Advertisement Banner

‘নারী ও শিশুরা এখন ঘরেও নিরাপদ নয়’

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘নারী ও শিশুরা এখন ঘরেও নিরাপদ নয়’
ছবি: চরচা

নারী ও শিশুরা এখন ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষায় কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা, মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা, টাঙ্গাইলে শিশু মারিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশু নির্যাতনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে “গভীর মানবিক ও সামাজিক সংকট” হিসেবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এসব সংগঠন।

তারা বলছেন, বিচারহীনতা ও দীর্ঘসূত্রিতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটসহ ১৫৬টি নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “নারী ও শিশুরা এখন ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, গণপরিবহন এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নিরাপদ নয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলো রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

শাহীন আনাম বলেন, “২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যে চার মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭৮ জন নারী ও কন্যাশিশু। এর মধ্যে ৫০টি ছিল দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জনকে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিশ্লেষণে শিশুদের বিরুদ্ধে ১৯৯টি সহিংসতার তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ১১৮টি এবং ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ৪৬টি।”

প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, “বাস্তবে নির্যাতনের সংখ্যা আরও বেশি। লোকলজ্জা, পারিবারিক চাপ, রাজনৈতিক প্রভাব, নিরাপত্তাহীনতা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় অধিকাংশ ঘটনাই প্রকাশ্যে আসে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল বা পরিচিত হওয়ায় পরিবার অভিযোগ করতেও ভয় পায়।”

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে জিনাত আরা হক বলেন, “তদন্তে গাফিলতি, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব, মেডিকেল রিপোর্টে বিলম্ব এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাচ্ছে। ফলে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় ঘটছে।”

ধর্মভিত্তিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে উল্লেখ করে জিনাত আরা হকের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে কার্যকর মনিটরিং ও জবাবদিহিতার ব্যবস্থা না থাকায় ভুক্তভোগীরা নিরাপদভাবে অভিযোগ জানাতে পারছে না।

সম্পর্কিত