সিলেট প্রতিনিধি

১৯৭৬ সাল থেকে চলে আসছে এই লোকউৎসব। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হলো। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ১১১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বাউল সম্রাট’ শাহ আব্দুল করীমের জন্মস্থান ধল-আশ্রমে লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়াকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করীম। তার বাবার নাম ইব্রাহীম আলী ও মায়ের নাম নাইওরজান। বাংলা সংস্কৃতির ধারায় তিনি আজ এক অনন্য নাম।
তার জন্ম উপলক্ষ্যে উদযাপিত লোকউৎসব না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ আবদুল করীম পরিষদের সভাপতি ও তার ছেলে শাহ-নুরজালাল বলেছেন, “আমাদের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিছু দিন আগে জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, নির্বাচনের পরে লোকউৎসব করতে। ইতিমধ্যে ১৫-১৬ তারিখ হয়ে গেছে। এমন একটি অনুষ্ঠান হুটহাট করা যায় না। সামনে রমজান, তাই এ বছর লোকউৎসব হবে কি না–এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে নিয়ম রক্ষার্থে আব্দুল করীমের শিষ্য-অনুরাগীরা আজ সকালে সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেছেন।”
এ ব্যাপারে শাহ আব্দুল করীম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্রোপদ চৌধুরী নুপুর স্মৃতিচারণ করে ভারাক্রান্ত হয়ে বলেন, “১৯৭৬ সনে আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন শাহ-আব্দুল করীম ১৫ ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়িতে প্রথম লোক উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এর আগে উনার মুর্শিদ মৌল্লা বক্সের বাড়িতে ফাল্পুনের প্রথম রবিবারে বাউল গানের আয়োজন হতো। সেখানে উৎসব শেষ করে করীম সাহেব নিজ বাড়িতে এসে উৎসব করতেন। দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন বাউল গান এবং দ্বিতীয় দিন কীর্তনের আয়োজন করতেন। উনার মৃত্যুর প্রায় ২ যুগ পর কয়েকবছর ধরেই পরম্পরা অনুযায়ী বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি ও স্থানীয়দের সংযোগিতায় ব্যাপক পরিসরে লোকউৎসব উদযাপনের চেষ্টা করছি আমরা। তবে নির্বাচন এবং রমজান মাসের কারণে এ বছর হবে কিনা এখনো নিশ্চয়তা দেখছি না। তবে আজ রাতে শাহ-আব্দুল করীমের শিষ্য ও ভক্ত-আশেকানরা তার সমাধিঘরে বিভিন্ন বাউল-মুর্শিদি গানের আসর করে শ্রদ্ধা জানাবেন।”
উল্লেখ্য ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না, চলে না’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’, ‘মুর্শিদ ধন হে’, ‘সখী কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলায় রে বন্ধু’, ‘আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা’, ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’,‘বসন্ত বাতাসে সইগো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’- বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের এমন শত সহস্র গানগুলো দিনে দিনে বাংলার সংস্কৃতিক পরিচিতির এক অবিছেদ্দ্য সুরের পারম্পরার পরিচায়ক হয়ে উঠছে। তিনি তার জীবদ্দশায় ও মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে একুশে পদক অন্যতম। ২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করীম মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৭৬ সাল থেকে চলে আসছে এই লোকউৎসব। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম হলো। আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি ১১১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বাউল সম্রাট’ শাহ আব্দুল করীমের জন্মস্থান ধল-আশ্রমে লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া না হওয়াকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করীম। তার বাবার নাম ইব্রাহীম আলী ও মায়ের নাম নাইওরজান। বাংলা সংস্কৃতির ধারায় তিনি আজ এক অনন্য নাম।
তার জন্ম উপলক্ষ্যে উদযাপিত লোকউৎসব না হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহ আবদুল করীম পরিষদের সভাপতি ও তার ছেলে শাহ-নুরজালাল বলেছেন, “আমাদের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিছু দিন আগে জেলা প্রশাসক বলেছিলেন, নির্বাচনের পরে লোকউৎসব করতে। ইতিমধ্যে ১৫-১৬ তারিখ হয়ে গেছে। এমন একটি অনুষ্ঠান হুটহাট করা যায় না। সামনে রমজান, তাই এ বছর লোকউৎসব হবে কি না–এখনো নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে নিয়ম রক্ষার্থে আব্দুল করীমের শিষ্য-অনুরাগীরা আজ সকালে সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেছেন।”
এ ব্যাপারে শাহ আব্দুল করীম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্রোপদ চৌধুরী নুপুর স্মৃতিচারণ করে ভারাক্রান্ত হয়ে বলেন, “১৯৭৬ সনে আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন শাহ-আব্দুল করীম ১৫ ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাড়িতে প্রথম লোক উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এর আগে উনার মুর্শিদ মৌল্লা বক্সের বাড়িতে ফাল্পুনের প্রথম রবিবারে বাউল গানের আয়োজন হতো। সেখানে উৎসব শেষ করে করীম সাহেব নিজ বাড়িতে এসে উৎসব করতেন। দুই দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম দিন বাউল গান এবং দ্বিতীয় দিন কীর্তনের আয়োজন করতেন। উনার মৃত্যুর প্রায় ২ যুগ পর কয়েকবছর ধরেই পরম্পরা অনুযায়ী বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি ও স্থানীয়দের সংযোগিতায় ব্যাপক পরিসরে লোকউৎসব উদযাপনের চেষ্টা করছি আমরা। তবে নির্বাচন এবং রমজান মাসের কারণে এ বছর হবে কিনা এখনো নিশ্চয়তা দেখছি না। তবে আজ রাতে শাহ-আব্দুল করীমের শিষ্য ও ভক্ত-আশেকানরা তার সমাধিঘরে বিভিন্ন বাউল-মুর্শিদি গানের আসর করে শ্রদ্ধা জানাবেন।”
উল্লেখ্য ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না, চলে না’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে’, ‘মুর্শিদ ধন হে’, ‘সখী কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলায় রে বন্ধু’, ‘আমি ফুল বন্ধু ফুলের ভ্রমরা’, ‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’,‘বসন্ত বাতাসে সইগো, বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ, আমার বাড়ি আসে সই গো, বসন্ত বাতাসে’- বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের এমন শত সহস্র গানগুলো দিনে দিনে বাংলার সংস্কৃতিক পরিচিতির এক অবিছেদ্দ্য সুরের পারম্পরার পরিচায়ক হয়ে উঠছে। তিনি তার জীবদ্দশায় ও মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় ভাবে বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে একুশে পদক অন্যতম। ২০০৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করীম মৃত্যুবরণ করেন।