Advertisement Banner

মিরাজের ব্যাটিংই কি বাংলাদেশের দুর্বলতা?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
মিরাজের ব্যাটিংই কি বাংলাদেশের দুর্বলতা?
মেহেদি হাসান মিরাজ। ছবি: বিসিবি

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে মেহেদি হাসান মিরাজ যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন ম্যাচ জেতা সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে দর্শকদের ধৈর্য পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক উপহার দেন ‘টেস্ট’ ইনিংসের। সাত নম্বর পজিশনে নেমে অমন একটি ইনিংসই বলে দেয়, মারকুটে ব্যাটিং রপ্ত করতে পারছেন না তিনি। সিরিজের শেষ ম্যাচেও একই ঘটনার অবতারণা ঘটে। উভয় ম্যাচেই বাংলাদেশ জিতলেও মিরাজের প্রশ্নবিদ্ধ ব্যাটিং বড় চিন্তার কারণ হতে পারে ভবিষ্যতে।

সবার আগে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে এটা নিশ্চিত হতে হবে যে, সাত নম্বরে নামা মিরাজের কাছে তাদের প্রত্যাশা কেমন। সেটা যদি হয় দেখেশুনে খেলা, তাহলে তিনি পাস মার্ক পেয়েই উত্তীর্ণ। তবে যুগ যুগ ধরেই ছয় এবং সাত নম্বরে ক্রিকেট দেখেছে এমন ব্যাটারদের, যারা দ্রুত রান করতে পারেন এবং ম্যাচটা শেষও করে আসেন। নব্বই দশকের সেই রবিন সিং, ল্যান্স ক্লুজনার থেকে শুরু করে মাইকেল বেভান, মাহেন্দ্র সিং ধোনি—সবাই এই কাজে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতা যেন একেবারেই ভিন্ন।

এই কারণেই মিরাজদের পক্ষে ‘ফিনিশার’ হয়ে ওঠা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা ফিনিশার কে, এই প্রশ্নের উত্তর আসবে একটাই, মাহমুদউল্লাহ। অথচ তিনি ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে টপ অর্ডার ছেড়ে এই পজিশনে নেমে গিয়েছিলেন দলের প্রয়োজনে। বাংলাদেশ দল সাদা বলের ক্রিকেটে তাকে এই পজিশনেই চেয়েছিল। তিনিও দিনের পর দিন চেষ্টা করে সেই স্কিলটা রপ্ত করেছেন। ভালো-খারাপের চেয়ে মাহমুদউল্লাহর ইতিবাচক দিক হলো, তিনি ছয়-সাত নম্বর পজিশনটা নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা করতেন।

তবে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজের ব্যাটিংয়ে সেই চেষ্টাটাও অনুপস্থিত। পাকিস্তান সিরিজ থেকে তাকে সাত নম্বর পজিশন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। টানা দুটি সিরিজে তিনি এই ভূমিকায় ব্যর্থ। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি যে ব্যাটিংটা করেছেন, তা অনেক প্রশ্নেরই জন্ম দেয়।

প্রথম ওয়ানডেতে রান তাড়ায় আফিফ হোসেনের ব্যাটিং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তাতে আড়ালে চলে যায় মিরাজের ১৪ বলে ৬ রানের ইনিংস। সমান সংখ্যক বলে তিনি যদি ২০ রানও করতে পারতেন, বদলে যেত ম্যাচের চিত্র। তবে তিনি বড় শটের চেষ্টাটাও করেননি। পরের ম্যাচে অনুকূল পরিস্থিতি পেয়েও ৮ রান করতেই খেলে ফেলেন ২৫টি বল। কেন এমন ব্যাটিং, তার ক্রিকেটীয় ব্যাখ্যা বের করাটা কঠিনই বটে।

সিরিজের শেষ ম্যাচে মিরাজ যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন বাংলাদেশের সুযোগ ছিল স্কোরটা অন্তত ২৮০ রানে নিয়ে যাওয়া। তবে তিনি ক্রিজে গিয়ে পিঞ্চ হিটিংয়ের বদলে সাবধানী ব্যাটিং বেছে নেন। ১৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২২ রান পরিস্থিতি বিবেচনায় একেবারেই আদর্শ নয়। বাংলাদেশের স্কোর ২৬৫ রানে আটকে যাওয়ার পেছনে মিরাজের ফিনিশিং দিতে না পারার দায়ও রয়েছে বেশ।

যেহেতু মিরাজকে দলের পক্ষ থেকে সাত নম্বর পজিশন ঠিক করে দেওয়া হয়েছে, সেহেতু তার দায়িত্ব আরও বেড়ে যাওয়ার কথা। কীভাবে উদ্ভাবনী শট খেলা যায়, কীভাবে চার-ছক্কা না মেরেও ১০০–১১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা যায়, সেটা নিয়ে তার কাজ করা উচিত। হতাশার দিক হলো, মিরাজ সে সব না করে একের পর এক ম্যাচে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে যাচ্ছেন। বড় দলগুলোর বিপক্ষে অধিনায়কের ব্যাটিংই তাই হতে পারে বাংলাদেশের দুর্বলতার জায়গা।

মিরাজকে তাই নিজের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে — তিনি কি নিজেকে ফিনিশার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? যদি চান, তাহলে তাকে ২৫ বলে ৮ রানের বদলে ৮ বলে ২৫ রান করার স্কিল রপ্ত করতে হবে। আর যদি সেটা না চান, সেটাও বিশ্বকাপের আগেই সেটা স্পষ্ট করা উচিত। সেক্ষেত্রে দল সুযোগ পাবে এই পজিশনে অন্য কাউকে বাজিয়ে দেখার।

এখন প্রশ্ন হলো-মিরাজ কি চ্যালেঞ্জটা নিতে চাইবেন? নাকি নিরাপদ ব্যাটিং করে দলের ওপর কেবলই চাপ বাড়াবেন?

সম্পর্কিত