শিশু নির্যাতন: দায় স্বীকার করে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর জবানবন্দি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শিশু নির্যাতন: দায় স্বীকার করে বিমানের সাবেক এমডির স্ত্রীর জবানবন্দি

রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া গৃহশিশু মোহনা নির্যাতন মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ শনিবার সাত দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইলের আদালতে হাজির করলে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে জানানো হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বিথী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

হাইকোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিতে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। মামলার স্বার্থে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা প্রয়োজন উল্লেখ করে আসামিকে জেলহাজতে রাখার আবেদনের কথাও উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে আদালত শফিকুর রহমান ও দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমের পাঁচ দিন এবং বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইতোমধ্যে গৃহকর্মী সুফিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে শফিকুর রহমান জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১১ বছরের শিশু মোহনাকে ‘বিয়েসহ যাবতীয় দায়িত্ব নেবে’ এমন আশ্বাসে কাজের জন্য তাদের বাসায় পাঠানো হয়। গত ২ নভেম্বর বাবার সঙ্গে দেখা করার পর আর তাকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে গত ৩১ জানুয়ারি শিশুটিকে ’অসুস্থ’ জানিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পেয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বাবা।

জিজ্ঞাসাবাদে শিশু জানায়, শফিকুর রহমান, বিথী এবং বাসার অন্যরা নিয়মিত মারধর ও খুন্তির গরম ছ্যাঁকা দিয়ে তাকে নির্যাতন করত। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

সম্পর্কিত