Advertisement Banner

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব, কেন সময় চাচ্ছে বিরোধী দল?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব, কেন সময় চাচ্ছে বিরোধী দল?
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ১২ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত আছে জানিয়ে বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম দিতে বলা হয়েছে।

তবে বিরোধী দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, এ বিষয়ে সরকারি দলের সঙ্গে তাদের ‘ধারণাগত পার্থক্য’ আছে। এখনই মত দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরে জানাবেন।

আজ বুধবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে আজকে যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, চায়ের দোকান পর্যন্ত যে সাংবিধানিক চর্চা চলে, সেই সাংবিধানিক চর্চা আমরা এখানেও করতে চাই।”

তিনি বলেন, এ চর্চার অংশ হিসেবেই কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুসারে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি করতে চায় সরকার।

গত ৩১ মার্চ সংসদে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির প্রস্তাব দেন। ওই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপাতের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমান প্রতিনিধিত্ব দাবি করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা ও তর্কবিতর্কের পর জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়। যা স্বাক্ষর হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর।

এরপর জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে গত ১৩ নভেম্বর ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট হয়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের র মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নেয়। তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

এ নিয়ে সংসদের বিতর্ক হয়। সরকারি দল বিদ্যমান পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে। বিরোধী দলীয় জোট গণভোট বাস্তবায়ন চাইছে।

“আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল, এখনো এটা আছে।”

সংসদে আইনমন্ত্রী বুধবার বলেন, “আমরা ১২ জনের নামের তালিকা ঠিক করেছি, যেখানে বিএনপি আছে, যেখানে গণঅধিকার পরিষদ আছে, যেখানে গণসংহতি আছে, যেখানে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিও আছে এবং স্বতন্ত্র সদস্যদেরকেও রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চের এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল ও স্বতন্ত্রদের মধ্য থেকে পাঁচজন রাখা হয়েছে।

এরপর তিনি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “উনাদের পক্ষ থেকে যদি আমি পারসেন্টেজ হিসেবে যাই, ২৬ শতাংশ আসে। সেখানে আমরা উনাদের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম চাচ্ছি।”

আইনমন্ত্রী বলেন, “সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করার জন্য আগামীকাল আমরা চাই, উনাদের পক্ষ থেকে যদি পাঁচজনের নাম দেন, তাহলে আমরা এ কমিটি গঠন করে আমরা সংবিধান সংশোধন এবং জুলাই সনদকে সামনে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।”

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এরপর বিরোধী দলের নেতার উদ্দেশে বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের তালিকা ‘মোর অর লেস প্রস্তুত’ করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চাওয়া হচ্ছে। ওই ১৭ জনকে নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হলে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে যাবে।

জবাবে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে চিফ হুইপ তার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংসদ নেতার সালামও পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি উনাকে বলেছি যে বিষয়টা আমাদের মাঝে একটু আলোচনার বিষয় আছে। কারণ এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স আছে আমাদের।”

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আলোচনা করে জানাব। এটা আজকেই হয়ে যাবে বোধহয় এটা হবে না। এই সেশনটা আমরা এটা মত দিতে পারব না।”

তার ভাষায়, “আমরা চেয়েছি রিফর্ম। আর এখানে হচ্ছে আপনার অ্যামেন্ডমেন্ট। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের ডিফারেন্স ছিল, এখনো এটা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “উনাদের যে প্রস্তাব, উনারা দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। বাট আমরা পরে জানাব। এখন আমরা কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।”

বিরোধী দলের নেতা বক্তব্য শেষ করার পর আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার এ নিয়ে অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছে। তিনি বলেন, “আমাদের এটাতে কোনো অসুবিধা নাই। আমরা অপেক্ষা করব। আমরা সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যাব জুলাই সনদের আলোকে।”

আইনমন্ত্রীর আরও বলেন, “আমাদের এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়, আমাদের পরবর্তী সেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে কোনো অসুবিধা হবে না।”

এরপর ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদের বোঝাপড়া দাঁড়াচ্ছে এই যে, ট্রেজারি বেঞ্চের ১২ সদস্যের প্রস্তুতি আছে এবং বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পাঁচজনের নাম বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। ট্রেজারি বেঞ্চও সে জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

সম্পর্কিত