হাদি হত্যা মামলা: দুই আসামিকে ফেরাতে সোমবার আবেদন করবে বাংলাদেশ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
হাদি হত্যা মামলা: দুই আসামিকে ফেরাতে সোমবার আবেদন করবে বাংলাদেশ
ওসমান হাদি। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনের ভারতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবারই বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে তাদের দুজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করার প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

সিআইডি প্রধান এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. ছিগবাতুল্লাহ চরচাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “পশ্চিমবঙ্গে এসটিএফ দ্বারা দুজনের গ্রেপ্তারের খবরটি সত্য। আমাদের পক্ষ থেকে এসটিএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এটি নিশ্চিত করেছে। প্রধান আসামি ফয়সাল এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর দুজনই গ্রেপ্তার আছে।"

ইতোমধ্যেই তাদের দুজনকে ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে সিআইডি উল্লেখ করে ছিগবাতুল্লাহ জানান, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের ফিরিয়ে আনতে আগামীকাল (সোমবার) আমরা আবেদন করছি। স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই আবেদন করা হবে। আমরা সার্বক্ষণিক পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি খুব দ্রুত দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।”

এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল এবং আলমগীরকে ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে পশ্চিমবঙ্গ আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের সব তথ্য বাংলাদেশ পাবে কিনা, জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, ”আমরা টাইম টু টাইম আপডেট রাখছি এবং সেখানে রিমান্ডে কী তথ্য মিলছে, সবই আমরা জানতে পারব। আমাদের চেষ্টা হলো, দ্রুত তাদের দেশে ফেরানো।”

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় এই দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রেস রিলিজ দেয় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গঠিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট এসটিএফ বা স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সেখানে বলা হয়, “গোপন সূত্র মারফত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ খবর পায় যে, বাংলাদেশের চাঁদাবাজি ও খুনসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ করার পর দুজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বর্তমানে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশি ফিরে যেতে পারে। এই তথ্য পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এসটিএফ একটি অভিযান পরিচালনা করে এবং দুজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। তারা হলেন রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ, বাড়ি পটুয়াখালী। এবং আলমগীর হোসেন, বাড়ি ঢাকায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ঢাকায় ওসমান হাদিকে খুন করে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এযাবৎকাল তারা ভারতের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে ছিল। সুযোগ পেলে তারা আবারও বাংলাদেশে ফেরত যাবে–এমন পরিকল্পনায় সম্প্রতি বনগাঁ এলাকায় আসে। শনিবার রাতে বনগাঁ এলাকা থেকে উভয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে এসটিএফ থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের উপযুক্ত আদালতে পেশ করা হয়েছে। আসামিদের পুলিশি হেফাজতে রেখে তদন্ত চলছে।

সম্পর্কিত