চরচা ডেস্ক

এক সময়ের জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে পুরনো সম্প্রচার সেবা ‘লং-ওয়েভ রেডিও’ বন্ধ করে দিচ্ছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। সংবাদ মাধ্যম ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৭ জুন বিবিসি আনুষ্ঠানিকভাবে রেডিও ৪ লং-ওয়েভের সম্প্রচার বন্ধ করে দিচ্ছে।
মূলত প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং পুরোনো প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লং-ওয়েভ বন্ধের এই ঘটনাটিকে ধরা হচ্ছে একটি যুগের অবসান হিসেবে। যা ভবিষ্যতে প্রচলিত টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশন বন্ধের পথকেও দীর্ঘায়িত করছে।
১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডসের একটি ছোট শহর দ্রোতউইচের কাছে বিবিসির সবচেয়ে শক্তিশালী রেডিও ট্রান্সমিটারটি বসানো হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি যোদ্ধাদের গোপন বার্তা পাঠানো থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’ পৌঁছে দেওয়া কাজ ছিল এই রেডিও স্টেশনটির। সবকিছুর সাক্ষী এই ট্রান্সমিটারের ৭০০ ফুট উঁচু দুটি স্টিলের মাস্তুল ছিল।
কিন্তু বর্তমানে এই ট্রান্সমিটারে ব্যবহৃত বিশাল আকারের সিরামিক ও মেটাল ভালভগুলো আর তৈরি হয় না। ফলে এই প্রযুক্তি সচল রাখা অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, ব্রিটেনের পরমাণু সাবমেরিনগুলোয় দেশের অস্তিত্ব টিকে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে লং-ওয়েভে বিবিসির টুডে প্রোগ্রাম শোনে। সামরিক ইতিহাসবিদ জেমস জিংকস বলেন, “এটি কোনো গুজব নয়, বরং সত্যি। তবে বর্তমানে রয়্যাল নেভির কাছে যোগাযোগের আরও আধুনিক মাধ্যম রয়েছে।”
একইভাবে সমুদ্রের জেলেদের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রেও লং-ওয়েভের চেয়ে স্যাটেলাইট ও ভিএইচএফ রেডিও অনেক বেশি কার্যকর ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
লং-ওয়েভ বন্ধের পর এবার নজর পড়ছে টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশনের ওপর। এনডার্স অ্যানালাইসিসের তথ্যমতে, বিবিসি প্রতি বছর প্রচলিত টিভি সম্প্রচারের পেছনে প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে। অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা এই সম্প্রচার তরঙ্গ ৫জি সেবার জন্য ব্যবহার করতে আগ্রহী।
বিবিসি এবং অন্যান্য ব্রিটিশ সম্প্রচারকারীরা আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবায় চলে যেতে চায়।
ইন্টারনেটে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মূল বাধা ইন্টারনেট সংযোগহীন প্রবীণ নাগরিকরা। ২০২৪ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালেও ব্রিটেনের প্রায় ৫ শতাংশ পরিবার বা প্রায় ১৫ লাখ পরিবার কেবল টেরিস্ট্রিয়াল টিভির ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি গ্রিন পেপার প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০৩৪ থেকে ২০৪৪ সালের মধ্যে টেরিস্ট্রিয়াল টিভি সম্পূর্ণ বন্ধ করার একটি সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। লং-ওয়েভ বন্ধের পর ডিজিটাল এই রূপান্তর এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এক সময়ের জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে পুরনো সম্প্রচার সেবা ‘লং-ওয়েভ রেডিও’ বন্ধ করে দিচ্ছে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)। সংবাদ মাধ্যম ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৭ জুন বিবিসি আনুষ্ঠানিকভাবে রেডিও ৪ লং-ওয়েভের সম্প্রচার বন্ধ করে দিচ্ছে।
মূলত প্রযুক্তির আধুনিকায়ন এবং পুরোনো প্রযুক্তি রক্ষণাবেক্ষণের খরচের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লং-ওয়েভ বন্ধের এই ঘটনাটিকে ধরা হচ্ছে একটি যুগের অবসান হিসেবে। যা ভবিষ্যতে প্রচলিত টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশন বন্ধের পথকেও দীর্ঘায়িত করছে।
১৯৩৪ সালে ইংল্যান্ডের মিডল্যান্ডসের একটি ছোট শহর দ্রোতউইচের কাছে বিবিসির সবচেয়ে শক্তিশালী রেডিও ট্রান্সমিটারটি বসানো হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি যোদ্ধাদের গোপন বার্তা পাঠানো থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’ পৌঁছে দেওয়া কাজ ছিল এই রেডিও স্টেশনটির। সবকিছুর সাক্ষী এই ট্রান্সমিটারের ৭০০ ফুট উঁচু দুটি স্টিলের মাস্তুল ছিল।
কিন্তু বর্তমানে এই ট্রান্সমিটারে ব্যবহৃত বিশাল আকারের সিরামিক ও মেটাল ভালভগুলো আর তৈরি হয় না। ফলে এই প্রযুক্তি সচল রাখা অর্থনৈতিকভাবে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত বিশ্বাস ছিল, ব্রিটেনের পরমাণু সাবমেরিনগুলোয় দেশের অস্তিত্ব টিকে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে লং-ওয়েভে বিবিসির টুডে প্রোগ্রাম শোনে। সামরিক ইতিহাসবিদ জেমস জিংকস বলেন, “এটি কোনো গুজব নয়, বরং সত্যি। তবে বর্তমানে রয়্যাল নেভির কাছে যোগাযোগের আরও আধুনিক মাধ্যম রয়েছে।”
একইভাবে সমুদ্রের জেলেদের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রেও লং-ওয়েভের চেয়ে স্যাটেলাইট ও ভিএইচএফ রেডিও অনেক বেশি কার্যকর ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
লং-ওয়েভ বন্ধের পর এবার নজর পড়ছে টেরিস্ট্রিয়াল টেলিভিশনের ওপর। এনডার্স অ্যানালাইসিসের তথ্যমতে, বিবিসি প্রতি বছর প্রচলিত টিভি সম্প্রচারের পেছনে প্রায় ৩৯৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে। অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা এই সম্প্রচার তরঙ্গ ৫জি সেবার জন্য ব্যবহার করতে আগ্রহী।
বিবিসি এবং অন্যান্য ব্রিটিশ সম্প্রচারকারীরা আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ ইন্টারনেট-ভিত্তিক সেবায় চলে যেতে চায়।
ইন্টারনেটে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে মূল বাধা ইন্টারনেট সংযোগহীন প্রবীণ নাগরিকরা। ২০২৪ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০৪০ সালেও ব্রিটেনের প্রায় ৫ শতাংশ পরিবার বা প্রায় ১৫ লাখ পরিবার কেবল টেরিস্ট্রিয়াল টিভির ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার একটি গ্রিন পেপার প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০৩৪ থেকে ২০৪৪ সালের মধ্যে টেরিস্ট্রিয়াল টিভি সম্পূর্ণ বন্ধ করার একটি সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। লং-ওয়েভ বন্ধের পর ডিজিটাল এই রূপান্তর এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।