কর্নেল (অব.) রাজীব আগরওয়াল

ইসরায়েল ইরানকে একটি ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ বলে দাবি করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে, ইরানের দ্রুত বর্ধনশীল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য একটি ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’। এজন্য উভয় দেশ ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি আগাম বিমান হামলা শুরু করে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এবং সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত গোয়েন্দা অভিযানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্টতই, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য।
এই অভিযান কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেবে, তার পুরো রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ছিন্নভিন্ন করবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে শাসন পরিবর্তন ঘটাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে গত চার দিনে যা দেখা গেছে তা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে এবং আমেরিকান ও ইসরায়েলি জেনারেলদের সবচেয়ে কল্পনাতীত হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইরানের পাল্টা আক্রমণ ছিল লক্ষ্যভিত্তিক ও তীব্র, তার সামনে যে শক্তিধর বাহিনী রয়েছে তা উপেক্ষা করেই।
তার সর্বোচ্চ নেতা এবং ৪০-এর বেশি শীর্ষ জেনারেলের মৃত্যু তাকে নিরুৎসাহিত করেনি; বরং পাল্টা লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান নিরাপত্তা বলয়ের ভঙ্গুরতা আজ স্পষ্ট; প্রবল চাপে বিপর্যস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন সংখ্যাগত দিক থেকেও পিছিয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, তড়িঘড়ি করে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলো খালি করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যে বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় হবে, তা অচিরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
কম খরচেই জয়?
ইরান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অসম লড়াই লড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও প্রাণঘাতী সামরিক শক্তির মুখোমুখি ইরান। দু পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক সক্ষমতার তুলনা চলে না। তবে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের একটি মূল্য রয়েছে।
এই যুদ্ধ মূলত স্ট্যান্ড-অব অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম– যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান– ব্যবহার করে লড়াই হচ্ছে। খরচের তুলনা তাৎপর্যপূর্ণ। কিছু হিসাব বলছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। প্রথম তিন দিনে মোট ব্যয় আনুমানিক ১.২৪ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের তুলনায় এই খরচ হয়তো সামান্য মনে হতে পারে। তবে এখানে মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক হলো 'অস্ত্রের ব্যয়-অনুপাত'। ইরান যে সাশ্রয়ী বা স্বল্পমূল্যের অস্ত্রগুলো ছুড়ছে, তা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে যে পরিমাণ উচ্চমূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেটিই এখন বড় মাথাব্যথার কারণ।

আমেরিকান প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রতিটি ১ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গড় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য মাত্র ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার। একইভাবে, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ মিলিয়ন বা তিন কোটি ডলার, যেখানে ইরানের শাহেদ ড্রোনের দাম মাত্র ৩০-৫০ হাজার ডলার।
খরচের এই বিশাল বৈষম্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিগুণ সমস্যার সৃষ্টি করছে। প্রথমত, অত্যাধিক ব্যয়; দ্বিতীয়ত, বছরে সীমিত সংখ্যায় উৎপাদন হওয়ায় এসব অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক প্রয়োজন হলে প্রতিস্থাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে ফেলবে?
চলমান যুদ্ধে, মাত্র চার দিনের লড়াইয়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আনুমানিক ৬০০-৮০০। এছাড়া, ইরান থেকে আসা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে চার থেকে ছয়টি ইন্টারসেপ্টর ছোঁড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫০-২০০ ইন্টারসেপ্টর ছোঁড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরবর্তী চার থেকে সাত দিনের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যেতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াতে ওয়াশিংটন এখন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা মাত্র ৬০০ থেকে ৬৫০টি, যা এই যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। কারণ, বর্তমান সংঘাতের তীব্রতায় প্রতি সপ্তাহেই প্রায় ২৫০ থেকে ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ছে।
ইরান এটি জানে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছে। তার বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে, যার অনেকগুলো পাহাড়ের গভীরে ভূগর্ভস্থ সাইলোতে সুরক্ষিতভাবে রাখা– যেখানে আমেরিকান বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পৌঁছাতে পারে না। কিছু অনুমান অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ হাজার; তার ড্রোনও হাজারের ঘরে।
নিজেদের 'অসম যুদ্ধ' বা অ্যাসিম্যাট্রিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইরান এখন পুরনো ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এক সমন্বিত কৌশলে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি ও আমেরিকান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত ও পরিশ্রান্ত করে তোলা। ইরান এই আত্মবিশ্বাস থেকেই এগোচ্ছে যে, তাদের অস্ত্রের বিশাল মজুত অন্তত কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধের তীব্রতা বজায় রাখতে সক্ষম।
তাছাড়া, প্রতি মাসে ইরান ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা আগামী মাসগুলোতে মজুত পূরণে যথেষ্ট। ব্যয় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাপ্যতার দিক থেকে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মানবিক মূল্য
যেকোনো যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণে সেনাসদস্যদের প্রাণহানি বা 'বডি ব্যাগ'-এর সংখ্যা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফ্যাক্টর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, দূরদেশের যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়। যুদ্ধের মাত্র তৃতীয় দিনেই সেই হতাশার প্রাথমিক ছাপ ফুটে উঠেছে। গত ২ মার্চের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব তিনজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'মেডেল অব অনার' প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেছেন।

আরও বহু হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে– বিশেষ করে যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মার্কিন দূতাবাস, ঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো এবং এমনকি সরিয়ে নেওয়া সেনারা যে হোটেলে অবস্থান করছে সেগুলোতেও আঘাত হানছে। এটি শিগগিরই এমন ক্ষতিতে পরিণত হতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর বহন করতে পারবেন না।
ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম, যদিও তারা ‘অস্তিত্বগত হুমকি’র মুখোমুখি হওয়ার কারণে নিজ দেশের জনগণের কাছে উচ্চতর সহনসীমার দাবি করতে পারে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ঝুঁকি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু– উভয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে ক্রমহ্রাসমান অনুমোদন রেটিংয়ের সঙ্গে লড়ছেন। তার মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) সমর্থকভিত্তি কোনোমতে টিকে আছে। একতরফা শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায় ও অ্যাপস্টিন ফাইলস থেকে সৃষ্ট কেলেঙ্কারি তাকে ইতিমধ্যে চাপে ফেলেছে। তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত মনোযোগ সরানো এবং বছরের শেষে মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারকে শক্তিশালী করার একটা প্রচেষ্টা।
একইভাবে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুরও বছরের শেষে নির্বাচন রয়েছে। গাজা যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত থাকায় তার ডানপন্থী মিত্ররা তাকে গাজায় স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও দুর্নীতির মামলাগুলো তাকে আইনি জটিলতায় ফেলেছে। আসলে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালায়– সেদিন তার আদালতে শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, যা পরে স্থগিত করা হয়। গত বছর অ্যাটর্নি জেনারেল ও শিন বেত প্রধানকে বরখাস্ত করার পদক্ষেপও প্রতিবাদ ও বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের কম কিছু তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরান এটি জানে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত রাখতে আগ্রহী, যাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সময় ও ব্যয় বাড়ে।
সুনাম ঝুঁকিতে
দশকের পর দশক উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকান নিরাপত্তা গ্যারান্টির মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা কিনেছিল। এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া ছিল বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বলয়ের অংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা আশ্বাস দ্বিগুণ করে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা-বুদবুদ এখন ফেটে গেছে।
প্রায় সব উপসাগরীয় দেশই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা বলয় অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কারণ বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, দোহায় বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের অন্যান্য ঘাঁটি, এবং রিয়াদ ও কুয়েতে দূতাবাস ও কনস্যুলেট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে।
এমনকি সবচেয়ে নিরপেক্ষ দেশ ওমান, যারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী– তারাও রক্ষা পায়নি। হোটেল ও বন্দরগুলোও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকান নিরাপত্তা নিয়ে মিথ ভেঙে পড়েছে। দশকের পর দশক গড়ে ওঠা সুনাম চূর্ণ হয়েছে। ইরান এটি জানত এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ব্যয় চাপাতে পারে তা-ও জানত। অতএব, সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত করার সিদ্ধান্তটি ছিল সুচিন্তিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয় ও সুনামের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
অপ্রত্যাশিত ফলাফল
সংঘাত এখনো প্রথম সপ্তাহে, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ও আগে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অবিরাম বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতার হত্যা এবং ৪০-এর বেশি শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে ক্ষতবিক্ষত ইরান নতজানু হতে বা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেছে।
বরং ইরান এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যা শুধু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো অঞ্চলকেই বিস্মিত করেনি, বরং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন চাপ বাড়াচ্ছে যা অচিরেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং চিন্তন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরামর্শক
(লেখাটি এনডিটিভি ডট কমের সৌজন্যে প্রকাশিত)

ইসরায়েল ইরানকে একটি ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ বলে দাবি করেছিল। আর যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল যে, ইরানের দ্রুত বর্ধনশীল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মার্কিন মূল ভূখণ্ডের জন্য একটি ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’। এজন্য উভয় দেশ ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি আগাম বিমান হামলা শুরু করে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এবং সুপরিকল্পিত ও বাস্তবায়িত গোয়েন্দা অভিযানে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্পষ্টতই, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যাই ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্য।
এই অভিযান কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেবে, তার পুরো রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ছিন্নভিন্ন করবে এবং অল্প সময়ের মধ্যে শাসন পরিবর্তন ঘটাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তবে গত চার দিনে যা দেখা গেছে তা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে এবং আমেরিকান ও ইসরায়েলি জেনারেলদের সবচেয়ে কল্পনাতীত হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইরানের পাল্টা আক্রমণ ছিল লক্ষ্যভিত্তিক ও তীব্র, তার সামনে যে শক্তিধর বাহিনী রয়েছে তা উপেক্ষা করেই।
তার সর্বোচ্চ নেতা এবং ৪০-এর বেশি শীর্ষ জেনারেলের মৃত্যু তাকে নিরুৎসাহিত করেনি; বরং পাল্টা লড়াইয়ের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকান নিরাপত্তা বলয়ের ভঙ্গুরতা আজ স্পষ্ট; প্রবল চাপে বিপর্যস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন সংখ্যাগত দিক থেকেও পিছিয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, তড়িঘড়ি করে মার্কিন ঘাঁটি ও দূতাবাসগুলো খালি করা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যে বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় হবে, তা অচিরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
কম খরচেই জয়?
ইরান ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অসম লড়াই লড়ছে। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও প্রাণঘাতী সামরিক শক্তির মুখোমুখি ইরান। দু পক্ষের মধ্যে সরাসরি সামরিক সক্ষমতার তুলনা চলে না। তবে সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের একটি মূল্য রয়েছে।
এই যুদ্ধ মূলত স্ট্যান্ড-অব অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম– যেমন ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান– ব্যবহার করে লড়াই হচ্ছে। খরচের তুলনা তাৎপর্যপূর্ণ। কিছু হিসাব বলছে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। প্রথম তিন দিনে মোট ব্যয় আনুমানিক ১.২৪ বিলিয়ন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সামরিক বাজেটের তুলনায় এই খরচ হয়তো সামান্য মনে হতে পারে। তবে এখানে মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক হলো 'অস্ত্রের ব্যয়-অনুপাত'। ইরান যে সাশ্রয়ী বা স্বল্পমূল্যের অস্ত্রগুলো ছুড়ছে, তা প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে যে পরিমাণ উচ্চমূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, সেটিই এখন বড় মাথাব্যথার কারণ।

আমেরিকান প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রতিটি ১ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গড় একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য মাত্র ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ডলার। একইভাবে, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ মিলিয়ন বা তিন কোটি ডলার, যেখানে ইরানের শাহেদ ড্রোনের দাম মাত্র ৩০-৫০ হাজার ডলার।
খরচের এই বিশাল বৈষম্য ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্বিগুণ সমস্যার সৃষ্টি করছে। প্রথমত, অত্যাধিক ব্যয়; দ্বিতীয়ত, বছরে সীমিত সংখ্যায় উৎপাদন হওয়ায় এসব অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক প্রয়োজন হলে প্রতিস্থাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে ফেলবে?
চলমান যুদ্ধে, মাত্র চার দিনের লড়াইয়েই আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আনুমানিক ৬০০-৮০০। এছাড়া, ইরান থেকে আসা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে চার থেকে ছয়টি ইন্টারসেপ্টর ছোঁড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৫০-২০০ ইন্টারসেপ্টর ছোঁড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে পরবর্তী চার থেকে সাত দিনের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে যেতে পারে।
খবরে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বাড়াতে ওয়াশিংটন এখন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে যুদ্ধ আরও তীব্র হলে ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রেও ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা মাত্র ৬০০ থেকে ৬৫০টি, যা এই যুদ্ধের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। কারণ, বর্তমান সংঘাতের তীব্রতায় প্রতি সপ্তাহেই প্রায় ২৫০ থেকে ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন পড়ছে।
ইরান এটি জানে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছে। তার বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে, যার অনেকগুলো পাহাড়ের গভীরে ভূগর্ভস্থ সাইলোতে সুরক্ষিতভাবে রাখা– যেখানে আমেরিকান বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পৌঁছাতে পারে না। কিছু অনুমান অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ হাজার; তার ড্রোনও হাজারের ঘরে।
নিজেদের 'অসম যুদ্ধ' বা অ্যাসিম্যাট্রিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইরান এখন পুরনো ও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এক সমন্বিত কৌশলে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালাচ্ছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি ও আমেরিকান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত ও পরিশ্রান্ত করে তোলা। ইরান এই আত্মবিশ্বাস থেকেই এগোচ্ছে যে, তাদের অস্ত্রের বিশাল মজুত অন্তত কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে এই যুদ্ধের তীব্রতা বজায় রাখতে সক্ষম।
তাছাড়া, প্রতি মাসে ইরান ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে, যা আগামী মাসগুলোতে মজুত পূরণে যথেষ্ট। ব্যয় ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রাপ্যতার দিক থেকে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মানবিক মূল্য
যেকোনো যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণে সেনাসদস্যদের প্রাণহানি বা 'বডি ব্যাগ'-এর সংখ্যা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফ্যাক্টর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরই মধ্যে চলমান সংঘাতের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, দূরদেশের যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফেরা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি অগ্রহণযোগ্য বিষয়। যুদ্ধের মাত্র তৃতীয় দিনেই সেই হতাশার প্রাথমিক ছাপ ফুটে উঠেছে। গত ২ মার্চের ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা সচিব তিনজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন এবং নিহতদের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'মেডেল অব অনার' প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেছেন।

আরও বহু হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে– বিশেষ করে যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মার্কিন দূতাবাস, ঘাঁটি, গোলাবারুদ ডিপো এবং এমনকি সরিয়ে নেওয়া সেনারা যে হোটেলে অবস্থান করছে সেগুলোতেও আঘাত হানছে। এটি শিগগিরই এমন ক্ষতিতে পরিণত হতে পারে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর বহন করতে পারবেন না।
ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম, যদিও তারা ‘অস্তিত্বগত হুমকি’র মুখোমুখি হওয়ার কারণে নিজ দেশের জনগণের কাছে উচ্চতর সহনসীমার দাবি করতে পারে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ঝুঁকি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু– উভয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এই যুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের বছরে ক্রমহ্রাসমান অনুমোদন রেটিংয়ের সঙ্গে লড়ছেন। তার মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) সমর্থকভিত্তি কোনোমতে টিকে আছে। একতরফা শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের রায় ও অ্যাপস্টিন ফাইলস থেকে সৃষ্ট কেলেঙ্কারি তাকে ইতিমধ্যে চাপে ফেলেছে। তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত মনোযোগ সরানো এবং বছরের শেষে মধ্যবর্তী নির্বাচনী প্রচারকে শক্তিশালী করার একটা প্রচেষ্টা।
একইভাবে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুরও বছরের শেষে নির্বাচন রয়েছে। গাজা যুদ্ধ এখনো অমীমাংসিত থাকায় তার ডানপন্থী মিত্ররা তাকে গাজায় স্থল অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছে। বিতর্কিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও দুর্নীতির মামলাগুলো তাকে আইনি জটিলতায় ফেলেছে। আসলে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালায়– সেদিন তার আদালতে শুনানিতে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, যা পরে স্থগিত করা হয়। গত বছর অ্যাটর্নি জেনারেল ও শিন বেত প্রধানকে বরখাস্ত করার পদক্ষেপও প্রতিবাদ ও বিরোধিতার মুখে পড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের কম কিছু তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ইরান এটি জানে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত রাখতে আগ্রহী, যাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সময় ও ব্যয় বাড়ে।
সুনাম ঝুঁকিতে
দশকের পর দশক উপসাগরীয় দেশগুলো আমেরিকান নিরাপত্তা গ্যারান্টির মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা কিনেছিল। এ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া ছিল বহিরাগত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বলয়ের অংশ। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ইসরায়েল কাতারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় দেশগুলোকে কঠোর নিরাপত্তা আশ্বাস দ্বিগুণ করে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা-বুদবুদ এখন ফেটে গেছে।
প্রায় সব উপসাগরীয় দেশই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। মার্কিন নিরাপত্তা বলয় অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কারণ বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, দোহায় বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, কুয়েত, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের অন্যান্য ঘাঁটি, এবং রিয়াদ ও কুয়েতে দূতাবাস ও কনস্যুলেট ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে।
এমনকি সবচেয়ে নিরপেক্ষ দেশ ওমান, যারা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী– তারাও রক্ষা পায়নি। হোটেল ও বন্দরগুলোও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকান নিরাপত্তা নিয়ে মিথ ভেঙে পড়েছে। দশকের পর দশক গড়ে ওঠা সুনাম চূর্ণ হয়েছে। ইরান এটি জানত এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যে ব্যয় চাপাতে পারে তা-ও জানত। অতএব, সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত করার সিদ্ধান্তটি ছিল সুচিন্তিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয় ও সুনামের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
অপ্রত্যাশিত ফলাফল
সংঘাত এখনো প্রথম সপ্তাহে, কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত ও আগে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। অবিরাম বিমান হামলা, সর্বোচ্চ নেতার হত্যা এবং ৪০-এর বেশি শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে ক্ষতবিক্ষত ইরান নতজানু হতে বা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেছে।
বরং ইরান এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যা শুধু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং পুরো অঞ্চলকেই বিস্মিত করেনি, বরং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এমন চাপ বাড়াচ্ছে যা অচিরেই অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।
লেখক: একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা এবং চিন্তন রিসার্চ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরামর্শক
(লেখাটি এনডিটিভি ডট কমের সৌজন্যে প্রকাশিত)