Advertisement Banner

বাঙ্কার বাস্টার বোমা কী, কতটা মারাত্মক?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাঙ্কার বাস্টার বোমা কী, কতটা মারাত্মক?
ইরানের ইসফাহানে বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলেছে আমেরিকা। ছবি: সংগৃহীত

গত ৩০ মার্চ রাতে ইরানে ইসফাহান শহরে আবার বাঙ্কার বাস্টার বোমা হামলা করেছে আমেরিকা। এ ঘটনার ভিডিও এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে চলতি মাসের ১৭ মার্চ ইরানে আরেক দফা বাঙ্কার বাস্টার নিক্ষেপ করেছিল ওয়াশিংটন। ২০২৫ এর জুন মাসেও ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ এবং ইসফাহানে অবস্থিত পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাতে এই বিশেষ ধরনের বোমা ব্যবহার করেছিল আমেরিকা। ফোরদো এবং নাতাঞ্জ লক্ষ্য করে এক ডজনেরও বেশি বাঙ্কার বাস্টার বোমা ফেলেছিল। কিন্তু এই বাঙ্কার বাস্টার কী? এই বোমা কতটা মারাত্নক?

বাঙ্কার বাস্টার হলো এমন এক বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বোমা, যা মাটির অনেক গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু বা অত্যন্ত পুরু কংক্রিটের তৈরি সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সাধারণ বোমা যেখানে মাটির উপরিভাগে আঘাত করেই বিস্ফোরিত হয়, সেখানে বাঙ্কার বাস্টার প্রথমে মাটি বা কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে ঢোকে এবং তারপর বিস্ফোরিত হয়।

বাঙ্কার বাস্টার বোমার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর ডিলেড ফিউজ এবং অত্যন্ত শক্ত কাঠামো। এটি মূলত দুটি ধাপে কাজ করে:

পেনিট্রেশন (ভেদ করা): বোমার বহিরাবরণ অত্যন্ত শক্ত ইস্পাত দিয়ে তৈরি। এটি যখন ওপর থেকে ফেলা হয়, তখন এর প্রচণ্ড গতিবেগ এবং ওজনের কারণে এটি কয়েক ফুট পুরু কংক্রিট বা কয়েক দশ ফুট মাটি ভেদ করে ভেতরে ঢুকে যায়।

বিস্ফোরণ: সাধারণ বোমা আঘাতের সাথে সাথেই বিস্ফোরিত হয়। কিন্তু বাঙ্কার বাস্টারের ফিউজ এমনভাবে সেট করা থাকে যে, এটি লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট গভীরে পৌঁছানোর পর তবেই বিস্ফোরিত হয়। এতে ভেতরের কম্পন এবং শকওয়েভের ফলে পুরো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ধসে পড়ে।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ব্যবহৃত জিবিইউ-৭২ বোমাটি এই নতুন প্রজন্মের ‘পেনিট্রেটর বোমার’ অংশ। প্রতিটি প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বোমাগুলো বি-২ বোমারু বিমান ছাড়াও সাধারণ যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপ করা হয়।

কিছু বাঙ্কার বাস্টারে ব্যবহার করা হয়েছে স্মার্ট ফিউজ প্রযুক্তি। এর ফলে বোমাটি কতগুলো ফ্লোর বা কতটুকু ঘনত্ব অতিক্রম করল, তা গণনা করতে পারে। কোনো কোনোটিতে মাইক্রোফোনও লাগানো থাকে, যা মানুষের কণ্ঠস্বর শুনলে তবেই বিস্ফোরণ ঘটায়।

পারমাণবিক স্থাপনা, কমান্ড সেন্টার, অস্ত্রাগার বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতাদের গোপন আস্তানা সাধারণত মাটির গভীরে বা পাহাড়ের গুহায় তৈরি করা হয়। সাধারণ আকাশপথের হামলায় এসব স্থানপনয়ার কোনো ক্ষতি হয় না। এসব সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতেই বাঙ্কার বাস্টার ব্যবহার করা হয়।

বাঙ্কার বাস্টার একদম নতুন কোনো প্রযুক্তি নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকেই এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। যেমন, বিএলইউ-১০৯ বাঙ্কার ব্লাস্টার মার্কিন বাহিনীতে যুক্ত হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো পাহাড়ি এবং দুর্গম অঞ্চলে যুদ্ধের সময় এসব নিখুঁত নিশানার বোমার প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়।

ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র এই বোমা প্রযুক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে। গত বছর হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর ওপর হামলার সময় ইসরায়েল কয়েক ডজন বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক থিংক ট্যাংক ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অফ ডেমোক্রেসিস’এর বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রোবস্ট মার্কিন সম্প্রচার মাধ্যম এনপিআর-কে জানান, এই বোমাগুলোতে বিস্ফোরকের পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও এর মজবুত আবরণ একে ড্রিলের মতো মাটির গভীরে ঢুকে গিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সাহায্য করে।

তথ্যসূত্র: দ্য কনভারসেশন, এনডিটিভি, ব্রিট্যানিকা

সম্পর্কিত