রয়টার্সের জরিপ
চরচা প্রতিবেদক

অর্থনীতিবিদদের নিয়ে বিশ্বকাপ জরিপ?
যারা মূল্যস্ফীতি, সামস্টিক অর্থনীতির একঘেঁয়ে কচকচানিতে অভ্যস্ত, তারাই হঠাৎ কাগজ–কলম নিয়ে বসে পড়লেন ফুটবল বিশ্লেষণে। এমন অভিনব জরিপটা অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। বিশ্বের নামীমী ১৬০ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে চালানো এই জরিপে বেরিয়ে এসেছে এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীর নাম। অর্থনীতির জটিল তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা এসব অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই মনে করেন এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স।
তাদের সিংহভাগ মনে করেন ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ফ্রান্স জিতে নেবে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
রয়টার্সের এই জরিপ পুলকিত করতে পারে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমকে। তার সামনে যে অমরত্বের হাতছানি! ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন। ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইতিহাসে তখনই ঢুকে গিয়েছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে আবার শিরোপা জিতে অন্য এক ইতিহাসের অধ্যায়ে জায়গা পান। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি দেশম, যিনি অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে কোচ হিসেবেও শিরোপা জিতেছিলেন। বেকেনবাওয়ার ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জার্মানির অধিনায়ক হিসেবে, ১৯৯০ বিশ্বকাপ জেতেন কোচ হিসেবে। রয়টার্সের জরিপ যদি ঠিকঠাক মিলে যায়, তাহলে দেশম বেকেনবাওয়ারকেও ছাড়িয়ে যাবেন। কোচ হিসেবে জিতবেন দুটি বিশ্বকাপ। যে রেকর্ড নেই অন্য আর কারওরই।
রয়টার্সের জরিপে ১৬০ অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই মনে করেন বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স। ৩১ শতাংশ মনে করেন বিশ্বকাপ ট্রফিটা এবার স্পেনের। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিন দেশ—আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।
ব্রাজিল! ব্রাজিল কোথায়! পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার শিরোপা জিততে পারে তেমনটা মনে করেন মাত্র ৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। যেখানে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ৯ শতাংশ অর্থনীতিবিদ, পর্তুগালের পক্ষে ৭ শতাংশ ও ইংল্যান্ডের পক্ষে ৬ শতাংশ। ব্রাজিল সমর্থকেরা যদি এতে হতাশ হন, ক্ষুদ্ধ হন, তাহলে তারা জার্মানির দিকে তাকাতে পারেন। জার্মান সমর্থকদের হতাশার মাত্রা আরও বেশি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। শুধু তা–ই নয় ব্রাজিলকে ‘সবচেয়ে হতাশাজনক ফুটবল পরাশক্তি’ বলছেন অর্থনীতিবিদেরা। একই তকমা জার্মানি ও ইংল্যান্ডের গায়েও পড়ছে।

ফ্রান্সকে কেন অর্থনীতিবিদেরা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, সেটার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন লন্ডনভিত্তিক আর্থক প্রতিষ্ঠান আরবিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি। তিনি মনে করেন ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের ট্র্যাজেডির যে ক্ষত ফ্রান্স বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, সেটি ভুলতে প্রস্তুত ফরাসিরা। দলটি দুর্দান্ত। তাতে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। পিএসজি থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ ফুটবলার দলটাকে শক্তিশালী করেছেন। তারা ফ্রান্স দলের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড মনে করেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে এমবাপ্পেই এবার ‘গোল্ডের বল’ আর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন। এই দুটি পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে এমবাপ্পের কাছাকাছি আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ার গোল্ডেন শু জিতেছেন তিনি । এই দুই তারকার সামনেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১২টি, কেইনের ৮টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) রেকর্ডে চোখ তাদের। এই রেকর্ডে এ মুহূর্তে শ্যেন দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন লিওনেল মেসি (১৩ গোল)।
জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আবার মারাত্মক দেশপ্রেমিক। তারা কোনো যুক্তি–তর্কের ধার না ধেরে নিজ দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে বলে মত দিয়েছেন—এদের মধ্যে একজন জাপানি, একজন মেক্সিকো আর একজন মরক্কোর অর্থনীতিবিদ। ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ এই জরিপে কোনো গাণিতিক হিসাবের মধ্যে যাননি। তারা নিজেদের অনুভূতির কথাই বলেছেন। তবে ২০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন, গাণিতিক মডেল ধরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনীতিবিদদের ২১ শতাংশ এবারের বিশ্বকাপের সেরা ‘আন্ডারডগ’ দল মনে করেছেন আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে। ১৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন বড় আন্ডারডগ জাপান। অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই বিশ্বকাপের উদীয়মান তারকা মনে করছেন স্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালকে। গোলরক্ষক হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয়ের তালিকায় বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদই রেখেছেন ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও স্পেনের উনাই সিমন।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী ফ্রান্স শিরোপা জিতবে—এমনটা ভেবে ফরাসিরা আনন্দ অনুভব করতেই পারেন। তবে ফুটবল বেশিরভাগ সময়ই যে জরিপ মেনে চলে না, সেটা তো চরম সত্য। কোনো গাণিতিক মডেলের শৃঙ্খলে বেঁধে ফুটবলকে বাঁধতে যাওয়া মানে কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যকে অস্বীকার করা। ফুটবল সব সমীকরণকে থোড়াই–কেয়ার করে বলেই, খেলাটা এত সুন্দর। আর বিশ্বকাপ? সে কারণেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।

অর্থনীতিবিদদের নিয়ে বিশ্বকাপ জরিপ?
যারা মূল্যস্ফীতি, সামস্টিক অর্থনীতির একঘেঁয়ে কচকচানিতে অভ্যস্ত, তারাই হঠাৎ কাগজ–কলম নিয়ে বসে পড়লেন ফুটবল বিশ্লেষণে। এমন অভিনব জরিপটা অবশ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। বিশ্বের নামীমী ১৬০ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে চালানো এই জরিপে বেরিয়ে এসেছে এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীর নাম। অর্থনীতির জটিল তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করা এসব অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই মনে করেন এবারের বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স।
তাদের সিংহভাগ মনে করেন ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ফ্রান্স জিতে নেবে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।
রয়টার্সের এই জরিপ পুলকিত করতে পারে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমকে। তার সামনে যে অমরত্বের হাতছানি! ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে শিরোপা জিতেছিলেন। ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইতিহাসে তখনই ঢুকে গিয়েছিলেন। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে আবার শিরোপা জিতে অন্য এক ইতিহাসের অধ্যায়ে জায়গা পান। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি দেশম, যিনি অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে কোচ হিসেবেও শিরোপা জিতেছিলেন। বেকেনবাওয়ার ১৯৭৪ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জার্মানির অধিনায়ক হিসেবে, ১৯৯০ বিশ্বকাপ জেতেন কোচ হিসেবে। রয়টার্সের জরিপ যদি ঠিকঠাক মিলে যায়, তাহলে দেশম বেকেনবাওয়ারকেও ছাড়িয়ে যাবেন। কোচ হিসেবে জিতবেন দুটি বিশ্বকাপ। যে রেকর্ড নেই অন্য আর কারওরই।
রয়টার্সের জরিপে ১৬০ অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই মনে করেন বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স। ৩১ শতাংশ মনে করেন বিশ্বকাপ ট্রফিটা এবার স্পেনের। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিন দেশ—আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।
ব্রাজিল! ব্রাজিল কোথায়! পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার শিরোপা জিততে পারে তেমনটা মনে করেন মাত্র ৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। যেখানে আর্জেন্টিনার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ৯ শতাংশ অর্থনীতিবিদ, পর্তুগালের পক্ষে ৭ শতাংশ ও ইংল্যান্ডের পক্ষে ৬ শতাংশ। ব্রাজিল সমর্থকেরা যদি এতে হতাশ হন, ক্ষুদ্ধ হন, তাহলে তারা জার্মানির দিকে তাকাতে পারেন। জার্মান সমর্থকদের হতাশার মাত্রা আরও বেশি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ। শুধু তা–ই নয় ব্রাজিলকে ‘সবচেয়ে হতাশাজনক ফুটবল পরাশক্তি’ বলছেন অর্থনীতিবিদেরা। একই তকমা জার্মানি ও ইংল্যান্ডের গায়েও পড়ছে।

ফ্রান্সকে কেন অর্থনীতিবিদেরা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, সেটার সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন লন্ডনভিত্তিক আর্থক প্রতিষ্ঠান আরবিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি। তিনি মনে করেন ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালের ট্র্যাজেডির যে ক্ষত ফ্রান্স বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে, সেটি ভুলতে প্রস্তুত ফরাসিরা। দলটি দুর্দান্ত। তাতে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা এক ঝাঁক তারকা ফুটবলার। পিএসজি থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ ফুটবলার দলটাকে শক্তিশালী করেছেন। তারা ফ্রান্স দলের সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড মনে করেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
অর্থনীতিবিদদের মতে এমবাপ্পেই এবার ‘গোল্ডের বল’ আর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার আগে রয়েছেন। এই দুটি পুরস্কার পাওয়ার ব্যাপারে এমবাপ্পের কাছাকাছি আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ার গোল্ডেন শু জিতেছেন তিনি । এই দুই তারকার সামনেই বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১২টি, কেইনের ৮টি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬ গোল) রেকর্ডে চোখ তাদের। এই রেকর্ডে এ মুহূর্তে শ্যেন দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন লিওনেল মেসি (১৩ গোল)।
জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ আবার মারাত্মক দেশপ্রেমিক। তারা কোনো যুক্তি–তর্কের ধার না ধেরে নিজ দেশ চ্যাম্পিয়ন হবে বলে মত দিয়েছেন—এদের মধ্যে একজন জাপানি, একজন মেক্সিকো আর একজন মরক্কোর অর্থনীতিবিদ। ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদ এই জরিপে কোনো গাণিতিক হিসাবের মধ্যে যাননি। তারা নিজেদের অনুভূতির কথাই বলেছেন। তবে ২০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ বিভিন্ন ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন, গাণিতিক মডেল ধরে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

অর্থনীতিবিদদের ২১ শতাংশ এবারের বিশ্বকাপের সেরা ‘আন্ডারডগ’ দল মনে করেছেন আর্লিং হালান্ডের নরওয়েকে। ১৫ শতাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করেন বড় আন্ডারডগ জাপান। অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই বিশ্বকাপের উদীয়মান তারকা মনে করছেন স্পেনের ১৮ বছর বয়সী লামিন ইয়ামালকে। গোলরক্ষক হিসেবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয়ের তালিকায় বেশিরভাগ অর্থনীতিবিদই রেখেছেন ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও স্পেনের উনাই সিমন।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী ফ্রান্স শিরোপা জিতবে—এমনটা ভেবে ফরাসিরা আনন্দ অনুভব করতেই পারেন। তবে ফুটবল বেশিরভাগ সময়ই যে জরিপ মেনে চলে না, সেটা তো চরম সত্য। কোনো গাণিতিক মডেলের শৃঙ্খলে বেঁধে ফুটবলকে বাঁধতে যাওয়া মানে কিন্তু ফুটবলের সৌন্দর্যকে অস্বীকার করা। ফুটবল সব সমীকরণকে থোড়াই–কেয়ার করে বলেই, খেলাটা এত সুন্দর। আর বিশ্বকাপ? সে কারণেই ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’।