ্টা দেখা গেছে। জর্ডানও প্রেসিং করেছে ভালো, কয়েকবার আক্রমণে উঠেছে।

এর মধ্যে ১৯ মিনিটে ফ্রি কিকে জিওভানি লো সেলসোর গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মেসিকে মুগ্ধ করার মতোই এক গোল! তার ১২ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে মার্তিনেসের গোল, বিরতিতে ২-০ ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। লো সেলসো চোটের কারণে ২০২২ বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি, মার্তিনেস খেললেও গোল পাননি। দুজনই বিশ্বকাপে প্রথম গোল পেলেন, আর্জেন্টিনার জন্য বড় প্রাপ্তি এটাও - বিশেষ করে স্ট্রাইকার মার্তিনেসের গোল তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিরতি থেকে ফেরার পর জর্ডান আরও চাপ বাড়িয়েছে। ৫৫ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে মুসা আল-তামারি গোলও পেয়ে গেছেন। জর্ডানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগে খেলা একমাত্র খেলোয়াড় আল-তামারির গোলের পর জর্ডান যখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছে, মিনিট পাঁচেক পর মাঠে নামলেন মেসি।

এরপর? আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণ বাড়ল, জর্ডান আর তেমন সুযোগ পেল না, মেসি ফ্রি-কিকে একটা গোলও পেয়ে গেলেন। আর্জেন্টিনা স্বস্তি পেল, মেসির হলো রেকর্ড।

সম্পর্কিত