ক্ষমতা নিয়েই যেসব কাজে হাত দিতে পারে বিএনপি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ক্ষমতা নিয়েই যেসব কাজে হাত দিতে পারে বিএনপি
তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আজ শুক্রবার ইসি থেকে বেসরকারিভাবে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ‘জেন-জি’ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গতকাল বৃহস্পতিবারের এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্য দিয়ে ২০ বছর পর ক্ষমতায় আসছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়ী বিএনপি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেকই হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষমতায় গেলে বিএনপি আসলে কোন কোন ইস্যু নিয়ে কাজ করতে চায়? এক প্রতিবেদনে সেসব নিয়ে আলোকপাত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সংস্কার

জুলাই সনদের সকল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। এর লক্ষ্য নতুন সাংবিধানিক সংস্থা গঠন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক পরিবর্তন আনা।

বাণিজ্য

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। আইনত পরিচালিত বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে তাদের নির্ধারিত মুনাফা ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে পাঠাতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

কর্মসংস্থান

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে প্রায় ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য ও মূল্যসূচক-ভিত্তিক মজুরি নিশ্চিত করা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর একটি পর্যালোচনা ব্যবস্থা চালু করা।

তরুণদের মধ্যে কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং সরকারি নিয়োগে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক
তারেক রহমান। ছবি: ফেসবুক

অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (লেনদেন পদ্ধতি) চালু করা, আঞ্চলিক ই-কমার্স হাব স্থাপন করা এবং ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগকে বেগবান করা।

নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা, যার মাধ্যমে মাসিক ভিত্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের সুবিধা প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় পর্যায়ক্রমে মোট জিডিপির (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করা।

সারা দেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা।

সামাজিক

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) কর্মসূচি চালু করা এবং বিদ্যালয়গুলোতে নতুন দক্ষতা ও মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রবর্তন করা। উন্নত ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ সুবিধা তৈরি করা। সকল ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতাদের জন্য প্রশিক্ষণ-ভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি চালু করা।

সম্পর্কিত