চরচা ডেস্ক

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘ সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আজ রোববার একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাকতালীয়ভাবে আজই ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে রোববারের এ চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তিটি সই হওয়ার সাথে সাথেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “উপযুক্ত সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা সেখানে যাব এবং নিউক্লিয়ার ডাস্ট নিয়ে আসব, যা পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে।” ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়াটি যদি সহজভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে ওয়াশিংটনের কাছে চূড়ান্ত বিকল্পও প্রস্তুত রয়েছে।
এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, খুব দ্রুতই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান আজই শান্তি চুক্তির ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।”
মার্কিন ও পাকিস্তানি নেতারা রোববারই একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রূপরেখা চুক্তি সইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তেহরান বলছে ভিন্ন কথা। এছাড়া ইরানের কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীরাও এই চুক্তির বিরোধিতা করছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ইরানি কর্মকর্তারা আজ রোববার চুক্তি সই করা যেকোনো মূল্যে এড়াতে চান, কারণ আজ ট্রাম্পের জন্মদিন। তিনি বলেন, “ইরান এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার সুযোগ পান যে তিনি ইরানের কাছ থেকে একটি জন্মদিনের উপহার পেয়েছেন। কারণ ইরানিদের দৃষ্টিতে ট্রাম্প গুরুতর যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত।”
অধ্যাপক ইজাদি আরও যোগ করেন, চুক্তি হলেও আমেরিকা, ইরান এবং ইসরায়েল কখনোই একে অপরের প্রকৃত বন্ধু হতে পারবে না, যতদিন না ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ইসরায়েলি আধিপত্য বজায় রাখতে চাইবে।
চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হলেও আজই তা সই হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এটি আজ হচ্ছে না।”
এর আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন তারা। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভেতরে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। গত এপ্রিলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। এই সপ্তাহেও দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর দুই দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান দীর্ঘ সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে আজ রোববার একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাকতালীয়ভাবে আজই ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে রোববারের এ চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তিটি সই হওয়ার সাথে সাথেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “উপযুক্ত সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হবে, আমরা সেখানে যাব এবং নিউক্লিয়ার ডাস্ট নিয়ে আসব, যা পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে।” ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই প্রক্রিয়াটি যদি সহজভাবে সম্পন্ন না হয়, তবে ওয়াশিংটনের কাছে চূড়ান্ত বিকল্পও প্রস্তুত রয়েছে।
এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করা পাকিস্তানও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, খুব দ্রুতই একটি চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তান আজই শান্তি চুক্তির ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।”
মার্কিন ও পাকিস্তানি নেতারা রোববারই একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রূপরেখা চুক্তি সইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। তেহরান বলছে ভিন্ন কথা। এছাড়া ইরানের কট্টরপন্থী বিক্ষোভকারীরাও এই চুক্তির বিরোধিতা করছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, ইরানি কর্মকর্তারা আজ রোববার চুক্তি সই করা যেকোনো মূল্যে এড়াতে চান, কারণ আজ ট্রাম্পের জন্মদিন। তিনি বলেন, “ইরান এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় না যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার সুযোগ পান যে তিনি ইরানের কাছ থেকে একটি জন্মদিনের উপহার পেয়েছেন। কারণ ইরানিদের দৃষ্টিতে ট্রাম্প গুরুতর যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত।”
অধ্যাপক ইজাদি আরও যোগ করেন, চুক্তি হলেও আমেরিকা, ইরান এবং ইসরায়েল কখনোই একে অপরের প্রকৃত বন্ধু হতে পারবে না, যতদিন না ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ইসরায়েলি আধিপত্য বজায় রাখতে চাইবে।
চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ইতিবাচক সংকেত দেওয়া হলেও আজই তা সই হচ্ছে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখের জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এটি আজ হচ্ছে না।”
এর আগে গত শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছেন তারা। এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ভেতরে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। গত এপ্রিলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। এই সপ্তাহেও দুই পক্ষ পরস্পরের ওপর দুই দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।