চরচা ডেস্ক

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বা প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স-এর মাধ্যমে স্বাধীন–সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কথা ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতা, নৃশংসতা ও গণহত্যার মুখে এটি ছিল এক রাজনৈতিক প্রতিরোধের নাম। নেতৃত্বের প্রাথমিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই ঘোষণাপত্র দেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত পথযাত্রার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার নাটক করছিলেন, তখন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যান্ডেট স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭০ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধু পূর্ব পাকিস্তানেই নয়, পুরো দেশেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে সামরিক জান্তা গণহত্যার নৃশংস পথ বেছে নেয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নৃশংস ও নজিরবিহীন গণহত্যা শুরু করে। যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক আন্দোলন দমন এবং এর নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। সে রাতে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মুখে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন বিপর্যস্ত, তখন এই হত্যাকাণ্ড এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

তবে ছাত্র, জনতা এবং সেনাবাহিনী, ইপিআর ও পুলিশের বাঙালি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ একটি অত্যাবশ্যকীয় গতিবেগ সৃষ্টি করেছিল। গণহত্যার ধাক্কা সামলে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশ সরকার গঠনের এক চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা ছিল মুক্তি সংগ্রাম সংগঠিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। তার অনুপস্থিতি দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ তৈরি করেছিল, যা নেতৃত্বের সমন্বয়কে আরও কঠিন করে তোলে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ২৬ মার্চের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার জন্য একত্রিত করা হয়।
এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ হাল ধরেন। তিনি যখন তার সহযোগী এমএলএ আমীরুল ইসলামসহ দিল্লিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন, তখন তাজউদ্দীন তাকে জানান যে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি ভারত সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
এরপর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র তৈরির দায়িত্ব দেন আমীরুল ইসলামকে। উল্লেখ্য যে, আমীরুল ইসলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের আইন বলবৎকরণ আদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জনগণের ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। সেই অনুযায়ী তিনি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন।

বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছিল ১৯৭০-এর নির্বাচনে, যার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ১৯৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯-এ আইয়ূব খানের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এর মূলে ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের সেই অভিজ্ঞতা, যা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অনেকটা ঔপনিবেশিক সম্পর্কের মতো ছিল। আত্মনিয়ন্ত্রণের এই ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা ১৯৭১ সালের ৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়, যখন পাকিস্তানি জান্তা সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দেয়।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের বৈধ অধিকার পূরণ করা। এতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার জবাবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিরা, যারা জনগণের ম্যান্ডেট ও সর্বোচ্চ ইচ্ছার দ্বারা দায়বদ্ধ, তারা যথাযথভাবে নিজেদের একটি গণপরিষদ হিসেবে গঠন করেন।
এই ঘোষণাপত্রই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন আদায়, যুদ্ধ পরিচালনা, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদান এবং স্বাধীনতার অন্বেষণে জাতির মনোবল অটুট রাখতে সহায়ক হয়েছিল।
১০ এপ্রিল, ১৯৭১, স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে স্বাধীন–সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল—এটা ইতিহাসেরই অংশ।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বা প্রোক্লেমেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্স-এর মাধ্যমে স্বাধীন–সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের কথা ঘোষণা করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বর্বরতা, নৃশংসতা ও গণহত্যার মুখে এটি ছিল এক রাজনৈতিক প্রতিরোধের নাম। নেতৃত্বের প্রাথমিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই ঘোষণাপত্র দেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় এবং স্বাধীনতার চূড়ান্ত পথযাত্রার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর সঙ্গে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার নাটক করছিলেন, তখন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যান্ডেট স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭০ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শুধু পূর্ব পাকিস্তানেই নয়, পুরো দেশেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কিন্তু নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে সামরিক জান্তা গণহত্যার নৃশংস পথ বেছে নেয়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নৃশংস ও নজিরবিহীন গণহত্যা শুরু করে। যার উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক আন্দোলন দমন এবং এর নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। সে রাতে ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার মুখে রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন বিপর্যস্ত, তখন এই হত্যাকাণ্ড এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

তবে ছাত্র, জনতা এবং সেনাবাহিনী, ইপিআর ও পুলিশের বাঙালি সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ একটি অত্যাবশ্যকীয় গতিবেগ সৃষ্টি করেছিল। গণহত্যার ধাক্কা সামলে মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশ সরকার গঠনের এক চূড়ান্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা ছিল মুক্তি সংগ্রাম সংগঠিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে দ্রুত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়া তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না। তার অনুপস্থিতি দলের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অভ্যন্তরীণ বিভেদ তৈরি করেছিল, যা নেতৃত্বের সমন্বয়কে আরও কঠিন করে তোলে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ২৬ মার্চের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আলোচনার জন্য একত্রিত করা হয়।
এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ হাল ধরেন। তিনি যখন তার সহযোগী এমএলএ আমীরুল ইসলামসহ দিল্লিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন, তখন তাজউদ্দীন তাকে জানান যে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে একটি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছে। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতি ভারত সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
এরপর তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতার একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র তৈরির দায়িত্ব দেন আমীরুল ইসলামকে। উল্লেখ্য যে, আমীরুল ইসলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের আইন বলবৎকরণ আদেশে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন যে, স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জনগণের ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ। সেই অনুযায়ী তিনি তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন।

বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়েছিল ১৯৭০-এর নির্বাচনে, যার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ১৯৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯-এ আইয়ূব খানের একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এর মূলে ছিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের সেই অভিজ্ঞতা, যা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে অনেকটা ঔপনিবেশিক সম্পর্কের মতো ছিল। আত্মনিয়ন্ত্রণের এই ক্রমবর্ধমান আকাঙ্ক্ষা ১৯৭১ সালের ৩ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়, যখন পাকিস্তানি জান্তা সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করে দেয়।
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের বৈধ অধিকার পূরণ করা। এতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়। পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার জবাবে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিরা, যারা জনগণের ম্যান্ডেট ও সর্বোচ্চ ইচ্ছার দ্বারা দায়বদ্ধ, তারা যথাযথভাবে নিজেদের একটি গণপরিষদ হিসেবে গঠন করেন।
এই ঘোষণাপত্রই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সমর্থন আদায়, যুদ্ধ পরিচালনা, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদান এবং স্বাধীনতার অন্বেষণে জাতির মনোবল অটুট রাখতে সহায়ক হয়েছিল।
১০ এপ্রিল, ১৯৭১, স্বাধীনতার এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে স্বাধীন–সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল—এটা ইতিহাসেরই অংশ।