Advertisement Banner

ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ফ্লাইওভারে ছাত্রলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ, পুলিশের দাবি আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নগরীর আকবর শাহ থানা কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাবেক কয়েকজন নেতা। তবে পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বিএসআরএম ডিপো সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত ১টা ১৬ মিনিটে কাউসার ফ্লাইওভারে ওঠেন। পরে রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি মাফলার দিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।

কাউসার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।বিএসআরএম কারখানায় খণ্ডকালীন পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। চাকরির সুবাদে তিনি চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আকবর শাহ এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো।

পুলিশ তার নাম আবু কাউসার উল্লেখ করলেও ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে কাউসার আহমেদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক কয়েকজন নেতা মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে দাবি করেন, কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তারা তাকে আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বলেও দাবি করেন।

তবে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার বলেন, নিহত যুবক বিএসআরএম কারখানায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ওসি আরও বলেন, “হত্যার অভিযোগ সঠিক নয়। কাউসারের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। এরপরও আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না।”

সম্পর্কিত